খুলনা | শুক্রবার | ১৯ অক্টোবর ২০১৮ | ৪ কার্তিক ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

তৃণমূলে কৌতূহল

প্যানা-পোস্টারে খুলনার ৬টি আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের জমজমাট প্রচারণা

আশরাফুল ইসলাম নূর | প্রকাশিত ০২ অক্টোবর, ২০১৮ ০১:৩০:০০


আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরিবেশ-পরিস্থিতি ও সব দলের অংশগ্রহণ সম্পর্কে তৃণমূল জনগোষ্ঠীর কৌতূহলের অন্ত নেই। অতি উৎসাহী সম্ভাব্য প্রার্থী ও তাদের অনুসারীরা ইতোমধ্যে নির্বাচনীয় এলাকায় প্যানা-পোস্টার সেটে দিয়েছেন। প্রার্থীদের বেড়েছে সামাজিক কর্মকান্ড, চলছে আগাম প্রচার-প্রচারণা। কৌতূহলী জনতার প্রশ্ন, ‘নির্বাচনের আর কত দূর? এখনি দেখছি প্যানা-পোস্টারে ভরপুর।” আবার, প্যানা ছিঁড়ে ফেলারও অভিযোগ উঠছে বিরোধী দল-মতের সম্ভাব্য প্রার্থীদের।
সরেজমিনে দেখা গেছে, শহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্যানা সাইনে নির্বাচনীয় দৃশ্যপট ফুটে উঠছে। নতুন নতুন প্রার্থীদের আবির্ভাব জানান দিচ্ছে প্যানায়। বেড়েছে সম্ভাব্য প্রার্থীদের সামাজিক সম্প্রীতি ও কর্মকান্ড। খুলনা-১ আসনে (বটিয়াঘাটা-দাকোপ) আসন্ন নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য ও জেলা আ’লীগের সহ-সভাপতি পঞ্চানন বিশ্বাস, সাবেক সংসদ সদস্য ননী গোপাল মন্ডল, জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক আমির এজাজ খান, দাকোপ উপজেলা চেয়ারম্যান শেখ আবুল হোসেন ও বটিয়াঘাটা উপজেলা চেয়ারম্যান আশরাফুল আলম খান ও জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সুনীল শুভ রায়, খুলনা-২ আসনে (সদর-সোনাডাঙ্গা) নগর আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য মুহাম্মদ মিজানুর রহমান, বঙ্গবন্ধুর ভ্রাতুষ্পুত্র শেখ সালাউদ্দিন জুয়েল, বিএনপি’র কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম মঞ্জু এবং কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলী আসগার লবী, খুলনা-৩ আসনে (দৌলতপুর-খালিশপুর-খানজাহান আলী) বর্তমান সংসদ সদস্য বেগম মন্নুজান সুফিয়ান, আ’লীগের কেন্দ্রীয় নেতা এস এম কামাল হোসেন, বিএনপি’র সাবেক সংসদ সদস্য কাজী সেকেন্দার আলী ডালিম, নগর যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ এসএম আরিফুর রহমান মিঠু এবং ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাবেক সহ-সভাপতি রাকিবুল ইসলাম বকুল, জাতীয় পার্টি-জেপি’র ভাইস-চেয়ারম্যান শরীফ শফিকুল হামিদ চন্দন, জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি শফিকুল ইসলাম মধু, খুলনা-৪ আসনে (রূপসা-তেরখাদা-দিঘলিয়া) নব-নির্বাচিত সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম মুর্শেদী, জেলা আ’লীগের সিনিয়র সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ কামরুজ্জামান জামাল ও সাবেক সংসদ সদস্য মোল্লা জালাল উদ্দিন, বিএনপি’র কেন্দ্রীয় তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক শরীফ শাহ কামাল তাজ এবং তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল, খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমীর মাওলানা সাখাওয়াত হোসেন, খুলনা-৫ আসনে (ফুলতলা-ডুমুরিয়া) ডুমুরিয়া উপজেলা সভাপতি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ এমপি, জেলা বঙ্গবন্ধু পরিষদের সহ-সভাপতি অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. এম মাহাবুব উল ইসলাম, আ’লীগের কেন্দ্রীয় নেতা নূরুল ইসলাম বাদশা, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, বিএনপি নেতা সাবেক সংসদ সদস্য ডাঃ গাজী আবদুল হক ও ড. মামুন রহমান, খুলনা-৬ আসনে (কয়রা-পাইকগাছা) প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান, বর্তমান সংসদ সদস্য এড. নূরুল হক, সাবেক এমপি এড. সোহরাব আলী সানা, জেলা বিএনপি’র সভাপতি এড. শফিকুল আলম মনা, চুয়েট ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার প্রেমকুমার মন্ডল ও জেলা আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আক্তারুজ্জামান বাবু, নগর জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা আবুল কালাম আজাদ ও জেলা জাপা’র সিনিয়র সহ-সভাপতি মোস্তফা কামাল জাহাঙ্গীর। সম্ভাব্য এসব প্রার্থীরা ইতিমধ্যে তাদের অনুসারীদের মাধ্যমে নির্বাচনীয় এলাকায় প্যানা-পোস্টার টানিয়েছেন।
সূত্রমতে, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ ও তার প্রেস সচিব সুনীল শুভ রায়ের প্যানা-ব্যানার খুলে ও ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ রয়েছে। গত ২৭ সেপ্টেম্বর বটিয়াঘাটা থানায় লিখিত অভিযোগ করেন উপজেলা জাতীয় ছাত্র সমাজের সভাপতি মোঃ শাওন হাওলাদার। বটিয়াঘাটা থানার ওসি মোঃ মাহবুবুর রহমান বলেন, “অভিযোগটি আমলে নিয়ে এস আই আসাদুজ্জামানকে তদন্তভার দেয়া হয়েছে। আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।”
শুধু জাতীয় পার্টি নয়; অনুরূপ অভিযোগ রয়েছে বিএনপি’রও। নগরীর খালিশপুর ও দৌলতপুরে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাবেক সহ-সভাপতি রাকিবুল ইসলাম বকুলের প্যানা ব্যানার ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ করেছিল বিএনপি। প্যানা ছিঁড়ে ফেলা এলাকায় গিয়ে স্থানীয়দের সাথে আলাপ-আলোচনা করলে ভিন্ন তথ্যও পাওয়া যায়। তারা পাল্টা প্রশ্ন করছেন, “নির্বাচনের আর কত দূর? এখনি দেখছি প্যানা-পোস্টারে ভরপুর।”
এ দিকে মহানগরী থেকে সকল প্রকার প্যানা, ব্যানার, ফেস্টুন এবং প্যানা সম্বলিত গেট অপসারণে একাধিকবার আহ্বান জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন আ’লীগ নেতৃবৃন্দ। সরেজমিনে ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীদের প্যানা-ফেস্টুন ও গেট-ই দেখা মেলে। তার আগে, গেল বছর ৮ অক্টোবর অনুষ্ঠিত জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল, ‘নগরীতে যত্রতত্র প্যানা, ফেস্টুন ও ব্যানার অপসারণে কেএমপি ও কেসিসি উদ্যোগ নেবে।’ সে সিদ্ধান্তও আলোর মুখ দেখেনি।

বার পঠিত

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ


নির্বাচনী ট্রেনে আওয়ামী লীগ

নির্বাচনী ট্রেনে আওয়ামী লীগ

০৭ অক্টোবর, ২০১৮ ০১:৩০








খুলনা-৪ আসনে নৌকার মাঝি কে?

খুলনা-৪ আসনে নৌকার মাঝি কে?

০১ অগাস্ট, ২০১৮ ০২:৩০




ব্রেকিং নিউজ


রংপুরের বিপক্ষে খুলনার ড্র

রংপুরের বিপক্ষে খুলনার ড্র

১৯ অক্টোবর, ২০১৮ ০১:১৫