খুলনা | শুক্রবার | ১৯ অক্টোবর ২০১৮ | ৪ কার্তিক ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

ডায়াবেটিক নিরাময় যোগ্য রোগ নয় নিয়ন্ত্রণ যোগ্য

ডাঃ ফারুকুজ্জামান | প্রকাশিত ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:১০:০০

রক্তে দীর্ঘস্থায়ী সুগারের মাত্রা বেশি থাকায় ক্রমান্বয়ে শরীরের প্রধান প্রধান প্রত্যঙ্গসমূহ আক্রান্ত হয়ে পড়ে। রাজধানীর বারডেম হাসপাতালে আমার দীর্ঘ ৭ বছরের অভিজ্ঞতা লব্ধ জ্ঞানমতে যখন কোন রোগী বারডেম হাসপাতালে আমাদের কাছে অপারেশনের (পিত্ত পাথর, এ্যাপান্ডিসাইটিস, হার্নিয়া ইত্যাদি) জন্য আসতো তখন শুধুমাত্র অনিয়ন্ত্রিন ডায়াবেটিক থাকার কারণে অপারেশন পরবর্তী জটিলতা অনেকগুন বেড়ে যেতো। বারডেম হাসপাতালে আমরা যে পরিমান ডায়াবেটিক রোগীর অপারেশন করেছি তাদের প্রায় ১৫-২৫ শতাংশ রোগীর অপারেশন পরবর্তী কোন না কোন সময়ে আইসিইউ (নিবির পরিচর্যা কেন্দ্রের) সার্পোট প্রয়োজন হয়েছে। বিশ্বব্যাপী ডায়াবেটিকস গবেষণার তথ্য উপাত্ত পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, অন্তত ২৫ শতাংশ ডায়াবেটিক রোগীর ডায়াবেটিক ফুট (পায়ের ঘা বা পচন) রোগে আক্রান্ত হয়। এর প্রধান কারণ দুটি একঃ দীর্ঘস্থায়ী ডায়াবেটিকসের কারণে রক্তের নালিকা (ধমনী, শিরা, উপশিরা) চিকন হয়ে যায়। সাধারণত পায়ের রক্ত নালিকাই বেশি আক্রান্ত হয়। ধুমপান কিংবা হাইপারকলেস্টেরলিমিয়ার (রক্তে চর্বির পরিমান বেড়ে যাওয়া) কারণে সমস্যা আরও তরান্বিত হয়। আর দ্বিতীয় হলো ডায়াবেটিকের কারণে স্নায়ুর (নার্ভ) অসাড়তার কারণে বারবার পায়ে ক্ষত হয় যা রোগী অনুভব করতে পারে না এবং রক্তে চলাচল কম বিধায় তা পুরণও হয় না। রক্তে সুগারের মাত্রা বেশি থাকায় শুরু হয় ইনফেকশন। যার সম্মিলিত ফলাফল পায়ের পচন। ইমিউনিটি কম থাকায় ইনফেকশন দ্রুত রক্তে ছড়িয়ে পড়ে। আর এতে রোগীর মৃত্যু তরান্বিত হয়। জীবন বাঁচাতে তখন দ্রুত বিসর্জন দিতে হয় পা। ঘটনার এখানেই শেষ নয়। কাটা পায়ের উপরের অংশে তখন শুরু হয় একই ধরণের পুনরাবৃত্তি। যার পরিনাম নিশ্চিত মৃত্যু। বারডেম হাসপাতালে ডায়াবেটিক ফুটের চিকিৎসায় রোগীর শরীরে রক্তের একটা উপাদান (চষধঃবষবঃ ৎরপয ঢ়ষধংধসধ) (ঝঃবস ঈবষষ ঃযবৎধঢ়ু) আমরা ব্যবহার করতাম। যার ফলাফর অত্যন্ত আশানুরুপ। ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে এ সেবা থাকলেও খুলনা কোন সরকারি বা বে সরকারি হাসপাতালে এখন পর্যন্ত তা চালু হয় নি। উন্নত ড্রেসিং এর উপাদানও এখানে অপ্রতুল। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রতিদিন ভর্তি হওয়া মোট রোগীর শতকরা ২৫-৩০ শতাংশ রোগী ভর্তি হয় এ রোগ নিয়ে। অবকাঠামোগত ভাবে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পূর্ণাঙ্গ আইসিইউ সেবা নেই। রাজধানীর ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতাল এন্ড রিচার্স ইনস্টিটিউট ঢাকা থেকে গত এপ্রিল ২০১৭ এ প্রকাশিত জার্নালে এ বিষয়ে আমার একটি নিবন্ধ (গবেষণা পত্র) প্রকাশিত হয়। নিবন্ধটির শিরোনাম ছিলো (গরপৎড়নরধষ ঢ়ধঃঃঃবৎহ ধহফ ধহঃরনরড়ঃরপ ংবংংরঃরঃু ড়ভ রহভবপঃবফ পযৎড়হরপ ভড়ড়ঃ ঁষপবৎ ধসড়হম ঃযব ফরধনবঃরপ ঢ়ধঃরবহঃং রহ ইওজউঊগ যড়ংঢ়রঃধষ)। উক্ত গবেষণা পত্র মতে অন্তত ৮৯ শতাংশ ডায়াবেটিক ফুটের রোগীই মারাত্বক ধরণের চড়ষুসরপৎড়নরধষ ইনফেকশনে আক্রান্ত। যাদের একটা বড় অংশ সব ধরনের এন্টিবায়োটিক রেজিস্টেন্ট। ফলে এর সমাধান কি? তাহলে নিরাময়ের অযোগ্য এ রোগের একমাত্র উপায় হলো নিয়ন্ত্রণ। ডায়াবেটিক নিয়ন্ত্রণের উপায়ঃ এ পর্বে বাড়িতে বসেই সহজে ডায়াবেটিক নিয়ন্ত্রণের কয়েকটি উপায় নিয়ে আলোচনা করবো।
তিতকুটে খাবার কেউই খুব একটা পছন্দ করেন না। কিন্তুখালি পেটে তিতা করলার তৈরি শরবত খেলে তা ডায়াবেটিস প্রতিরোধে সাহায্য করে। এছাড়া করলা খানিকটা আধা-ভাজা করে কিংবা স্টাফড করলাও খেতে পারেন। করলা দিয়ে চিপস তৈরি করে তা নিয়মিত নাশতায় যোগ করাও একটি ভালো উপায়। এছাড়া মেথির কয়েকটি দানা নিয়ে রাতভর পানিতে ভিজিয়ে রাখতে পারেন। সকালে ঘুম থেকে উঠে দাঁত পরিষ্কারের পর প্রথম কাজটি যা করতে হবে, তা হলো-ভেজানো মেথির দানাগুলো পানিসহ গিলে ফেলা, চাইলে চিবিয়েও খেতে পারেন। পেয়ারা এমন একটি ফল, যা সারা বছরই কমবেশি পাওয়া যায়। উচ্চমাত্রার ভিটামিন সি এবং আঁশে ভরপুর পেয়ারা সম্ভবত একমাত্র ফল, যা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিরা নির্ভয়ে খেতে পারেন ইচ্ছেমতো। আমলকির শরবতও রক্তে শর্করা ও চিনির পরিমাণ কমাতে সহায়তা করে। যদি সম্ভব হয়, তাহলে প্রতিদিনের চা বা কফিতে চিনি বাদ দিন এবং এর পরিবর্তে বিকল্প হিসেবে পরিমানমত মধু ব্যবহার করতে পারেন। এ ছাড়া নিয়মিত হাঁটা এবং শারীরিক ব্যায়াম প্রতিদিনের কাজের তালিকায় যোগ করুন। ডায়াবেটির রোগীদের শারীরিক ব্যায়াম ডায়াবেটিক নিয়ন্ত্রণে ওষুধের ব্যবহার নিয়ে আগামী পর্বে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।

ডাঃ ফারুকুজ্জামান 
এমবিবিএস (সিএমসি), বিসিএস (স্বাস্থ্য),
এম আর সি এস (এডিনবার্গ, ইংল্যান্ড),
এমএস (সার্জারি)-বারডেম হাসপাতাল, ঢাকা
সহকারী রেজিস্ট্রার, সার্জারি বিভাগ 
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ






থ্যালাসামিয়া রোগের কারণ ও লক্ষণ

থ্যালাসামিয়া রোগের কারণ ও লক্ষণ

১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০৫








ব্রেকিং নিউজ


রংপুরের বিপক্ষে খুলনার ড্র

রংপুরের বিপক্ষে খুলনার ড্র

১৯ অক্টোবর, ২০১৮ ০১:১৫