খুলনা | রবিবার | ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮ | ২ পৌষ ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

“অকাল মৃত্যু” একটি ভ্রান্ত ধারণা

মুহাম্মদ মাহফুজুর রহমান আশরাফী | প্রকাশিত ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:১২:০০

জন্ম গ্রহণ করিলে মৃত্যুবরণ করতে হবে, কথাটি চির সত্য, এই মরণ নামের ব্যধি থেকে কেহ মুক্তি পাবেনা। হযরত আজরাইল (আঃ) সকল প্রাণির মহান আল্লাহর হুকুমে জান কবজ করেন, এমন কি একদিন তার নিজের জান নিজের কবজ করতে হবে। এ ক্ষণস্থয়ী দুনিয়া হতে প্রত্যেক প্রাণি আল্লাহর দেয়া নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পর আল্লাহর দরবারে চলে যাওয়াই হলো মৃত্যু। প্রতিটি প্রাণির মৃত্যু আল্লাহ তায়ালার কাছে লিপিবদ্ধ রয়েছে, মৃত্যু দিন, তারিখ, সময় সবই নির্ধারিত। নির্দিষ্ট সময়ের পূর্বে কোন প্রাণির মৃত্যু হবেনা এবং নির্দিষ্ট সময়ের পরও কেউ জীবিত থাকবে না। মৃত্যু সম্পর্কে মহান আল্লাহ তায়ালা তাঁর পবিত্র কুরআনুল কারিমে উল্লেখ করেন, “প্রত্যেক প্রাণিকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। আর তোমরা কিয়ামতের দিন তোমাদের পূর্ব প্রতিদান পাবে।” (আল-ইমরান: আয়াত ঃ ১৮৫) অন্যত্র বলা হয়েছে, “তোমরা যে খানেই থাকনা কেন মৃত্যু তোমাদের পাকরাও করবেই। যদি তোমরা সুদৃঢ় দুর্গের ভিতরেও অবস্থান কর, তুবুও।” (নিসাঃ আয়াত ঃ ৭৮) মৃত্যু সম্পর্কে নবী করিম (সাঃ) বলেন, “দুনিয়ার সুখ-সম্পদ ও স্বাদ ধ্বংসকারী মৃত্যুকে খুব বেশী করে স্মরণ কর। (তিরমিযী) এছাড়াও অন্য এক হাদিসে উল্লেখ আছে, চতুষ্পদ জন্তু যদি তোমাদের মত মৃত্যু সম্পর্কে জানতে পরত তবে তোমরা তাদের মধ্যে কোন একটিকেও মোটাতাজা দেখতে পেতে না। তাফসিরে কুরতুবীতে লেখা আছে “মৃত্যু কেয়ামতের দিন ভেড়ার আকার ধারণ করবে এবং তাকে জবাই করা হবে” প্রবন্ধে শিরোমান হল “অকাল মৃত্যু” নিয়ে, আসলে অকাল মৃত্যু বলতে আমরা যা বুঝি তাহলে অপ্রাপ্ত অথবা পরিপূর্ণ বয়স না হলে যে মৃত্যু হয়। এই ধারণা যারা পোষণ করেন, এটি একটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। মৃত্যুর কোন বয়স নেই। দুনিয়াতে আসার ধারাবাহিকতা আছে যেমন, প্রথমে তাওই, তারপর দাদা, তার পর বাবা ইত্যাদি। কিন্তু যাবার কোন সিরিয়াল নেই। দাদার সামনে নাতী আবার বাবার সামনে ছেলে মারা যেতে পারে। এই বিষয়টি সম্পূর্ণ মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর হাতে মানুষের কিছুই করার নেই। এমন কি অনেক যায়গাতে দেখা যায় সন্তান মায়ের গর্ভে থাকা অবস্থায় মারা যায়, দুনিয়ার কোন আলো বাতাস দেখতে পারে না, এটাই তার তাকদীর। আবার দেখা যায় অনেকে একশ’ বছরের দীর্ঘ জীবন পায়, কেউবা মধ্যম বয়স পায়। কেউ বা আবার যুব বয়সে, অনেকে শৈশবে মৃত্যুবরণ করে। আবার কার ভাগ্যে জন্মের সাথে সাথেই মৃত্যু হয়। এটা এ কারণে হয় যে, সকলেরই মৃত্যুর নির্দিষ্ট সময় লিপিবদ্ধ থাকে, মানুষের জন্মের পূর্বে তার এ মৃত্যুর সময় নির্ধারিত করা হয়ে থাকে। সে হিসেবে কেবল সে পরিমাণই দুনিয়াতে সে তার হায়াত লাভ করে। এসবই হয় তাক্বদীরের ফয়সালা অনুযায়ী, তার জন্য নির্দিষ্ট করা সময়ের ভিত্তিতে। মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন, “যখন কারো অন্তিম সময় ঘনিয়ে আসে তখন (প্রাণ হরণে) এক মুহূর্ত ও আগ-পাছ করা হবে না। (সূরা ইউনূসঃ আয়াত ঃ ৪১) এই আয়াত দ্বারা স্পষ্টরূপে প্রমানিত হচ্ছে যে, সভার মৃত্যুই স্বাভাবিক ও নির্দিষ্ট সময়েই হয়ে থাকে। কারো মৃত্যুই নির্দিষ্ট সময়ের আগে-পরে বা অকালে হয়না। অবশ্য মানুষের সাধারণত একটি বয়সক্রম বা নিয়মতান্ত্রিক জীবন চক্র থাকে। এটি জীবন চক্র অনুযায়ী মানুষের জীবন শৈশব, কৈশোর, ভরা যৌবন, পৌড়ত্ব প্রভৃতি পর্যায় অতিক্রম করে পরিশেষে বাধ্যক্যে উপনীত হয়। আর তখন কোন সময়ে মৃত্যু দূত এসে তাকে হাতছানি দেয় এবং স্বাভাবিক ভাবেই সে তার ডাকে সাড়া দিয়ে পর পারে পাড়ি জমায়। মানুষের এ সময়ের মৃত্যুকে সাধারণ লোকেরা “স্বাভাবিক মৃত্যু” হিসেবে গণ্য করে। আর যখন মানুষ জীবনচক্রের সমস্ত ধাপ অতিক্রম করার পূর্বে নানাবিধি রোগে শোকে আক্রান্ত হয়ে কিংবা কোন দুর্ঘটনার কবলে পতিত হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে, তখন কেউ কেউ এটাকে “অকাল মৃত্যু” হিসেবে আখ্যায়িত করে। বিশেষ করে যদি নামিদামি, বা কোন সমাজ পতি আকস্মিকভাবে মৃত্যুবরণ করে তহালে আমরা তাকে অকলা মৃত্যু হিসেবে আখ্যায়িত করি। কথাটি শরীয়াতের দৃষ্টিতে মারাত্মক গুনাহের কাজ। কারণ জীবন দিয়েছেন যিনি মৃত্যু দেবেন তিনি। কুরআনও হাদিসের দৃষ্টি কোথাও “অকাল মৃত্যু” বলে কিছু নেই। 
অতএব, মৃত্যু নিয়ে সমলোচনা করে, আলোচনা করা উচিত। কিভাবে ভাল মৃত্যু বরণ করা যায়, তার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। বেশী নেক আমল করতে হবে। সকল প্রকার পাপাচার কাজ থেকে দূরে থাকতে হবে। বেশী বেশী মরনের কথা স্মরণ করতে হবে। নবি করিম (সাঃ) দৈনিক ৭০ বার মরনের কথা স্মরণ করতেন। মৃত্যুর কথা স্মরণ করলে, পাপ কাজ থেকে দূরে থাকা যায়। আমাদের মনে রাখতে হবে। সবারই একদিন না ফেয়ার দেশে যেতে হবে। এই দুনিয়া কাপানো অনেক রাজা বাদশা চলে গেছে কেউ ফিরে আসেনি ও আসবে না। এই জন্য মহান আল্লাহর কাছে এই প্রার্থনা করতে হবে আমাদের যখনই মৃত্যু হউক, আমরা যেন ইমানের সাথে খাটি মুসলিম হয়ে যেন কবরে যেতে পারি। মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের সেই তাওফিক দান করেন। আমিন, ছুম্মা আমিন।

(লেখক : মুফাস্সিরে কোরআন ও প্রভাষক, মাতৃভাষা ডিগ্রী করেজ। শরণখোলা, বাগেরহাট)
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ


আত্মহত্যা একটি মহাপাপ

আত্মহত্যা একটি মহাপাপ

১৬ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০৫



“তাওবা করার নিয়ম ও পদ্ধতি”

“তাওবা করার নিয়ম ও পদ্ধতি”

২৬ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:১০

চেয়ারে বসে নামায ও শরয়ী হুকুম

চেয়ারে বসে নামায ও শরয়ী হুকুম

১৯ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:১০

“শরীয় বিধানে দেনমোহর”

“শরীয় বিধানে দেনমোহর”

১২ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০৩

যে আগে সালাম দেয় সে অহংকার মুক্ত

যে আগে সালাম দেয় সে অহংকার মুক্ত

০৫ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:১০


রহস্যময় আবে যমযম কূপ

রহস্যময় আবে যমযম কূপ

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০৯

পবিত্র আশুরা  ২১ সেপ্টেম্বর

পবিত্র আশুরা  ২১ সেপ্টেম্বর

১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



ব্রেকিং নিউজ