খুলনা | শনিবার | ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮ | ১ পৌষ ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

কেসিসি’র দায়িত্ব হস্তান্তর অনুষ্ঠানে মেয়র খালেক

ড্রেন আর খাল দখল করে কেউ সোনার বাড়ি নির্মাণ করলেও তা উচ্ছেদ করা হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:৫০:০০

খুলনা সিটি কর্পোরেশনের নব-নির্বাচিত মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক বলেছেন, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও পানি নিষ্কাশনে ইতোমধ্যে সরকার আটশ’ কোটি টাকার বেশী বরাদ্দ করেছে। এছাড়া নগরীর সার্বিক উন্নয়নে পর্যাপ্ত বরাদ্দ পাওয়া যাবে। তাই জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেন ও সাতটি খাল দখল করে কেউ সোনার বাড়ি নির্মাণ করলেও তা উচ্ছেদ করা হবে।  নব-নির্বাচিত মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্বভার গ্রহণ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন। নগর ভবনের নিচ তলায় কেসিসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (যুগ্ম-সচিব) পলাশ কান্তি বালা’র উপস্থিতিতে প্যানেল  মেয়র মোঃ আনিছুর রহমান বিশ্বাষ-এর কাছ থেকে তিনি এ দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। 
গত মেয়াদে মেয়র থাকাকালীন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী খুলনা মহানগরীর উন্নয়নে কয়েকশ’ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছিলেন সেই অর্থ কোথায় কিভাবে ব্যয় হয়েছে তা খুঁজে বের করা হবে উল্লেখ করে মেয়র বলেন, অর্থের অপচয় এবং আত্মসাৎ হয়ে থাকলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রকল্পের টাকা পর্যায়ক্রমে সরকার দিয়েছে। সে সব টাকার কাজ করা হয়েছে। কিন্তু দৃশ্যমান কাজ হয়নি। ৫ বছরে সিআরডিপি ও কেএফডাব্লু প্রকল্পে বেশির ভাগ কাজের মান ভালো হয়নি। কাজ করতে ব্যর্থ হওয়ায় প্রায় ১০০ কোটি টাকা তারা প্রত্যাহার করে নিয়েছে। তাই বিভিন্ন প্রকল্পের প্রতিটি কাজের হিসাব দিতে হবে। 
তিনি বলেন, মোহাম্মাদ মনিরুজ্জামান ৫ বছরে সব ধ্বংস করে রেখে গেছে। অথচ বলে সরকার টাকা দেয়নি। যোগ্যতা নেই, তাই সাহায্য পায়নি। যোগ্যতা থাকলে অবশ্যই টাকা আসতো। তিনি আরও বলেন, নিয়মতান্ত্রিক অনুষ্ঠানেও উনি আসেননি। না আসার কারন দাওয়াত কার্ডে তার নাম নেই। কিন্তু দাওয়াত কার্ডতো উনার নির্দেশে হয়েছে। তাহলে কেন আসেননি? ইচ্ছাকৃতভাবেই উনি আসেননি। জবাবদিহিতার ভয়ে আসেননি। এর জন্য তার কঠিন জবাব দিতে হবে। নগরবাসীর জন্য তিনি অযোগ্য প্রতিনিধি ছিলেন। এর তীব্র নিন্দা জানাই।
কাউন্সিলর ও ঠিকাদারদের উদ্দেশ্যে বলেন, কাউন্সিলরদের সেবার মানসিকতা নিয়ে কাজ করতে হবে। কোন কাউন্সিলর নিজের ভাগ্যের পরিবর্তনের চেষ্টা করলে তার চোখের ৩৬ হাত দূরে অবস্থান করবেন। আর ঠিকাদারদের কাজের মান ভালো না হলে জামানতের টাকা ফেরত দেয়া হবেনা।
তিনি বলেন, কেসিসি’র সকল কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে। দায়িত্ব পালনে অবহেলা বা দুর্নীতির সাথে জড়িত হলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি পরিপূর্ণ সেবার মনোভাব নিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বীয় দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়ে বলেন, কর্পোরেশনে কোন অনিয়ম-দুর্নীতি মেনে নেয়া হবে না। ন্যায় ও শততার সাথে রাজনীতি করি। কর্পোরেশনেও ন্যায় প্রতিষ্ঠা হবে। 
তিনি বলেন, দেশের সার্বিক উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খুলনাঞ্চলের উন্নয়নে বদ্ধপরিকর। প্রধানমন্ত্রীর ওয়াদা বাস্তবায়নের লক্ষে বাস্তবভিত্তিক প্রকল্প গ্রহণ করা হবে। পৃথিবীর সাথে তাল মিলিয়ে আমাদেরও এগিয়ে যেতে হবে। জনগণের সকল প্রত্যাশা পূরণ করা হবে। তিলোত্তমা নগরী গড়ে তোলা হবে। 
কেসিসি’র প্যানেল মেয়র মোঃ আনিছুর রহমান বিশ্বাষ-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের নব-নির্বাচিত মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন এবং শুভেচ্ছা বক্তৃতা করেন খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য সাবেক শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান, খুলনা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হারুনুর রশীদ, বাগেরহাট জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও বাগেরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা কামরুজ্জামান টুকু, খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মিজানুর রহমান মিজান, খুলনা-৬ আসনের সংসদ সদস্য শেখ নুরুল হক, বাগেরহাট-৩ আসনের সংসদ সদস্য হাবিবুন নাহার, স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত যুগ্ম-সচিব মোঃ মাহবুব হোসেন, খুলনার বিভাগীয় কমিশনার মোঃ লোকমান হোসেন মিয়া, খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোঃ হুমায়ুন কবীর ও কেসিসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পলাশ কান্তি বালা। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য মোল্লা জালাল উদ্দিন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. মোঃ ফায়েক উজ্জামান, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. কাজী সাজ্জাদ হোসেন, খুলনার জেলা প্রশাসক মোঃ হেলাল হোসেন, পুলিশ সুপার এস এম শফিউল্লাহ, খুলনা পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান এড. এনায়েত আলী, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মনিরুল হুদাসহ কেসিসি’র কাউন্সিলর, সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিকবৃন্দ, সরকারি কর্মকর্তা, কেসিসি’র কর্মকর্তা-কর্মচারী ও নগরীর গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। দায়িত্ব হস্তান্তর অনুষ্ঠানের আগে নব-নির্বাচিত মেয়র কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলরদের সাথে নিয়ে নগর ভবনে রক্ষিত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এর প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করেন। 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ