খুলনা | রবিবার | ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮ | ২ পৌষ ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

দুদকের জালে খুলনার চার সরকারি কর্মকর্তা, চলতি বছরে পাঁচ মামলা

এস এম আমিনুল ইসলাম  | প্রকাশিত ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০১:৩০:০০

অবৈধভাবে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জন করায় চলতি বছর খুলনায় সরকারি কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন ব্যক্তির নামে পাঁচটি মামলা দায়ের হয়েছে। প্রাথমিক অনুসন্ধান শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা মেলায় এ মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অন্যদিকে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের চার কর্মকর্তা ও তাদের পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে সংস্থাটি। 
দুর্নীতি দমন কমিশনের সমন্বিত খুলনা জেলা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি খুলনায় জাল-জালিয়াতি, চাঁদাবাজি, ঘুষ, অনিয়ম, দুর্নীতি ও প্রকল্প হতে টাকা আত্মসাতের মাধ্যমে অবৈধভাবে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের প্রবণতা বেড়েছে। রাজনীতিক, জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা ও বিভিন্ন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর কার্যালয়ে এমন অভিযোগ ভুরি ভুরি আসছে। আর এসব অভিযোগের সূত্র ধরে অনুসন্ধান পরিচালনা করছে সংস্থাটি। চলতি বছর সংস্থাটির অনুসন্ধানে অভিযোগের সত্যতা মেলায় সরকারি কর্মকর্তা ও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন ব্যক্তির নামে ৫টি মামলা দায়ের হয়েছে। এর মধ্যে দুর্নীতি, প্রতারণা অপরাধজনক বিশ্বাসভঙ্গ ও অসাচরণের মাধ্যমে টাকা আত্মসাত ও সহায়তা করার অপরাধে গত ১৪ আগস্ট সাতক্ষীরা জেলার তালা থানায় তিনটি পৃথক মামলা দায়ের হয়েছে। মামলার আসামিরা হলেন, মেসার্স যশোর ইলেকট্রিক হাউসের মালিক মোঃ আব্দুল মান্নান, কেশবপুরের পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগের সাবেক উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ রফিকুল ইসলাম, কেশবপুরের পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগের সাবেক উপ-সহকারী প্রকৌশলী ও বর্তমান শরিয়তপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ শফিকুল ইসলাম ও যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী ও বর্তমান বরগুনার নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মশিউর রহমান। দ্বিতীয় মামলার আসামিরা হলেন, খুলনার রূপসাস্থ মেসার্স আফরোজা কনস্ট্রাকশনের মালিক মোঃ আলিম আল রাজী, যশোরের কেশবপুরের পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগের সাবেক উপ-সহকারী প্রকৌশলী ও বর্তমানে সাতক্ষীরা পওর বিভাগ-১ এর উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ ওবায়দুল হক মল্লিক, কেশবপুর পাউবোর উপ-বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোঃ আব্দুল মোতালেব ও যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী ও বর্তমান বরগুনার নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মশিউর রহমান। তৃতীয় মামলার আসামিরা হলেন, যশোর সরকারী মহিলা কলেজ রোডস্থ মৃত আইয়ুব উদ্দিনের ছেলে মোঃ গোলাম রেজা দুলু, কেশবপুরের পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগের সাবেক উপ-সহকারী প্রকৌশলী ও বর্তমানে সাতক্ষীরা পওর বিভাগ-১ এর উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ ওবায়দুল হক মল্লিক, কেশবপুরের পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগের সাবেক উপ-সহকারী প্রকৌশলী ও বর্তমান শরিয়তপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ শফিকুল ইসলাম ও যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী ও বর্তমান বরগুনার নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মশিউর রহমান। এছাড়া গত ১৯ আগস্ট বাগেরহাটের শ্রীঘাট এলাকার বাসিন্দা মৃত সরদার আহম্মদ আলীর ছেলে ভিপি কৌশুলী সরদার ইলিয়াসের নামে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও তথ্য গোপনের অভিযোগে মামলা দায়ের হয়। সর্বশেষ গত ১২ জুন সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের সাঁট লিপিকার একেএম শহীদুজ্জামানের নামে ঘুষসহ গ্রেফতারের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের হয়। দুর্নীতি দমন আইনের বিভিন্ন ধারায় কমিশনের সমন্বিত খুলনা জেলা কার্যালয়ের পক্ষে উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আবুল হোসেন ও সহকারী পরিচালক মোঃ মহাতাব ও মোঃ আমিনুর রহমান এসব মামলা দায়ের করেন। এছাড়া বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের চার কর্মকর্তা ও তাদের পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। 
মোঃ গোলাম কিবরিয়া : অভিযোগ উঠেছে খুলনা সিভিল সার্জন অফিসের হিসাব রক্ষক মোঃ গোলাম কিবরিয়া বিভিন্ন জাল-জালিয়াতি, ঘুষ ও দুর্নীতি করে অবৈধভাবে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন। যার মাধ্যমে নিজের নামে, তার স্ত্রী মিসেস মাকসুদা আক্তার ও সন্তান মিস রুবাইয়াত আমিরা, মিস জাকিয়া, মিস রাবেয়া বাশরী ও মোঃ মহিউদ্দিন (সম্রাট)-এর নামে জমি বাড়ি ও ফ্ল্যাট গড়ে তুলেছেন।
শরিফুল ইসলাম : মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ-এর উপ-প্রধান প্রকৌশলী (নৌ) শরিফুল ইসলাম বিভিন্ন জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন। যার মাধ্যমে নিজের নামে, স্ত্রী রুনা লাইলা ও সন্তান সৌমিক ইসলাম ও ইফ্ফাত তাফান্নুম দৃষ্টির নামে অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন এমন অভিযোগ উঠেছে। 
এ কে এম জাকির : বাগেরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা এ কে এম জাকির অপকর্ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে কালো টাকার কুমির বনে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আর এর মাধ্যমে তিনি জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করে নিজের নামে, স্ত্রী সোনিয়া আফ্রিন ও সন্তান তাসনিয়া তাহসিন জেরিন এবং রিফাত খন্দকার এর নামে জমি, প্লট, বাড়ি নির্মাণ ও ফ্ল্যাট কেনা-বেচা করেছেন।  
মমতাজ খান : সরকারি কর্মকর্তা টুটপাড়ার ১৫ দিলখোলা রোডের বাসিন্দা মমতাজ খান অবৈধভাবে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করে নিজ, স্বামী মোঃ জিল্লুর রহিম খান এবং সন্তান মোঃ মোকাররম হোসেন, ফারজানা খান রূপা ও ফারহানা খান রুনি নামে জমি বাড়ি ও ফ্ল্যাট ক্রয় করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। জানা গেছে, এসব অভিযোগের ভিত্তিতে খুলনা বিভাগের চার কর্মকর্তা ও তাদের পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে  দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তবে এসব কর্মকর্তাদের মধ্যে অন্তত ২ জনের সাথে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তারা এসব অভিযোগ অসত্য ও ষড়যন্ত্রমূলক বলে দাবি করেছেন। তারা আরও বলেছেন এ  অনুসন্ধানে তাদের বিরুদ্ধে সত্যতা মেলবে না।
ঘটনার সতত্যা স্বীকার করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)- এর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আবুল হোসেন এ প্রতিবেদককে বলেন, জাল-জালিয়াতি, ঘুষ, অনিয়ম, দুর্নীতি ও প্রকল্প হতে টাকা আত্মসাতের মাধ্যমে এসব কর্মকর্তারা তাদের পরিবারের সদস্যদের নামে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ যেমন বাড়ি, ফ্ল্যাট ও বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন এমন অভিযোগ দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর সমন্বিত খুলনা জেলা কার্যালয়ে দাখিল হয়েছে। অভিযোগ দাখিলের পর সত্যতা অনুসন্ধানে বিভিন্ন ব্যাংক এবং সরকারি দপ্তরগুলোতে চিঠি  দেয়া হয়েছে। চিঠিগুলোর জবাব পাওয়ার পর অভিযোগ সত্য-না মিথ্যা তা প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হবে। তখন মামলা দায়েরসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরও বলেন, চলতি বছর অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা মেলায় সরকারি কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন ব্যক্তির নামে ৫টি মামলা করা হয়েছে।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ