খুলনা | রবিবার | ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮ | ২ পৌষ ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

‘চাকুরি না পাওয়া’র হতাশায় উচ্চশিক্ষিত যুবকের আত্মহত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০১:২৬:০০

চাকুরি না পাওয়ার হতাশায় ডায়েরিতে সুইসাইড নোট লিখে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী যুবক সৈকত রঞ্জন মন্ডল। গত শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ১০টার দিকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের খাজা গেটের পূর্ব দিকের ইসলাম নগর এলাকার একটি মেসের রুম থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত মেধাবী সৈকত রঞ্জন মন্ডল ২০০৯-১০ শিক্ষাবর্ষে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ এ্যান্ড মেরিন রিসোর্স টেকনোলজির শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার রমজান নগর ইউনিয়নের বাসিন্দা কৃষ্ণ মন্ডলের পুত্র।
জানা গেছে, শুক্রবার রাতে সৈকতের পাশের দালানের এক প্রতিবেশী জানালা দিয়ে ফ্যানের সঙ্গে একজনকে ঝুলতে দেখেন। এরপর বিষয়টি জানালে সৈকতের রুমমেট, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের উপস্থিতিতে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে সৈকতকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার ডায়েরির লেখা দেখে ধারণা করা হচ্ছে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। দুই বছর আগে পোস্ট গ্রাজুয়েশন শেষ করলেও চাকুরি না পাওয়ার হতাশা থেকেই আত্মহত্যা করতে পারেন সৈকত। তার রুমে বিসিএস প্রস্তুতির বিভিন্ন বইপত্র দেখা গেছে।
তার সতীর্থরা জানান, সৈকত দুইবার বিসিএস পরীক্ষা দিয়েও উত্তীর্ণ হতে পারেননি। তার টেবিলের ড্রয়ার থেকে পাওয়া প্রেসক্রিপশন থেকে জানা গেছে, হতাশা থেকে বাঁচতে মানসিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্নও হয়েছিলেন সৈকত। সম্প্রতি সৈকত নিজের ব্যক্তিগত ডায়েরিতে হতাশার কথা লেখা শুরু করেন।  তার রুম থেকে উদ্ধার হওয়া ডায়েরির একটি পাতায় লেখা রয়েছে-‘অনেক স্বপ্ন ছিল চাকুরি করবো, মার মুখে হাসি ফোটাবো। কিন্তু সব এলোমেলো হয়ে গেল। মা’র শরীর খুব খারাপ। তবুও আমি খুলনা থেকে পড়ার কথা ভাবছি। বাড়িতে যেতে গেলে সবকিছু নিয়ে যেতে হবে। তাছাড়া আর কোনো উপায় নেই। না আছে টিউশনি, যার উপর নির্ভর করে খুলনায় চলছিলাম। কোনো চাকুরিতেও ভয় পাচ্ছি। আজ এতো কঠিন অবস্থা তৈরি হয়ে গেল। আমি শুধু বন্ধুদের কে কি করছে সেই দিকে খেয়াল করে চলছি। আমরা এক মেসে চার বন্ধু থাকতাম। এরমধ্যে আমার অবস্থা খুবই খারাপ হয়ে গেছে। অন্য তিনজন চাকুরি পেয়েছে। আসলে প্রত্যেকটি কাজ করতে করতে সেটা ছেড়ে দিয়ে BCS  এর দিকে যাওয়ায় হঠাৎ চাপ বেড়ে যায়। সে জন্য আমি আরও Abnormal Behaviour  প্রদর্শন করছি। প্রজেক্টের কাজে চাপ থাকায় শরীরটা গড়তে পারিনি। সে জন্য অতিরিক্ত চাপ সহ্য হয়নি।’ হৃদয়বিদারক সুইসাইড নোট ও সৈকতের পরলোকগমন ব্যাপকভাবে নাড়া দিয়েছে তার সতীর্থ, বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীকে।
হরিণটানা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ নাসিম খান বলেন, সৈকতের মরদেহ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়না তদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। একটি অপমৃত্যু মামলা ডায়েরি করা হয়েছে।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ