খুলনা | শনিবার | ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮ | ১ পৌষ ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

দৌলতপুরে সেনপাড়া বস্তি উচ্ছেদ চেষ্টায় ক্ষমতাসীনরা

মিয়ানমার রোহিঙ্গারা থাকার জায়গা পাচ্ছে আর দেশের নাগরিক হয়ে মাথা গোঁজার ঠাঁই হচ্ছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০১:২০:০০

মিয়ানমার রোহিঙ্গারা থাকার জায়গা পাচ্ছে আর দেশের নাগরিক হয়ে মাথা গোঁজার ঠাঁই হচ্ছে না


“মিয়ানমার লাখ লাখ রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে থাকার জায়গা পাচ্ছে। আর এদেশের নাগরিক হয়েও মাথা গোঁজার ঠাঁই হচ্ছে না। এখন আমরা কি করবো?” নগরীর মানিকতলাস্থ সিএসডি গোডাউন শ্রমিক মোঃ জামাল হোসেনে আক্ষেপ করে এ উক্তি করেন। নগরীর দৌলতপুরের সেনপাড়া বস্তির বাসিন্দা শেরজন উদ্দিনের ছেলে জামাল হোসেন ত্রিশ বছরের অধিক সময় বসবাস করছেন এ বস্তিতে। বস্তিটির নিচু স্থানে ক্ষমতাসীনরা বালি ভরাট শুরু করলে গতকাল শনিবার সকালে বাধা দেন স্থানীয়রা। পরে বস্তি থেকে উচ্ছেদ ষড়যন্ত্র বুঝতে পেরে খুলনা-যশোর মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে বস্তিবাসী। বস্তি উচ্ছেদ প্রক্রিয়ার সাথে স্থানীয় একজন জনপ্রতিনিধির আশ্রয়ে যুবলীগ নেতা জড়িত বলে অভিযোগ বস্তিবাসীর।
সিএসডি’র শ্রমিক মোঃ জামাল হোসেন বলেন, “গত ৩০-৩৫ বছর যাবত সেনপাড়া বস্তিতে বসবাস করছি আমি। বিপুল পরিমাণ এ সম্পত্তি সরকারি খাস জমি। কেউ কোনদিন আমাদের এখান থেকে উঠতে বলিনি। ক’দিন আগে থেকে দাউদের মাঠ এলাকার ৩-৪ টি পুশকুনি (জলাশয়) বালি দিয়ে ভরাট করে ওরা। শনিবার সকালে পাইপ বসিয়ে আমাদের এলাকায় বালি ভরাট শুরু করলে এলাকাবাসী প্রতিবাদ করি। তখন যুবলীগ নেতা জাকিরের নেতৃত্বে ওরা এসে আমাদের শাসিয়ে যায়। এরপর বস্তিবাসী একত্রিত হয়ে আমরা সড়ক অবরোধ করি।”
তিনি আরও বললেন, “দুপুরে পুলিশ এসে এলাকার পুরুষ-ছেলেদের মারপিট ও ধরপাকড় শুরু করে। কয়েকজনকে ধরে নিয়ে গেছে দৌলতপুর থানা পুলিশ। পরে বিকেলে আমি, আরেক জামাল, ফাহিমা, মায়াসহ ৪-৫ জন স্থানীয় এমপি বেগম মন্নুজান সুফিয়ানের সাথে সাক্ষাৎ করি, আমরা ক’জন তার সাথে দেখা করার অনুমতি পেয়েছিলাম, তবে নিচে অনেক লোক ছিল আমাদের। মন্ত্রী (সাবেক প্রতিমন্ত্রী) আমাদের বলেছেন, তোদের এক একর জমি দেবো ও পঞ্চাশ হাজার টাকা দেবো। আর কিচ্ছু করার নেই তার। এ সময় যুবলীগ নেতা জাকির ও আ’লীগ নেতা লিয়াকত বেগম সেখানে উপস্থিত ছিলেন। পরে বাইরে এসে মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেককে ফোন দিয়ে সব জানাই। তিনি বলেছেন, ২৫ তারিখে তিনি এসে ফয়সালা করবেন। বস্তিবাসীদের উচ্ছেদের সাথে যুবলীগ নেতা লিঙ্কন ও লিয়াকত প্রত্যক্ষভাবে জড়িত বলে অভিযোগ করেন তিনি।” (কথপোকথন রেকর্ড রয়েছে)।
ফাহিমা ও মায়া বললেন, “আমরা মহিলা মানুষ কি আর বলবো। যা শুনেছেন সব সত্যি। ওরা মনে হয় আমাদের এখানে আর থাকতি দেবে না।”
বস্তির বাসিন্দা মৃত শামসু সরদারের ছেলে জামাল হোসেন বলেন, “দুপুরে দৌলতপুর থানা পুলিশ এসে গণভাবে আমাদের আটক ও মারপিট করে। আমার ভাই নূর আলমকে দখলকারীরা মারপিট করে পুলিশে ধরিয়ে দিয়েছে। আমাকে খুঁজছে পুলিশ। আমার কি অপরাধ? বস্তি উচ্ছেদের প্রতিবাদ করা কি আমাদের অপরাধ? আমরা এখন কি করবো?”
স্থানীয়রা জানান, সরকারি খাস এ জমিতে চার শতাধিক পরিবার প্রায় তিন যুগ ধরে বসবাস করছে। যাদের পরিবারের প্রত্যেকেই খাদ্য গুদাম, পাটকলসহ বিভিন্ন কলকারখানার শ্রমিক।
খানজাহান আলী থানা যুবলীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদ সদস্য মোঃ সাজ্জাদুর রহমান লিঙ্কন বলেন, “সেনপাড়া বস্তিটি মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের জায়গা। ওইখানে চারশ’ মেগাওয়াটের পাওয়ার প্লান্ট হবে। এখন ওইখানে যারা বসতি আছে তাদের মেঘনা পুনর্বাসন করার জন্যে কিছু জায়গাতে তালিকাভুক্ত ২৫৪টি  পরিবারকে পুনর্বাসন করা হবে। জেলা প্রশাসন ওই তালিকাটি করেছিল। ওই ২৫৪ পরিবারকে এক শতক জমি ও পঞ্চাশ হাজার করে টাকা দেয়া হবে। যেখানে তাদের পুনর্বাসন করা হবে সেখানের পুকুরে বালি ভরাট করছিলাম। এখন তারা ওই পুকুরে বালি ফেলতে দেবে না। আমি মেঘনা পেট্রোলিয়ামের ওই টেন্ডারটির ওয়ার্ক অর্ডার পেয়েছি। আমি এখানে ঠিকাদার মাত্র; অন্য কোন কিছু নই। এটা ডিসি, জ্বালানী প্রতিমন্ত্রী, স্থানীয় এমপিসহ সকলেই জানেন। এখন হয়তো কারো উসকানীতে ওরা এসব করছে।”
দৌলতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী মোস্তাক আহমেদ বলেন, “সেনপাড়া বস্তি ও সড়কে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়েছিল। ওই ঘটনায় কোন মামলা হয়নি; কাউকে আটক-গ্রেফতার করা হয়নি। মারপিট ও গণগ্রেফতারের অভিযোগ সঠিক নয়।”
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ