খুলনা | বুধবার | ১৭ অক্টোবর ২০১৮ | ২ কার্তিক ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

‘গণমাধ্যমের হাত-পা বাঁধতেই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন’

সাবেক প্রধান বিচারপতির বক্তব্য প্রমাণ করে সরকার বিচার বিভাগ নিয়ন্ত্রণ করছে : বিএনপি

খবর প্রতিবেদন | প্রকাশিত ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:১৫:০০


বিএনপি’র জ্যেষ্ঠ যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করে বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষের মুখ বন্ধ করতে, গণমাধ্যমের হাত-পা বেঁধে ফেলতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পাস করা হয়েছে। সরকারের লাখ লাখ কোটি টাকার দুর্নীতি ধামাচাপা দিতেই এই ‘কালো আইন’ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে রিজভী এসব কথা বলেন।
বিএনপি’র এই নেতা বলেন, ‘গণমাধ্যমে অথবা যেকোনো মাধ্যমেই যাতে দুর্নীতির কোনো খবর প্রকাশিত না হয় অথবা প্রকাশ করতে না পারেন, সে জন্যই এই ন্যাক্কারজনক কালো আইন তৈরি করা হলো। এ আইনে মানুষের বাক-ব্যক্তি স্বাধীনতা হরণ করা হয়েছে। দুর্নীতি ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো অপরাধের বিস্তার লাভ করার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। এটি সংবিধান বিরোধী একটি আইন।’
রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘এ আইনে সংবিধানের মূল চেতনা, বিশেষ করে মুক্তচিন্তা, বাকস্বাধীনতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতাসহ মৌলিক অধিকার ক্ষুণœ করা হয়েছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের কারণে দেশের মানুষের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ল। কারণ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখন বিনা ওয়ারেন্টে সংবাদপত্র ও সাংবাদিকদের অফিস ঢুকে তল¬াশির নামে তাণ্ডব চালাতে পারবে, কম্পিউটারসহ সবকিছু সিজ করতে পারবে, যে কাউকে গ্রেফতার করতে পারবে। সাধারণ মানুষও এই কালো আইনের থাবা থেকে রেহাই পাবে না।’
বিএনপি’র এই নেতা দাবি করেন, ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নামক এই কালো আইনের ৮, ২১, ২৫, ২৮, ২৯, ৩১, ৩২ ও ৪৩ ধারা সংবিধান পরিপন্থী। এই আইন বাকশালেরই প্রেতাত্মা।’ এই কালাকানুনের বিরুদ্ধে দেশবাসীসহ গণমাধ্যমের কর্মী, মুক্তচিন্তার মানুষদের রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছি।
এদিকে বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত আলোচনা সভায় বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, ‘রাজনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য সরকার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মাধ্যমে মিডিয়ার হাত বেঁধে দিয়েছে। সরকারের রাজনৈতিক কৌশল যদি হয় বিরোধী রাজনৈতিক দল থাকতে পারবে না, মিডিয়া থাকতে পারবে না, স্বাধীন বিচার বিভাগ থাকতে পারবে না, তা হলে গণতন্ত্র থাকছে কোথায়?’
অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আদায়ে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ভূমিকা ও আমাদের করণীয় শীর্ষক আলোচনা সভার আয়োজন করে নাগরিক অধিকার আন্দোলন ফোরাম।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘সরকার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন করেছে। রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ, লেখক, সাংবাদিক সবাই এ বিষয়ে প্রতিবাদ করেছে। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি; আইন পাস হয়ে গেছে। অর্থাৎ আবারও স্বাধীন সাংবাদিকতা তার অধিকার হারাল।
নজরুল ইসলাম খান আরো বলেন, ‘যদি মিডিয়া না থাকত আমরা বহু মানুষের অন্যায়, অনাচার দেখতে পেতাম না বা জানার সুযোগও হতো না। এমনকি আমাদের বহু আন্দোলন সফল হতো না। আজকে সেই মিডিয়ার হাত বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এতে ক্ষমতাসীন সরকাররের ক্ষমতা ছাড়া কিছুই থাকছে না।’
বিএনপি’র এ নেতা বলেন, ‘ষোড়শ সংশোধনী সব বিচারক একমত হয়ে বাতিল করলেন অথচ সে রায়ে কিছু মন্তব্য করার জন্য প্রধান বিচারপতিকে পদত্যাগ ও দেশত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়। সম্প্রতি সাবেক প্রধান বিচারপতি একটা বই লিখেছেন, বইয়ের কথাগুলো বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রমাণ করে না। প্রমাণ করে সরকার এবং তার দলের লোকেরা বিচার বিভাগ নিয়ন্ত্রণ করছে। অর্থাৎ ৭৫ সালে আইন করা হয়েছে আর এখন করা হচ্ছে কৌশলে।’
সরকারের নতুন কায়দায় সফল হবে না মন্তব্য করে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘সরকারের নতুন কায়দা হলো যখন একটা আন্দোলন সফল হওয়ার পথে তখন আরেকটা ইস্যু শুরু করা যাতে একটা রেখে আরেকটা নিয়ে দৌড়াতে হয়। তবে এ নতুন ফরমুলা সফল হবে না।’


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ





প্রধানমন্ত্রী সৌদিতে 

প্রধানমন্ত্রী সৌদিতে 

১৭ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:২২









ব্রেকিং নিউজ











‘বাংলাদেশে কোন সংখ্যালঘু নেই’ 

‘বাংলাদেশে কোন সংখ্যালঘু নেই’ 

১৭ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:৩৭