খুলনা | শনিবার | ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮ | ১ পৌষ ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

পূর্ব রূপসা বাসস্ট্যান্ডে টোলের টাকা নিয়ে হরিলুট 

দেড় বছরে প্রায় ৩০ লাখ টাকা আয়ের সিংহভাগই কেসিসি’র আদায়কারীর পকেটে!

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০১:৩০:০০

দেড় বছরে প্রায় ৩০ লাখ টাকা আয়ের সিংহভাগই কেসিসি’র আদায়কারীর পকেটে!

খুলনা সিটি কর্পোরেশন নিয়ন্ত্রিত পূর্ব রূপসা বাস স্ট্যান্ডে টোল আদায়ে হরিলুট চলছে। গত দেড় বছরে উক্ত স্ট্যান্ড থেকে প্রায় ৩০ লাখ টাকা আদায় হলেও সিটি কর্পোরেশনে জমা হচ্ছে নামমাত্র। আদায়কৃত টাকার সিংহভাগই চলে যাচ্ছে কর্পোরেশনে নিয়োজিত টোল আদায়কারীর পকেটে। কৌশল হিসেবে আদায়কারী মাহবুব তারিখ ছাড়াই স্লিপ দিয়ে আদায় করছে টাকা। আর টাকা আদায়ের জন্য সার্বক্ষণিক নিয়োগ দিয়েছেন দুইজন কর্মচারী। ওই কর্মচারীদের বেতন বাবদই সে প্রতি মাসে দিচ্ছে ১৮ হাজার টাকা।  
জানা গেছে, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জনবহুল রূপসা ঘাটে নদী পারাপারে জনদুর্ভোগ বিবেচনায় এনে সিটি কর্পোরেশন ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে রূপসা নদীর দু’পারে দু’টি পন্টুন স্থাপনসহ প্রায় ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে উভয় পারের বাস স্ট্যান্ডের উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করে। এরপর থেকে ঘাট দু’টির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নেয় সংস্থাটি। এ লক্ষে প্রায় দেড় বছর আগে পূর্ব রূপসা বাস স্ট্যান্ডে টোল আদায়ের জন্য মাহবুব নামে তাদের একজন কর্মচারীকে নিয়োগ দেয়। যিনি অদ্যবধি দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আদায়কারী মাহাবুব প্রতিদিন বিভিন্ন ভাবে কর্পোরেশনের বৈধ স্লিপের মাধ্যমে প্রায় ৬ হাজার টাকা আদায় করছেন। এর মধ্যে রূপসা বাস স্ট্যান্ড থেকে প্রতিদিন ছেড়ে যাওয়া ৬টি রুটের ১১৪টি বাস থেকে তিনি ২৫ টাকা হারে প্রতিদিন ২৮শ’ ৫০ টাকা আদায় করছেন। এছাড়া ঘাট দিয়ে চলাচলকারী অর্ধশতাধিক নছিমন, করিমন ও ইজিবাইক থেকে ১০ টাকা হারে পাঁচ শতাধিক টাকা আদায় করছেন। পাশাপাশি চিংড়ি মাছবাহী পিকআপ, মিনি ট্রাকসহ মালবাহী ট্রাক স্ট্যান্ডে ঢুকলেই আদায়কারী মাহাবুবকে টাকা দিতে হয়। প্রতিদিন অর্ধশত গাড়ি থেকে ২৫ টাকা হারে তিনি আদায় করছেন প্রায় ১৩শ’ টাকা। 
জানা গেছে, রূপসা-মংলা মহাসড়কে প্রতিদিন দুই শতাধিক ভ্যান চলাচল করে। সিটি কর্পোরেশনের নির্দেশ রয়েছে শুধুমাত্র চিংড়ি মাছবাহী ভ্যান থেকে ৫ টাকা হারে টোল আদায় করা যাবে। অথচ উক্ত মাহাবুব রূপসায় চলাচলরত সকল ভ্যান থেকে প্রতিদিন ৫ টাকা হারে ১ হাজার টাকার বেশি আদায় করছেন। অথচ অবাক করার বিষয় হচ্ছে, এসব টোল আদায়ের স্লিপের মুড়ি বইতে তিনি কোন স্বাক্ষর বা তারিখ উল্লেখ করছেন না। টাকা হাতানোর কৌশল হিসেবেই সে এ কাজ করছেন বলে জানা গেছে। ফলে প্রতিদিনের টোল আদায়ের প্রকৃত তথ্য সিটি কর্পোরেশন পাচ্ছে  না। এছাড়া সে ভাড়ায় চালিত মোটর সাইকেল স্ট্যান্ড থেকে প্রতি মাসে টোল স্লিপ ছাড়াই সাড়ে ৭ হাজার টাকা এবং বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমীন সড়কে চলাচলরত মাটি ও ভারী মালামালবাহী ৭/৮টি ট্রাক থেকে প্রতিদিন ১শ’ টাকা হারে আদায় করে থাকেন। যার কোন হিসেবে সিটি কর্পোরেশনের কাছে তিনি দেন না। এভাবে প্রতিদিন ৫ হাজার ৬শ’ টাকা হিসেবে মাসে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা তিনি স্লিপের মাধ্যমে টোল আদায় করছে। অন্যান্য অবৈধ আদায় মিলে যার পরিমাণ দাঁড়ায় মাসে প্রায় ২ লাখ টাকা। এভাবে গত দেড় বছরে তিনি আদায় করেছেন ৩০ লক্ষাধিক টাকা। অথচ কর্পোরেশনের দেওয়া তথ্য মতে আদায়কারী মাহবুব এ বাস স্ট্যান্ড থেকে কোন মাসে ৫০ হাজার আবার কোন মাসে ৫৫/৬০ হাজার এমনকি সর্বোচ্চ ৭০ হাজার টাকা তিনি জমা দিয়েন। বাকি আদায় করা টাকাসহ অবৈধভাবে স্লিপ ছাড়া আদায়কৃত টাকার কোন হিসেব সিটি কর্পোরেশনের কাছে নেই। 
স্থানীয় ভ্যান চালকদের অভিযোগ, স্লিপে শুধুমাত্র চিংড়ি মাছবাহী ভ্যান থেকে টোল আদায়ের নির্দেশনা থাকলেও যাত্রী নিয়ে স্ট্যান্ডে ঢুকলেই মাহাবুবের নিয়োজিত লোককে টোল দিতে হয়। টাকা না দিলে ভ্যানের চাকার হাওয়া ছেড়ে দেওয়াসহ চাবিও কেড়ে নেয়া হয়। 
এ ব্যাপারে টোল আদায়কারী মাহবুবের কাছে জানতে চাইলে তিনি প্রথমে নিজেকে সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা হিসেবে দাবি করে বলেন, অনিয়মের বিরুদ্ধে আপনার কাছে কৈফিয়ত দিতে আমি বাধ্য নই। তার নিয়োজিত দুইজনকে প্রতিদিন ৬শ’ টাকা হারে মাসে ১৮ হাজার টাকা সিটি কর্পোরেশন দেয় কিনা জানতে চাইলে বলেন, ওদের বেতন আমিই দিয়ে থাকি। কিভাবে দেন, জানতে চাইলে তিনি কোন সদুত্তোর দিতে পারেননি।
এ ব্যাপারে সিটি কর্পোরেশনের স্টেট অফিসার নুরুজ্জামান তালুকদার বলেন, পূর্ব রূপসা ঘাটে টোল আদায়ের কিছু অনিয়ম আমার নজরে এসেছে। বিষয়টির সাথে বেশ কিছু প্রভাবশালী জড়িত। তবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ