খুলনা | মঙ্গলবার | ১৩ নভেম্বর ২০১৮ | ২৯ কার্তিক ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

চার বছর পর খুলনায় ফুটবল লীগ

মুহাম্মদ আশরাফুল আলম | প্রকাশিত ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০১:০৮:০০

চার বছর পর খুলনায় আগামী ২২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হতে যাচ্ছে সিনিয়র ডিভিশন ফুটবল লীগ। সাইফ পাওয়ার ব্যাটারির স্পন্সরে খুলনায় এ লীগ অনুষ্ঠিত হবে সার্কিট হাউস মাঠে। তবে টুর্নামেন্টের মোড়কে লীগ আয়োজন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ খেলোয়াড় ও বেশ কিছু ক্লাব কর্মকর্তার। খুলনা সিনিয়র ডিভিশন ফুটবলের লীগের প্রথা বাদ দিয়ে এবারই প্রথমবারের মতো রেলিগেশন থাকছে না এই লীগে। ছিলো না দল বদলও। দলবদল ও রেলিগেশন না থাকায় আকর্ষন হারাবে খুলনার সবথেকে বড় এই ফুটবল প্রতিযোগিতা বলে মনে করছেন ক্রীড়া সংশি¬ষ্টরা। খেলোয়াড়দের অভিযোগ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবেন তারা। অপরদিকে আয়োজক কমিটি তাদের অভিযোগকে আমলে না নিয়ে লীগই হচ্ছে বলে দাবি করছেন। তবে সব পক্ষই দীর্ঘদিন পর খুলনায় ফুটবল খেলা হচ্ছে বলে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন । 
প্রায় ৪ বছর পর খুলনায় সিনিয়র ডিভিশন ফুটবল লীগ দিয়ে মাঠে গড়াচ্ছে ক্লাব ফুটবল। এতে মোট ১৬টি ক্লাব অংশগ্রহণ করছে। যার মধ্যে ৮টি প্রিমিয়ার ও ৮টি প্রথম বিভাগ খেলা ক্লাব রয়েছে। জেলা ফুটবল এসোসিয়েশন ১৬টি দলকে ৪টি গ্র“পে ভাগ করে ফিকশ্চার করেছে। প্রত্যেক গ্র“পে ৪টি দল রেখেছে। ফিকশ্চার অনুযায়ী, প্রথমে ১৬টি দল রাউন্ড রবিন প্রতিযোগিতায় ৪টি গ্র“পে ভাগ হয়ে নিজেদের মধ্যে ৩টি করে খেলায় অংশ গ্রহণ করবে। সেখান থেকে নক আউট পদ্ধতিতে ৮ দল নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল, পরে ৪ দল নিয়ে সেমিফাইনাল, সর্বশেষ ২ দল ফাইনাল খেলবে। যা বিশ্বকাপের ফরমেশন বলে জানিয়েছেন আয়োজক কমিটি। এ টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে বেশিরভাগ ক্লাব দল গঠন করে অনুশীলন শুরু করেছে। তবে কিছু ক্লাব এখনও গুছিয়ে উঠেনি। দীর্ঘ বিরতিতে খুলনায় প্রতিযোগিতামূলক খেলা হওয়ায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন ক্লাব কর্মকর্তা থেকে শুরু করে সকল ফুটবলপ্রেমী। কিন্তু কিছু ক্লাব কর্মকর্তা ও খেলোয়াড়েরা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন খেলার পদ্ধতি নিয়ে।  
খেলায়াড়দের বক্তব্য : খুলনা আবাহনী ক্রীড়া চক্রের জ্যেষ্ঠ খেলোয়াড় মোঃ খালিদ সাইফুল¬াহ জানান, নামমাত্র লীগে খেলে খেলোয়াড়েরা আর্থিক লোকসানের সম্মুখীন হবে। জেলা ফুটবল এসোসিয়েশন বলছে লীগ, আমরাও জানি লীগ হবে সেক্ষেত্রে দল বদল হবে। কিন্তু ক্লাব  বলছে, এটা টুর্নামেন্ট যেখানে দলবদল ও রেলিগেশন নাই’’। এই ব্যাপার নিয়ে বেশ কিছু খেলোয়াড়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, তারা খেলা হওয়াতে সন্তুষ্ট,তবে দলবদল হলে তারা আর্থিকভাবে আরও কিছুটা লাভবান হতে পারতো। উল্কা ক্লাবের মোস্তাফিজুর রহমান রনি বলেন, “লীগ হলে, দল বদল হতো, সেক্ষেত্রে আমরা যারা খেলোয়াড় তারা এককালীন ৫০-৬০ হাজার টাকা পেতে পারতাম। আর এখন ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা হয়তো পাবো।” এ বিষয়ে ক্লাব কর্মকর্তাদের সাথে কথা হলে, তারা দল বদল না হওয়ার দায় চাপাচ্ছেন জেলা ফুটবল এসোসিয়েশনের ওপর। 
জেলা ফুটবল খেলোয়াড় কল্যান সমিতির সভাপতি আব্দুস সালাম ঢালী বলেন, লীগে দল বদল না হলে খেলোয়াড়রা অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্থ হবে। কিন্তু আমাদের কিছু করার নেই। যেহেতু দীর্ঘদিন খেলা হচ্ছিলো না, তাই ডিএফএ’র এই উদ্যেগকে আমরা সাধুবাদ জানাই। আশা করবো পরবর্তী লীগে দল বদলসহ সব আয়োজন করবে জেলা ফুটবল এসোসিয়েশন। 
ক্লাব কর্মকর্তাদের বক্তব্য : মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক শাহ আসিফ হোসের রিংকু বলেন,  লীগ হওয়াতে আমরা অত্যন্ত খুশি। খেলোয়াড়দের কিছু অসন্তুষ্টির কারণ শুনেছি। লীগ বা টুর্নামেন্ট যাই হোক, মোহামেডান বেশ টাকা খরচ করে দল গঠন করেছে। আশা করি, খেলোয়াড়েরা ততটা ক্ষতিগ্রস্থ হবে না। খুলনা আবাহনী ক্রীড়া চক্রের ফুটবল কমিটির সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বাবলু বলেন, এটা লীগও না টুর্নামেন্টও না। তবে ফুটবলের স্বার্থে আমরা এ প্রতিযোগিতাকে স্বাগত জানাচ্ছি। দল বদল না হলেও আবাহনী ক্লাব দল গঠন করতে অনেক টাকা খরচ করেছে। 
খুলনা টাউন ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সুজন আহম্মেদ বলেছেন, একটি লীগ হওয়ার জন্য যেসকল প্রস্তুতি থাকা দরকার, প্রথমতো সেগুলো হয়নি। যেমন জেলা ফুটবল এসোসিয়েশন কোন দলবদল দেয়নি, লীগে রেলিগেশন রাখেনি, সেক্ষেত্রে ভালো দল গঠন করার ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা কমে গেছে। আর যেখানে লীগ হচ্ছে অর্থাৎ সার্কিট হাউজ মাঠের ব্যবস্থাপনাটাও ভালো না। আর দলবদল না হওয়ায় খেলোয়াড়েরা অবশ্যই আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবে। তবে এখনও কোন খেলোয়াড় আমাদের কাছে অভিযোগ দেয়নি। বলাকা স্পোর্টিং ক্লাবের মোস্তাকুজ্জামান বলেছেন খেলা মূলত রাউন্ড রবিন প্রতিযোগিতায় হচ্ছে। যেটা টুর্নামেন্ট  বা লীগের পর্যায়ে পড়ে না। লীগ হলে দলগুলোর আরও বেশি খেলার সুযোগ থাকতো, সেখানে রেলিগেশনের ভয়ে দলগুলো প্রতিযোগিতামূলক দল গঠন করতো। অনেক ক্লাব নামেমাত্র দল গঠন করেছে।  দীর্ঘদিন পর খেলা হওয়াতে খেলোয়াড়েরা আবার মাঠে ফিরবে সেটা অবশ্যই খুশির ব্যাপার। তবে খোলা মাঠে খেলা হওয়া নিয়ে রয়েছে অসন্তুষ্টি।
টুর্নামেন্ট না লীগ নিয়ে আয়োজক কমিটি : আয়োজক কমিটির প্রধান, জেলা ফুটবল এসোসিয়েশনের সভাপতি এড. সাইফুল ইসলাম ফুটবল ও ক্লাব কর্মকর্তাদের অভিযোগকে আমলে না নিয়ে বলেন, অবশ্যই এটা লীগ হচ্ছে, যা খুলনা সিনিয়র ডিভিশন ফুটবল লীগ-২০১৮ নামে পরিচিত। আর লীগের পৃষ্ঠপোষকতা করছে সাইফ পাওয়ার ব্যাটারি। দীর্ঘ বিরতিতে খেলা শুরু করাই আমাদের চ্যালেঞ্জ ছিলো। অবশেষে আমরা লীগ আয়োজন করছি, যেখানে স্থানীয় খেলোয়াড়দের প্রাধান্য দিয়ে ক্লাবকে দল সাজানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আর প্রত্যেক দলে ৪জন বহিরাগত খেলোয়াড় খেলানোর সুযোগ রয়েছে। জেলা স্টেডিয়ামে সংস্কার কাজ চলার কারণে সার্কিট হাউজ মাঠে খেলা অনুষ্ঠিত হবে। কঠোর নিরাপত্তা অবশ্যই থাকবে, আর উন্নয়ন মেলা হলে খেলা কুয়েটের মাঠে স্থানান্তর করা হতে পারে। ১৬টি ক্লাব ইতিমধ্যে নিবন্ধন করেছে। আশা করি তাদের কোন অভিযোগ নেই। খেলা ডিএফএ ও বাফুফের নির্দেশনা অনুযায়ী হবে। দলবদল ও রেলিগেশন রাখতে চাইলে কিছু প্রস্তুতি থাকা দরকার ছিলো। আগামী মৌসুমে এসব জটিলতা কাটিয়ে প্রথাগত পদ্ধতি খেলা হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ

মুশফিক ঝলকে টাইগারদের দিন  

মুশফিক ঝলকে টাইগারদের দিন  

১৩ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:৪৯









অন্যরকম রেডর্কের দিন বাংলাদেশের

অন্যরকম রেডর্কের দিন বাংলাদেশের

১২ নভেম্বর, ২০১৮ ০১:০০




ব্রেকিং নিউজ

খুলনায় ৫ জনের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ

খুলনায় ৫ জনের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ

১৩ নভেম্বর, ২০১৮ ০১:০২