খুলনা | মঙ্গলবার | ১৩ নভেম্বর ২০১৮ | ২৯ কার্তিক ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

প্রবীণ গাছ রেখেই প্রশস্ত হচ্ছে ৩৪ ফুট, ভীত হবে ৫ ফুট

৩২৮ কোটি টাকা ব্যয়ে বেনাপোল সড়কের ৩৮ কিলোমিটার ডাবল লেনের কাজ শুরু অক্টোবরে

জাহিদ আহমেদ লিটন, যশোর | প্রকাশিত ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০১:০৩:০০

১৯২৫ সালের হাইওয়ে এ্যাক্টে বলা হয়েছে মহাসড়কের পাশে কোন গাছ থাকবে না। পৃথিবীর উন্নত দেশের মহাসড়কের পাশেও কোন গাছ নেই। কিন্তু যশোর- বেনাপোল মহাসড়কের পাশের প্রবীণ ঐতিহ্যবাহী গাছগুলো রেখেই অক্টোবর মাসে ডাবল লেনের কাজ শুরু হচ্ছে। গত মঙ্গলবার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এ কাজ শুরুর নথিতে অনুমোদন করেছেন। ৩২৮ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়কটি যশোরের দড়াটানা মোড় মুজিব সড়ক থেকে বেনাপোলের নো-ম্যান্স ল্যান্ড জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত ৩৮ কিলোমিটার উন্নয়ন করা হবে। সড়কটি সর্বসাকুল্যে ৩৪ ফুট চওড়া ও ৫ ফুট গর্ত করে বালি ফিলিংয়ের মাধ্যমে ভিত তৈরি করা হবে বলে জানিয়েছে যশোর সড়ক ও জনপথ বিভাগ। 
যশোরবাসীর দীর্ঘদিনের জল্পনা-কল্পনা ছিল যশোর- বেনাপোল সড়কটি চার লেনে উন্নীত হচ্ছে। এ জন্য সরকারি বরাদ্দও ঝুলে রয়েছে। কিন্তু যশোরবাসীর সে আশা ছিল রাতে দেখা স্বপ্নের মতো। কারণ কশ্মিনকালেও যশোর-বেনাপোল সড়কটি চার লেনে উন্নীতকরণের কোন পরিকল্পনা সড়ক বিভাগ গ্রহণ করেনি। তারা এটিকে ডাবল লেনে উন্নীতকরণের প্রকল্প গ্রহণ করে। কিন্তু প্রচার হয় যশোর-বেনাপোল সড়ক চার লেন করা হচ্ছে। এক পর্যায়ে বেনাপোল সড়কের এ প্রকল্পটি সড়কের পাশের ঐতিহ্যবাহী প্রবীণ গাছ কাটা, না কাটা নিয়ে ঝুলে থাকে। পরে সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং জেলা পরিষদসহ মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে পুরনো দিনের গাছগুলো রেখেই সড়কটি ডাবল লেনে উন্নীত করা হবে। সে মোতাবেক সড়ক ও জনপথ বিভাগ টেন্ডার আহ্বান করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। গত মঙ্গলবার মন্ত্রণালয় ঠিকাদার নিয়োগ ও কাজ শুরুর নথিতে অনুমোদন করেছে। ফলে আগামী অক্টোবর মাসের শেষ সপ্তাহ নাগাদ যশোরের আলোচিত বেনাপোল সড়কের ডাবল লেনের কাজ শুরু হচ্ছে বলে যশোর সড়ক বিভাগের সংশ্লিষ্ট সূত্রটি নিশ্চিত করেছে।
যশোর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, যশোর-বেনাপোল সড়কটি ডাবল লেনে উন্নীত হচ্ছে। ডাবল লেনের অর্থ চার লেন নয়। সড়কটি সর্বসাকুল্যে ১০ ফুট চওড়া হবে। মাঝখানের কোন ডিভাইডার থাকবে না। দু’টি প্যাকেজে সড়কটির ৩৮ কিলোমিটার জুড়ে এ উন্নয়ন কাজ করা হবে। মোট ৩২৮ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়কটি ২৪ ফুট থেকে ৩৪ ফুটে উন্নীত করা হচ্ছে। সড়কের দু’পাশেই ৫ ফুট করে বৃদ্ধি করা হচ্ছে। আর সড়কটি খুঁড়ে সাড়ে ৪ থেকে ৫ ফুট গর্ত করে ভীত তৈরি করা হবে। এ গর্তে প্রথমে বালি ফিলিং করা হবে, এরপর খোয়া ও পাথর মিশ্রিত বালি ফিলিং ও পরে ৩ থেকে ৫ ইঞ্চি বিটুমিন সারফেজ ( পিচ ও পাথরের আস্তরণ) করা হবে। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে কাজটি শেষ করা হবে। 
তিনি বলেন, সড়কের পুরনো ঐতিহ্যবাহী গাছগুলো রেখেই ডাবল লেন করা হচ্ছে। তবে গাছ থাকার কারণে সড়কটির কোন কোন অংশে চওড়া কমবেশী হচ্ছে। যেখানে গাছ নেই, সেখানে সর্বোচ্চ ৩৪ ফুট চওড়া হবে ও যেখানে গাছ রয়েছে সেখানে সাধ্য অনুযায়ী চওড়া করা হবে। এ কারণে সড়কটি সমান্তরাল চওড়া হচ্ছে না।
নির্বাহী প্রকৌশলী আরো বলেন, সড়ক উন্নয়নের এ কাজটি যে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানই করুক না কেন, কোনভাবেই তাদেরকে ছাড় দেয়া হবে না। সিডিউল অনুযায়ী সকল কাজ বুঝে নেয়া হবে। যদিও যশোর সড়ক বিভাগে লোকবল সংকট রয়েছে। তারপরও এ কাজ শুরুর আগেই এসও এবং এসডিও নিয়োগ দেয়া হবে। এছাড়া জরুরী প্রয়োজনে তিনিসহ সড়ক বিভাগের পদস্থ কর্মকর্তারা নির্মাণস্থল ভিজিট ও তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ

খুলনায় ৫ জনের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ

খুলনায় ৫ জনের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ

১৩ নভেম্বর, ২০১৮ ০১:০২













ব্রেকিং নিউজ

খুলনায় ৫ জনের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ

খুলনায় ৫ জনের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ

১৩ নভেম্বর, ২০১৮ ০১:০২