খুলনা | বুধবার | ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ১০ আশ্বিন ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

নগরবাসীর কল্যাণে আজীবন সম্পৃক্ত থেকে কাজ করে যাবো : মেয়র মনি

নতুন কোন করারোপ ছাড়াই কেসিসি’র ৬শ’ ৩৭ কোটি টাকার বাজেট 

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:৩৭:০০

বাস্তবায়নের সক্ষমতা কমলেও ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জন্য ৬শ’ ৩৭ কোটি ৯ লক্ষ ৮৬ হাজার টাকার একটি চ্যালেঞ্জিং বাজেট ঘোষণা করেছে খুলনা সিটি কর্পোরেশন। সরকার ও বিভিন্ন দাতা সংস্থার প্রতিশ্র“তিকে গুরুত্ব দিয়ে সিটি মেয়র মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় নগর ভবনের শহিদ আলতাফ মিলনায়তনে জনাকীর্ণ সম্মেলনে এ বাজেট ঘোষণা করেন। একই সাথে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের ২শ’ ৫৫ কোটি ৭৯ লক্ষ ২৯ হাজার টাকার সংশোধিত বাজেটও ঘোষণা করেন তিনি। বিগত বছরে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হয়েছে শতকরা ৫৮.০২৯ ভাগ। এর মধ্যে নিজস্ব তহবিলে অর্জন ৭০.৬৬ ভাগ এবং সরকার ও বিভিন্ন দাতা সংস্থার বিশেষ প্রকল্পে অর্জন শতকরা ৪২.৩১ ভাগ।
কেসিসি’র অর্থ ও সংস্থাপন স্থায়ী কমিটির সভাপতি কাউন্সিলর শেখ মোঃ গাউসুল আজমের সভাপতিত্বে এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (যুগ্ম-সচিব) পলাশ কান্তি বালার পরিচালনায় বাজেট ঘোষণা অনুষ্ঠানে কাউন্সিলর, সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর, কর্মকর্তা, নগরীর বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও সাংবাদিকগণ উপস্থিত ছিলেন। 
লিখিত বক্তব্যে সিটি মেয়র বলেন, ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে রাজস্ব ব্যয় ধরা হয়েছে ১শ’ ৮১ কোটি ৮৯ লক্ষ ৭৮ হাজার টাকা এবং সরকারি অনুদান ও বৈদেশিক সাহায্য পুষ্ট উন্নয়ন খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪শ’ ৫৫ কোটি ২০ লক্ষ ৮ হাজার টাকা। নিজস্ব আয় বৃদ্ধির পরিকল্পনা, সরকার ও বিভিন্ন দাতা সংস্থার প্রতিশ্র“তি এবং জনসাধারণের চাহিদার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে এ বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত বাজেটকে উন্নয়নমুখী হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ বাজেটে নতুন কোন করারোপ করা হয়নি। নগরীর সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নসহ জলাবদ্ধতা নিরসন, শহর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে বাজেটে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। অবকাঠামো উন্নয়নের সাথে সাথে সেগুলি রক্ষণাক্ষেণের জন্য বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। নাগরিক সেবা সম্প্রসারণ ও সেবার মানোন্নয়নের পরিকল্পনা গ্রহণের পাশাপাশি এ বাটেজে অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন, পার্ক, ধর্মীয় উপসনালয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন এবং কেসিসি’র বিভিন্ন বিভাগ ও শাখা অটোমোশনের আওতায় আনা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া রোগ প্রতিরোধে মশক নিধনের সাথে সাথে স্বাস্থ্য সেবার উন্নয়নে। 
বাজেটের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা দিতে গিয়ে সিটি মেয়র বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে যে ক্ষতি নিয়মিত হচ্ছে তা মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলা এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের স্বনির্ভর করে গড়ে তোলার দিক নির্দেশনা রাখা হয়েছে এ বাজেটে। নিজস্ব সংস্থাপন ব্যয় মিটিয়ে নগরীর বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের জন্য রাজস্ব খাত থেকে এ বাজেটে ৬৯ কোটি ৬৫ লক্ষ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) খাত থেকে থোক ও বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৭৭ কোটি ৫১ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা। এছাড়া ২০১৮-১৯ অর্থবছরে জাতীয় এডিপিতে কেসিসি’র ২টি প্রকল্পে ৯৫ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। 
বাজেট অনুষ্ঠানে কেসিসি মেয়র জানান, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ‘‘খুলনা মহানগরীতে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্পে’’ ১২ কোটি ৫৭ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। ‘‘খুলনা সিটি কর্পোরেশনের গুরুত্বপূর্ণ ও ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা মেরামত ও উন্নয়ন প্রকল্পে’’ বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৮৩ কোটি ২২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। 
সিটি মেয়র বলেন, নগরীর সার্বিক উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণের জন্য আামরা সরকারের পাশাপাশি ওয়ার্ল্ড ব্যাংক, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, জার্মান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, ইউএনডিপি, ইউনিসেফ, এফএও, বিল এন্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন, জার্মান উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা (জিআইজেড) সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সাথে কাজ করি। তারও আমাদের প্রতি সহযোগিতার হাত প্রসারিত করেছে। বর্তমানে বিভিন্ন দাতা সংস্থার ১৩টি উন্নয়ন প্রকল্প খুলনা সিটি কর্পোরেশন এলাকায় চলমান রয়েছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এসব প্রকল্পে ২৮১ কোটি ৮৮ লক্ষ ৬৮ হাজার টাকার উন্নয়ন সহায়তা পাওয়া যাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। 
বাজেট অনুষ্ঠানে সাংবাদিক ও নাগরিকবৃন্দের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে সিটি মেয়র বলেন, বর্তমান পরিষদ নাগরিক সেবা বৃদ্ধির পাশাপাশি অনেক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। তবে কিছু কাজ চলমান রয়েছে যা নতুন পরিষদ এসে সম্পন্ন করবেন। 
অন্য এক প্রশ্নের জবাবে সিটি মেয়র বলেন, বিগত অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়ন হার ৫৮.০২৯%। সরকার ও দাতা সংস্থা থেকে আশানুরূপ বরাদ্দ না পাওয়ার কারণে বাজেটের কাঙ্খিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হয়নি। তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, বিএমডিএফ (বাংলাদেশ মিউনিসিপ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফান্ড) নগরীর বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ১শ’ ১১ কোটি টাকা প্রদানের প্রতিশ্র“তি দিলেও পরবর্তীতে কোন অর্থ ছাড় না করায় গৃহীত প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। সিটি মেয়র আরো বলেন, খুলনা আমার প্রিয় নগরী। দায়িত্বশীল না থাকলেও এ নগরীর মানুষের কল্যাণে আজীবন সম্পৃক্ত থেকে কাজ করে যাবো। তিনি কেসিসি’র নতুন পরিষদকে স্বাগত জানান এবং তাদের সার্বিক সফলতা কামনা করেন। 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ












তৃতীয় ফাইনাল নাকি স্বপ্ন ভঙ্গ

তৃতীয় ফাইনাল নাকি স্বপ্ন ভঙ্গ

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:৫৫