খুলনা | বুধবার | ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ১০ আশ্বিন ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

রহস্যময় আবে যমযম কূপ

মাওঃ মুহাম্মদ মাহফুজুর রহমান আশরাফী। | প্রকাশিত ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০৯:০০

আবে যমযম কূপ বিশ্বের সকল মানুষের কাছে একটি পরিচিত নাম। এই কূপের ভিতর রয়েছে এক রহস্যময় বরকতপূর্ণ ইতিহাস। হযরত ইব্রাহিম (আঃ) এর স্বীয় পুত্র হযরত ইসমাইল (আঃ) কে কেন্দ্র করে এই আবে যমযম কূপের সৃষ্টি। মহান আল্লাহর এক নেয়ামতের নির্দশন এই যমযম কূপ।
আবহমান যুগ যুগ ধরে মানুষ এই কূপের সুপেয় পানি পান করে আসছে। যমযম কূপ যে মহাকালের স্বাক্ষী হিসেবে বিদ্যমান তার একটি বিবরণ নিম্নে তুলে ধরা হলোঃ
পবিত্র যমযম কূপের সূচনা
এক অলৌকিক ও অত্যশ্চর্য উপায়ে পবিত্র যমযমের সূচনা হয়েছে। যে ঘটনা সপ্তাকাশে থেকে যমীন পর্যন্ত এক সূত্রে গাঁথা ছিল। যে ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট ছিলেন ফেরেশতা কূল শিরোমনি হযরত জিব্রাইল (আঃ) আল্লাহর প্রিয় বন্ধু হযরত ইব্রাহিম (আঃ) তদীয় পত্মী হযরত হাজেরা (রাঃ) ও দুগ্ধপোষ্য শিশু হযরত ইসমাইল (আঃ)। 
পবিত্র যমযম কূপের অবস্থান ঃ
আজ থেকে প্রায় পাঁচ হাজার বছর পূর্বে এই আবে যমযম কূপের জন্ম হয়। পবিত্র যমযম কূপ কাবা শরিফের পূর্ব দিকে হাজরে আসওয়াদের কোন বরাবর প্রায় একুশ মিটার দূরত্বে মাতাফে অবস্থিত। বর্তমানে তাওয়াফের ফ্লোর থেকে (১.৫৬) মিটার নিচে যমযম কূপের উপরিভাগের অবস্থান। কূপের মুখের ব্যাস হচ্ছে (৩.৬০) মিটার। যমযম কূপের সর্বমোট গভীরতা উপর থেকে নিচ পর্যন্ত (৩০) ত্রিশ মিটার।
রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) এর দাদার যমযমের সন্ধান লাভঃ
“আর রাহীকুল মাখতুম কিতাবে লেখা আছে”ঃ
আঃ মুত্তালিব স্বপ্নে দেখলেন, তাকে যমযম কূপ খননের নির্দেশ দেয়া হচ্ছে, স্বপ্নের মধ্যে তাকে স্থানও দেখিয়ে দেয়া হলো, নিদ্রা হতে জাগ্রত হয়ে তিনি যমযম কূপ খনন করতে শুরু করলেন, খননকালে দুইটি বস্তু আবিষ্কৃত হলো যা বনুজুরহাম গোত্র মক্কা হতে চলে যাওয়ার সময় যমযমের মধ্যে ফেলে গিয়েছিল। বস্তু দুটি ছিল। তরবারী ও স্বর্ণ হরিণ। আঃ মুত্তালিব ঐ তরবারী দিয়া কাবা গৃহের দরজা তৈরি করলেন এবং স্বর্ণ হরিণ দুইটি ও দরজায় বসাইয়া দিলেন এবং হাজীদিগকে যমযম কূপের পানি পান করানোর ব্যবস্থা করলেন।
ল্যবারেটরির গবেষণায় যমযমের পানি ঃ
১৯৭১ সালের কথা। মিসরীয় একজন ডাক্তার ইউরোপীয় প্রেসকে এক পত্র লিখে জানায় যমযম কূপের পানি পান করা উপযুক্ত নয়। যুক্তি হিসেবে এই ডাক্তার লিখেছিল কাবাঘর সমুদ্র পৃষ্ট থেকে নিচে অবস্থিত এবং মক্কা শহরের কেন্দ্রস্থলে হওয়ার কারণে শহরের সব দূষিত পানি মাটির নিচে দিয়ে যমযম কূপে এসে পড়ে। এই উদ্বেগজনক কথাটি বাদশাহ ফয়সালের কাছে পৌছায়, এবং তাৎক্ষনিকভাবে বাদশা কৃষি ও পানি সম্পদ মন্ত্রনালয় নির্দেশ দেন। একজন কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার-এর মাধ্যমে ইউরোপীয় ল্যাবরেটরিতে আবে যমযম কূপের পানি পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হয় এবং বিশেষভাবে প্রমাণিত হয় এই কূপের পানি সকল পানি থেকে বিশুদ্ধ। এমননি যুগযুগ ধরে যমযম কূপের পানি বোতলে রেখে পরে পরীক্ষা করা হলে রিপোর্টে আসে অন্য পানির তুলনায় যমযম কূপের পানি অনেক উন্নত ও ভালো।
পবিত্র যমযমের পানির বৈশিষ্ট্য ও ফযিলত ঃ
(১) সকল তথ্য প্রমানে পবিত্র যমযম পৃথিবীর সবৃশ্রেষ্ট পানি। এ প্রসঙ্গে নবি করিম (সাঃ) বলেন “দুনিয়ার বুকে সর্বশ্রেষ্ঠ হচ্ছে পবিত্র যমযম।” (আল-হাদিস)। (২) আবে যমযম এমন এক কূপ যার পানি রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর মুখের লালা মিশ্রিত। যার কারণে এই পানি আরও পবিত্র হয়েছে এবং এর বরকত ও বৈশিষ্ট্য বহুগুনে বৃদ্ধি পেয়েছে। (৩) পবিত্র হজ্জ ও যিয়ারতের উদ্দেশ্য মক্কা মুকাররমায় আগত লোকদের জন্য যমযম হচ্ছে আল্লাহ পাকের পক্ষ থেকে সর্বোত্তম প্রত্যক্ষ উপহার। যা পান করার মাধ্যমে তারা শারিরীক ও মানসিক উভয় প্রকার ব্যাধি থেকে পরিত্রাণ লাভ করতে পারে। (৪) যদি কোন ব্যক্তি রোগমুক্তির উদ্দেশ্য যমযম কূপের পবিত্র পানি পান করে, তাহলে আল্লাহ তায়ালা সকল রোগ থেকে মুক্তি দেয়। হাদিসে শরীফে আছে- “পবিত্র যমযম যে নিয়তে পান করা হয় আল্লাহ পাক তা পূর্ণ করেন।” (সুনাহে ইবনে মাজাহ ১০১৮/২) (৫) এই আবে যমযম কূপের পবিত্র পানি দাঁড়িয়ে পান করতে হয়। (৬) যমযম কূপের পানি কখনও শুকিয়ে যায়নি। সব সময়ই পানির চাহিদা পূরণ করেছে। প্রথম আবিষ্কার হওয়ার পর পানির স্বাদ গন্ধ এবং লবনাক্ততার কম্পোজিশনে কোনো পরির্তন হয়নি। (৭) হাজীগণ তৃপ্তি সহকারে যমযম কূপের পানি পান করে এবং লক্ষ লক্ষ গ্যালন পানি নিয়ে যায়, কিন্তু কখনও এ পানি কমতে দেখা যায় না। (৮) নবী করিম (সাঃ) যমযম কূপের পানি রুগীদের উপর ছিটাইয়া দিতেন। তাহনীকের সময় (বাচ্চার মুখে প্রথম খাদ্য) হযরত হাসান-হোছাইনের মুখে যমযমের পানি দেওয়া হয়। (৯) মিরাজের রাতে হযরত জিব্রাঈল (আঃ) হুজুর (সাঃ) এর ছিনা চাক করিয়া অথাৎ ফাঁড়িয়া ক্বলব যমযমের পানি দ্বারা ধুইয়া ছিলেন। (১০) শহরের সরবরাহ করা পানিতে ক্লোরিন অথবা অন্যান্য কেমিক্যাল মিশিয়ে বিশুদ্ধ করা হয়, কিন্তু যমযমের পানিতে আজ পর্যন্ত ক্লোরিন বা অন্য কোনো উপাদান মেশানো হয়নি। (১১) বিশ্বের প্রায় সব জলাশয়ের পানির স্বাদ-পরিবর্তিত হয় কিন্তু যমযমের পানি কখনই বিশুদ্ধতা হারায়নি। এর স্বাদ বর্ণ গন্ধের কোন পরিবর্তন হয়নি।

(লেখকঃ বিশিষ্ট মুফাস্সিরে কোরআন ও প্রভাষক, মাতৃভাষা ডিগ্রী কলেজ। শরণখোলা, বাগেরহাট)
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ


পবিত্র আশুরা  ২১ সেপ্টেম্বর

পবিত্র আশুরা  ২১ সেপ্টেম্বর

১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০


হজে গুনাহ মাফ হয়

হজে গুনাহ মাফ হয়

১৬ জুলাই, ২০১৮ ১৩:২৫

শাওয়ালের ছয় রোজা

শাওয়ালের ছয় রোজা

২০ জুন, ২০১৮ ১৩:১১

দুই ঈদের রাত খুবই বরকতময়

দুই ঈদের রাত খুবই বরকতময়

১৪ জুন, ২০১৮ ০১:৪৫




শবে কদর কবে? 

শবে কদর কবে? 

১০ জুন, ২০১৮ ০১:০৯


ফিতরা হলো রোজার যাকাত 

ফিতরা হলো রোজার যাকাত 

০৮ জুন, ২০১৮ ০১:৩৯


ব্রেকিং নিউজ












তৃতীয় ফাইনাল নাকি স্বপ্ন ভঙ্গ

তৃতীয় ফাইনাল নাকি স্বপ্ন ভঙ্গ

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:৫৫