খুলনা | মঙ্গলবার | ১৩ নভেম্বর ২০১৮ | ২৯ কার্তিক ১৪২৫ |

মাদক কারবারীরা কি অপ্রতিরোধ্য?

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:১০:০০

মাদক কারবারীরা কি অপ্রতিরোধ্য?

খুব বেশিদিন আগের কথা তো নয়, দেশব্যাপী মাদকবিরোধী আন্দোলনে সবাই খুশি হয়েছিল এই ভেবে যে, এবার অন্তত মাদকের অবাধ প্রবেশ বন্ধ হবে। দেশ ও জাতি এই মরণনেশার ছোবল থেকে রক্ষা পাবে। তবে বাস্তবে তা হয়নি। না হওয়ার পেছনেও অবশ্য কারণ রয়েছে। অনেকে মনে করেন, মাদকবিরোধী আন্দোলনে মাদকের সঙ্গে জড়িত মূল হোতারা বরাবরই পার পেয়ে যায়। যে সব চুনোপুঁটি ধরা পড়ে এতে মাদকের পাচার, বিস্তার এবং সরবরাহে কোনো প্রভাব ফেলে না। যখনই কোনো মাদকবিরোধী অভিযান চালানো হয় তখনই মাদক সিন্ডিকেট সতর্ক হয়ে যায়। তারা নিজস্ব কোড ব্যবহার করে নিজস্ব পদ্ধতির মাধ্যমে মাদক আদান-প্রদান ঠিকই অব্যাহত রাখে। আবার যখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক মনে হয় তখন আগের মতোই অবাধে এই কাজ করে যায়। 
চলতি বছরের এপ্রিল-মে মাসে শুরু হওয়া মাদকবিরোধী সাঁড়াশি অভিযানে প্রায় আড়াই শতাধিক মাদক কারবারী ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হওয়ার পরও এখনো দেশজুড়ে হাত বাড়ালেই মিলছে ইয়াবা। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, মাদকের গডফাদাররা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায়, কিছু চুনোপুঁটি নিহত হওয়া এবং সীমান্ত ‘অরক্ষিত’ থাকায় মাদকের স্রোত ঠেকানো যাচ্ছে না। ‘চল যাই যুদ্ধে, মাদকের বিরুদ্ধে’-এমন শ্লোগান নিয়ে শুরু হওয়া অভিযানের পর গত ৩ মাসে শুধু পুলিশ ও র‌্যাব উদ্ধার করেছে কোটি পিসেরও বেশি নিষিদ্ধ ইয়াবা ট্যাবলেট। বাস্তব চিত্র যদি হয় এমন তাহলে এই অভিযানের সার্থকতা কী এমন প্রশ্ন উঠতেই পারে।
মূলত ইয়াবার প্রধান উৎস মিয়ানমার। বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের দুই পারের পাচারকারী সিন্ডিকেটগুলো এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছে। ভারতের কিছু অংশ ও থাইল্যান্ড থেকেও অবাধে ইয়াবা আসছে। এই প্রতিবেশী দেশ থেকে নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে আসে ইয়াবা। মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) বেশিরভাগ সদস্য সরাসরি জড়িত ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে এবং তাদের সহযোগিতা করে আসছে দু’দেশের পাচারকারী সিন্ডিকেটগুলো-এমন অভিযোগ অমূলক নয়।
মাদক নিয়ন্ত্রণ করতে হলে এর উৎসমূলে হাত দিতে হবে। মাদক সম্রাটদের ছাড় দিয়ে বা সীমান্ত খোলা রেখে মাদকের অভিযান চালালে তা যে কোনো কার্যকর ফল বয়ে আনবে না তা ইতোমধ্যে প্রমাণ হয়ে গেছে। শর্ষের মধ্যে ভূত থাকলে সে শর্ষে দিয়ে ভূত ছাড়ানো অসম্ভব। সীমান্তে যারা মাদক প্রবেশ ঠেকাবে তাদের বিরুদ্ধে মাদক পাচার ও দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ ও বিস্তারে যুক্ত থাকার অভিযোগ লজ্জার এবং উদ্বেগের। মাদককে কেন্দ্র করে যে শক্ত সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে এর মূলে আঘাত করে এবং মূলোৎপাটনের মাধ্যমেই কেবল মাদক নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে বলে মনে করি।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ



দখলমুক্ত হোক খুলনার সড়ক মহাসড়ক

দখলমুক্ত হোক খুলনার সড়ক মহাসড়ক

১১ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:১০



ভেজাল থেকে পরিত্রান চায় মানুষ

ভেজাল থেকে পরিত্রান চায় মানুষ

০৮ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:১০




দস্যুমুক্ত সুন্দরবন!

দস্যুমুক্ত সুন্দরবন!

০৪ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০৫




ব্রেকিং নিউজ

খুলনায় ৫ জনের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ

খুলনায় ৫ জনের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ

১৩ নভেম্বর, ২০১৮ ০১:০২