খুলনা | বুধবার | ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ১০ আশ্বিন ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

শরণখোলায় আশ্রয়ন প্রকল্পে দরিদ্রদের  গৃহ নির্মাণ কাজে চলছে হরিলুট

মামুন আহম্মেদ, বাগেরহাট  | প্রকাশিত ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:১০:০০

শরণখোলায় আশ্রয়ন প্রকল্পে দরিদ্রদের  গৃহ নির্মাণ কাজে চলছে হরিলুট


বাগেরহাটের শরণখোলায় প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত সবার জন্য বাসস্থান নিশ্চিত করার লক্ষে, জমি আছে ঘর নাই, নিজ জমিতে গৃহ নির্মাণ আশ্রয়ন-২, প্রকল্পের আওতায় হত দরিদ্রদের জন্য আধাপাকা বসত ঘর নির্মাণের কাজ নিয়ে হরিলুট শুরু হয়েছে। উপজেলার চারটি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে ওই প্রকল্পের ঘরগুলো নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। প্রতিটি ঘর ও টয়লেট নির্মাণের অনুকূলে লাখ টাকা করে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সভাপতি করে ৫ সদস্যের প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির মাধ্যমে বসত ঘরের নির্মাণ কাজ চলছে উপজেলা জুড়ে। তবে নিয়মনীতি উপেক্ষা করে ঘরগুলো বন্টন করার ফলে প্রকৃত হত দরিদ্ররা এ আশ্রয়ন প্রকল্পের সুযোগ থেকে অনেকটা বঞ্চিত হয়েছেন। অনেক ক্ষেত্রে দরিদ্রদের পরিবর্তে ঘর বরাদ্দের নামের তালিকায় স্থান পেয়েছেন সমাজের বিত্তশালীরাও। সরকার দলীয় কিছু নেতা ও প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের যোগসাজসে উপজেলার কোথাও কোথাও আবার সরকারি জমিসহ অন্যের বসতবাড়িতে অনেক ভূমিহীন ব্যক্তিদের নামে ঘর বরাদ্দ দেখানো হয়েছে। এছাড়া ঘর বরাদ্দের নামে অর্থ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে। এমনকি প্রাথমিক ভাবে ঘর বরাদ্দের তালিকায় কারো কারো নাম অর্ন্তভুক্ত থাকলেও সংশ্লিষ্টদের কিছু অসাধু ব্যক্তিকে অনৈতিক সুবিধা না দেয়ায় তালিকা থেকে অনেকের নাম বাদ পড়েছে। পাশাপাশি নির্মাণ কাজের সাথে সংযুক্ত ঠিকাদার গ্র“পের সদস্যরা ইট, বালু, সিমেন্ট, খোয়া, ঢেউটিনসহ অন্যান্য উপকরণ বরাদ্দের চেয়ে কম ও নিম্ন মানের সরবরাহ করছেন। পাশাপাশি মালামাল পরিবহনের খরচ (কেরিং) চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে ভুক্তভোগীদের উপর। অপরদিকে, কিছু স্বার্থেন্নেষী ব্যক্তি নিজ নামে ঘর বরাদ্দ পেয়ে অন্যের নিকট বিক্রি করে দিচ্ছেন।  
সরজমিনে, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত আশ্রয়ন-২ প্রকল্পের আওতায় সুন্দরবন সংলগ্ন উপকূলীয় এলাকা শরণখোলা উপজেলায় দু-দফায় ৬৭২টি ঘর হত দরিদ্রদের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়। প্রতিটি ঘর ও একটি টয়লেট নির্মাণের অনুকূলে ১ লাখ টাকা করে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। ঘর নির্মাণে উপকরণ হিসাবে ইট ৫৭০টির স্থলে ৩৭০টি, সিমেন্ট ৮ ব্যাগের স্থলে ৫ ব্যাগসহ অন্যান্য উপকরণ সঠিকভাবে দেয়া হচ্ছে না। বেড়া, জানালা ও দরজার জন্য ঢেউটিন বরাদ্দ থাকলেও তাতেও ফাঁকি দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা উত্তর কদমতলা, রাজৈর, আমড়াগাছিয়া, বগী, চালিতাবুনিয়া এলাকার কয়েকজন ভূক্তভোগী বলেন, মালামাল পরিবহনের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের থাকলেও তা আমাদের নিজ খরচে পরিবহন করতে হয়েছে। এছাড়া ঠিকাদারগণ ইট, সিমেন্ট, খোয়া, বালু, কাঠ ইত্যাদি বরাদ্দের চেয়েও কম সরবরাহ করছে। এ নিয়ে কোন প্রশ্ন করলে উল্টো বিপদে পড়তে হয়। 
এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগ নেতা ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ হাসানুজ্জামান পারভেজ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দেয়া ঘর নিয়ে উপজেলা জুড়ে এক প্রকার হরিলুট চলছে। যাচাই বছাই ছাড়াই ঢালাও ভাবে ঘর বরাদ্দের তালিকা করায় প্রকৃত দরিদ্ররা অধিকাংশ ক্ষেত্রে বাদ পড়েছে। এতে প্রধানমন্ত্রীর মূল উদ্দেশ্য ব্যহত হচ্ছে। ঠিকাদার সংশ্লিষ্টরা ঘর প্রতি সর্ব সাকুল্যে ৫৫-৬০ হাজার টাকা খরচ করে নিম্ন মানের উপকরণ দিয়ে ঘর তৈরী করে যাচ্ছে। ধানসাগর ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা মোঃ মইনুল হোসেন টিপু বলেন, আমার ইউনিয়নে ঘর বরাদ্দের খবর আমার জানা নাই। যে নিয়মে ঘর নির্মাণ করার কথা তা না করে নিম্নমানের ঘর তৈরী করায় উন্নয়নমুখী সরকারের সুনাম ক্ষুন্ন হচ্ছে। রায়েন্দা ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগে আহ্বায়ক আসাদুজ্জামান মিলন বলেন, হত দরিদ্রদের মাঝে ঘর উপহার দেয়ার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর একটি মহোতি উদ্যোগ। যারা দরিদ্রদের এ ঘর নির্মাণের ক্ষেত্রে অনিয়ম ও দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করছে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ নেয়া উচিত। 
তবে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি লিংকন বিশ্বাস জানান, অনিয়মের বিষয়টি তার জানা নাই, তবে তদন্ত করে অনিয়ম পেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ












তৃতীয় ফাইনাল নাকি স্বপ্ন ভঙ্গ

তৃতীয় ফাইনাল নাকি স্বপ্ন ভঙ্গ

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:৫৫