খুলনা | মঙ্গলবার | ১৩ নভেম্বর ২০১৮ | ২৯ কার্তিক ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

খুলনায় ভোটের রাজনীতিতে ধরাশায়ী জাপা

আশরাফুল ইসলাম নূর | প্রকাশিত ১৪ অগাস্ট, ২০১৮ ০১:৩০:০০

“এই মুহূর্তে দরকার/এরশাদ সরকার। কে বলেছে স্বৈরাচার/এরশাদ মোদের অহঙ্কার।” জেলা জাতীয় পার্টির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তফা শফিকুল ইসলাম গতকাল সোমবার দুপুরে নিজ ফেসবুক ওয়ালের স্ট্যাটাস এটা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কতিপয় নেতার এ ধরনের উৎসাহব্যঞ্জক বাক্যের বাইরে রাজপথে আর কণ্ঠ শোনা যায় না পার্টির। জাতীয় সংসদে বিরোধী দল ও সরকারে থাকা জাতীয় পার্টির তৃণমূলে ভোটের রাজনীতিতে ধরাশায়ী অবস্থা। কয়েকটি নির্বাচনে ফলাফল পর্যালোচনায় এসব তথ্য জানা গেছে।
পার্টির সূত্রমতে, রব-কাশেম কমিটির পর নগর জাপা’র হাল ধরেন সাবেক এমপি আব্দুল গফ্ফার বিশ্বাস ও মোল্লা মুজিবর রহমানের নেতৃত্বাধীন কমিটি। গফ্ফার বিশ্বাসের পদত্যাগের পর থেকে সাবেক সংসদ সদস্য শেখ আবুল হোসেনের নেতৃত্বেই চলছিল নগর জাপা। কিন্তু জাতীয় রাজনীতিতে দলের চেয়ারম্যানের নানান হটকারী সিদ্ধান্তে একের পর এক বিব্রত পরিস্থিতিতে পড়তে হয় নগর জাপাকে। স্থানীয় রাজনীতিতে ইমেজ সংকটে পড়েন তারা। হঠাৎ করে জাপার নগর সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম হত্যা মামলার অন্যতম আসামি মুশফিকুর রহমান গত বছরের ২৮ জানুয়ারি জাতীয় পার্টিতে যোগ দিলে ক্ষোভে ফেটে পড়ে দলের খুলনা তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা। বিরোধ চরম রূপ নেয় যখন সেই মুশফিককেই কেসিসি’র মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করেন দলের চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ। গেল বছরের ১৪ মার্চ খুলনায় এসে মুশফিককে মেয়র প্রার্থী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেয়ার একদিন আগে একযোগে পদত্যাগ করেন নগর জাপার অধিকাংশ নেতা। কেসিসি নির্বাচনে ভরাডুরি পর সেই মুশফিককেও বহিষ্কার করে জাতীয় পার্টি।
এ ব্যাপারে পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও মহানগর শাখার আহ্বায়ক সুনীল সুভ রায় বলেন ‘আমি পার্টির খুলনা নগর কমিটির আহ্বায়কের দায়িত্বে ছিলাম। আমি স্যারকে (দলের চেয়ারম্যান) বলেছি আমি এই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চাই। তাই আমাকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। এখন তারাই দলকে আবার পুনর্গঠনের দায়িত্ব পালন করবেন।’
তবে কিছুটা পরিচ্ছন্ন অবস্থায় আছে জেলা শাখার সাংগঠনিক পরিস্থিতি। গেল ১৪ জুলাই অনুষ্ঠিত জেলা জাতীয় পার্টির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে শফিকুল ইসলাম মধু সভাপতি ও এম হাদীউজ্জামানকে সাধারণ সম্পাদক মনোনীত করা হয়। এছাড়া সিনিয়র সহ-সভাপতি মোস্তফা কামাল জাহাঙ্গীর, যুগ্ম-সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয় মোঃ সাইদ মোড়লকে। তবে অভিভাবকহীন নগর জাতীয় পার্টি। তবে ভোটের রাজনীতিতে ধরাশায়ী দলটি। একদিকে, মহাজোট সরকারের অংশ অপরদিকে জাতীয় সংসদের বিরোধী দলে থাকায় সাংগঠনিক দুর্বলতা ও জনসম্পৃক্ততা হারিয়েছে দলটি। 
বিগত কয়েকটি নির্বাচনের ফলাফল পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, গেল ১৫ মে খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জামানত হারায় সরকারের শরীক জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রার্থী। দলের লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে এক হাজার ৭২টি ভোট পেয়েছেন এসএম শফিকুর রহমান ওরফে মুশফিক। অন্তত ২৩টি কেন্দ্রে ভোট শূন্য গেছে লাঙ্গল প্রতীকের। ২০১৩ সালের ১৫ জুন কেসিসি নির্বাচনে জাতীয় পার্টি কেন্দ্রীয় যুগ্ম-মহাসচিব শফিকুল ইসলাম মধু দোয়াত-কলম প্রতীক নিয়ে মেয়র পদে জামানত হারিয়েছিলেন।
আবার, গেল দু’টি অংশ গ্রহণমূলক জাতীয় নির্বাচনেও জামানত হারিয়ে ছিলেন জাপা প্রার্থীরা। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো মহাজোটের শরীক হিসেবে খুলনা-৩ আসনে ‘লাঙ্গল’ প্রতীকের প্রার্থী ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল গফ্ফার বিশ্বাস। তবে আসনটিতে প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেননি আ’লীগের বেগম মন্নুজান সুফিয়ানও। ফলে শেষ পর্যন্ত উন্মুক্ত ঘোষণা করা হয়। ২০০৮ সালের ওই নির্বাচনে জামানত বাজেয়াপ্ত হয় জাতীয় পার্টির প্রার্থীর। আর আগে, অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা-১ সাবেক সংসদ সদস্য শেখ আবুল হোসেন, খুলনা-২ মিয়া মুসা হোসেন, খুলনা-৩ আব্দুল গফ্ফার বিশ্বাস, খুলনা-৪ মহি মল্লিক, খুলনা-৫ এইচএমএ রউফ ও খুলনা-৬ আসনে স ম বাবর আলী লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। ওই নির্বাচনে স ম বাবর আলী ব্যতীত প্রত্যেকেই জামানত হারিয়েছিলেন।
নগর জাতীয় পার্টির সাবেক সভাপতি আব্দুল গফ্ফার বিশ্বাস এসব বিষয়ে বললেন, ‘এখন জাতীয় পার্টির সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই। তবে জাপা যতদিন আওয়ামী লীগের লেজুর হয়ে থাকবে ততদিন এই দল অস্তিত্ব সংকটে ভুগবে। স্বাতন্ত্রবোধ নিয়ে মানুষের কল্যাণে এককভাবে কাজ শুরু করতে পারলেই নেতৃত্ব যেই থাকুক না কেন এই সংকটের উত্তরণ ঘটবে।’
পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ম-মহাসচিব শফিকুল ইসলাম মধু বললেন, “নগর জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক এড. এস এম মঞ্জুর উল আলম ও মোল্লা শওকত হোসেন বাবুলকে সদস্য সচিব করে ৭৫ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। সাংগঠনিক দুর্বলতা খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে কাটিয়ে উঠবে বলে প্রত্যাশা করছি।”


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ







নির্বাচনী ট্রেনে আওয়ামী লীগ

নির্বাচনী ট্রেনে আওয়ামী লীগ

০৭ অক্টোবর, ২০১৮ ০১:৩০







ব্রেকিং নিউজ

খুলনায় ৫ জনের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ

খুলনায় ৫ জনের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ

১৩ নভেম্বর, ২০১৮ ০১:০২