খুলনা | মঙ্গলবার | ১৩ নভেম্বর ২০১৮ | ২৯ কার্তিক ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

পি সি রায় : অসাম্প্রদায়িক চেতনার বিজ্ঞানী

মোঃ ইনামুল ইসলাম | প্রকাশিত ১১ অগাস্ট, ২০১৮ ০০:০০:০০

১৯১৫ খ্রিস্টাব্দ। কোলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজের রসায়ন বিভাগের এমএসসি ফাইনাল পরীক্ষার ফলাফল প্রস্তুত চলছে। তালিকায় প্রথম শ্রেণিতে একজন মুসলিম ছাত্র কুদরত-ই-খুদা’র নাম উঠে আসে। কলেজের ইতিহাসে রসায়ন বিভাগে এই প্রথম একজন মুসলিম ছাত্র প্রথম শ্রেণি লাভ করছে দেখে প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশ হিন্দু শিক্ষদের চোখ কপালে উঠে। একজন মুসলিম ছাত্র কখনও প্রথম হতে পারে না। তাই সকলে মিলে বিভাগীয় প্রধানকে অনুরোধ করলেন ফলাফল সংশোধনের জন্য। কিন্তু অধিকাংশ শিক্ষকের বিরোধিতা সত্ত্বেও তৎকালীন বিভাগীয় প্রধান নিজের সিদ্ধান্ত মোতাবেক কুদরত-ই-খুদাকে প্রথম শ্রেণি দেন। প্রিয় পাঠক, এই ছোট্ট ঘটনাটি যাকে নিয়ে লিখছি তিনি আর কেউ নন, তিনি ভারতীয় রসায়ন শাস্ত্রের পুরোধা বিশ্বখ্যাত বৈজ্ঞানিক স্যার আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়। যিনি ছিলেন প্রকৃতই অসাম্প্রদায়িকতার এক বিরল দৃষ্টান্ত। আজ ২ আগস্ট ২০১৮ তাঁর ১৫৭তম জন্ম দিন।
তিনি শুধু নিজে আসাম্প্রদায়িকই ছিলেন না বরং সাম্প্রদায়িক চিন্তাধারার মূলোৎপাটনের জন্যও চেষ্টা করেছেন সব সময়। তাঁর বাবার মত তিনি আরবী ও ফারসি ভাষায় পারদর্শী ছিলেন। তাঁদের বাড়ির বিশাল লাইব্রেরিতে ইসলামী ও হিন্দু ধর্মীয় বই-পুস্তক ছিল। তাঁদের বাড়িতে সার্বক্ষণিক একজন মৌলভী নিযুক্ত ছিল। শের-এ বাংলা এ কে ফজলুল হক ছিলেন তাঁর অতি প্রিয় ছাত্র। ফজলুল হকের নির্বাচনে বৃদ্ধ বয়সে খোলা ঘোড়ার গাড়িতে দাঁড়িয়ে ফজলুল হককে জয়ী করার জন্য  কোলকাতাবাসীকে তিনি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছিলেন এই বলে, “ফজলুল হক পায়ের নখ থেকে মাথার চুল পর্যন্ত খাঁটি মুসলমান।” এরকম বহু ঘটনা তাঁর জীবনকে করেছে নন্দিত।
আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায় (পি সি রায়) ১৮৬১ সালের ২ আগস্ট বাংলা ১২৬৮ সালের ১৮ শ্রাবণ খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী রাড়–লি গ্রামের বুনিয়াদী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা হরিশচন্দ্র রায় ছিলেন বহু ভাষায় দক্ষ একজন জমিদার এবং মাতা ভূবন মোহিনী দেবী একজন বাঙালী গৃহিণী। ছোটবেলা থেকেই পিসি রায় ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী। পারিবারিক নাম ছিল ফুলু। তাঁর পিতা এ নাম ধরেই ডাকতেন। মায়ের কাছ থেকে শিক্ষায় হাতেখড়ি পাবার পর পাঠশালা, এরপর বাবার প্রতিষ্ঠিত এম ই স্কুলে ৯ বছর পর্যন্ত পড়ালেখা করেন। পরবর্তীতে কোলকাতার হেয়ার স্কুলে ভর্তি হন। ১৮৭৮ সালে তিনি প্রথম বিভাগে প্রবেশিকা পরীক্ষায় পাশ করেন এবং ১৮৮১ সালে এফ এ পরীক্ষায় দ্বিতীয় বিভাগে পাশ করেন বিদ্যাসাগর প্রতিষ্ঠিত মেট্রোপলিটন কলেজ (বিদ্যাসাগর কলেজ) থেকে। এবং পরবর্তীতে প্রেসিডেন্সি কলেজে বিএসসি ভর্তি হন। ১৮৮২ সালে স্কলারশীপ নিয়ে এডিনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএসসি তে ভর্তি হন। ১৮৮৫ সালে ছাত্র থাকাবস্থায় “সিপাহী বিদ্রোহের আগে ও পরে” বিষয়ে প্রবন্ধ লিখে ভারতবর্ষে ও ইংল্যান্ডে আলোড়ন সৃষ্টি করেন। বিএসসি পাশের পর তিনি একই বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি’র জন্য গবেষণা শুরু করেন। তাঁর গবেষণার বিষয় ছিল “অন পিরিয়ডিক ক্লাসিফিকেশন অফ এলিমেন্টস।” দুই বছরের কঠোর সাধনায় তাঁর গবেষণাকার্য শেষ হয় এবং ১৮৮৭ সালে পিএইচডি ও ডিএসসি ডিগ্রী লাভ করেন। সে সময় তাঁর গবেষণাপত্রটি শ্রেষ্ঠ নির্বাচিত হওয়ায় তিনি ১০০ পাউন্ড “হোপ প্রাইজ” পদকে ভূষিত হন।
ইউরোপ ঘুরে ১৮৮৮ সালে পিসি রায় স্বদেশে ফেরেন এবং প্রেসিডেন্সি কলেজে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে অধ্যপনা শুরু করেন। পরবর্তীকালে কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং ১৯৩৭ সাল থেকে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের Emeritus Professor  হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। শিক্ষার্থীদের সাথে পিসি রায়ের ছিল নিবিড় সম্পর্ক। তিনি ছিলেন চির কুমার। শিক্ষার্থীদের তিনি নিজের ছেলে-মেয়ের মত দেখতেন। বাংলা শিক্ষার্থীরা সহজে অনুধাবন করতে পারে তাই শ্রেণিতে তিনি বাংলায় পাঠদান করতেন। তাঁর বাচনভঙ্গি ছিল অসাধারণ এবং শিক্ষার্থীদের মন খুব সহজে জয় করতে পারতেন। তাঁর বিখ্যাত ছাত্রদের মধ্যে ছিলেন সত্যেন্দ্রনাথ বসু, জ্ঞানচন্দ্র ঘোষ, নীল রতন ধর, পুলিন বিহারী সরকার, মেঘনাদ সাহা, শের-এ বাংলা এ কে ফজলুল হক, ড. কুদরত-ই খুদা, জ্ঞানেন্দ্র নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রফুল্ল কুমার বসু, রাজেন্দ্র লাল দে, অসীমা চ্যাটার্জী প্রমুখ।
অধ্যাপনাকালে তাঁর প্রিয় বিষয় রসায়ন নিয়ে নিত্য নতুন অনেক গবেষণাও চালিয়ে যান। গবেষণা কাজের জন্য সব সময় ৮-১০ জন ছাত্র তাঁর কছে থাকতেন। তাঁর প্রথম মৌলিক গবেষণা খাবারে ভেজাল নির্ণয়ের রাসায়নিক পদ্ধতি উদ্ভাবন সংক্রান্ত। ১৮৯৫ সালে তিনি মারকিউরাস নাইট্রাইট (HgNO2) আবিষ্কার করেন যা বিশ্বব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি করে। এছাড়া পারদ সংক্রান্ত ১১টি মিশ্র ধাতু আবিষ্কার করে তিনি রসায়ন জগতে বিস্ময় সৃষ্টি করেন। গবাদী পশুর হাড় পুড়িয়ে তাতে সালফিউরিক এসিড যোগ করে তিনি সুপার ফসফেট অব লাইম তৈরি করেন। তাঁর নিজস্ব গবেষণাগারেই বেঙ্গল কেমিক্যাল কারখানার সৃষ্টি হয় এবং পরবর্তীকালে ১৯০১ সালে তা কোলকাতার মানিক তলায় ৪৫ একর জমিতে স্থানান্তর করা হয় এবং নতুন নাম রাখা হয় বেঙ্গল কেমিক্যাল এন্ড ফার্মাসিউটিক্যালস যা ভারতবর্ষের শিল্পায়নে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে। বলা যায় বিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে ভারতীয় উপমহাদেশের শিল্পায়নে তাঁর ভূমিকা অনস্বীকার্য। এটি তাঁর অন্যতম প্রধান আবিষ্কার। তিনি মোট ১২টি যৌগিক লবণ ও ৫টি থায়োএস্টার আবিষ্কার এবং ১৪৫টি গবেষণাপত্র প্রকাশ করেন। হিন্দু রসায়ন শাস্ত্রের ইতিহাস লিখে স্যার পিসি রায় ১২০০ শতাব্দী এবং তারও পূর্বে ভারতবর্ষের রসায়ন চর্চার ইতিহাস তুলে ধরে প্রমান করেন যখন ইউরোপ-আমেরিকার মানুষ গাছের ছাল বা বাকল পরে লজ্জা নিবারণ করতো, তখন ভারতবর্ষের মানুষ পারদের ব্যবহার এবং পাতন পদ্ধতি সম্পর্কে অবগত ছিল।
দেশের প্রতি মোহ তাঁকে ইউরোপ থেকে ফিরিয়ে আনে। ব্রিটিশ গোয়েন্দা দপ্তর তাঁর নামের সাথে লিখে রেখেছিল “বিজ্ঞানী বেশে বিপ্লবী”। তিনি স্বদেশী আন্দোলনের প্রথম পর্যায় থেকেই এর সাথে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত ছিলেন। ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ’র ঘোষণাকে কেন্দ্র করে যখন বাংলায় বিপ্লবী আন্দোলন সক্রিয় হয়ে উঠে, তখন গোপনে অস্ত্র ক্রয়ের জন্য তিনি বিপ্লবীদের অর্থ সাহায্য করতেন। ১৯২৫ সালে নিজ জন্মস্থান রাড়–লি’র পাশের গ্রাম কাটিপাড়াতে ‘ভারত সেবাশ্রম’ নামে একটা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করে জন্মভূমি এলাকার মানুষদের চরকায় সুতো কাটার মাধ্যমে স্বদেশী আন্দোলনের প্রতি উদ্বুদ্ধ করেন। উল্লেখ্য, বিজ্ঞান কলেজের বারান্দায় একটা চরকা স্থাপন করে তিনি নিজেও সুতা কাটতেন।
স্যার পিসি রায় বাঙালী জাতিচেতনায় বিশ্বাসী ছিলেন এবং দেশের সমবায় আন্দোলনকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করেন। ১৮৯২ সালে কোলকাতায় বেঙ্গল কেমিক্যাল এন্ড ফার্মাসিউটিক্যালস প্রতিষ্ঠার পর তিনি নিজ জেলা খুলনার মানুষের কর্মসংস্থানের কথা চিন্তা করে এপিসি কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রি এবং সমবায় ভিত্তিক এপিসি টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড (পরবর্তীতে খুলনা টেক্সটাইল মিলস) প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯০৬ সালে তিনি রাড়–লি এবং এর আশেপাশের গ্রামের মানুষকে জড়ো করে ৪১টি কৃষি ঋণদান সমবায় সমিতি গড়ে তোলেন এবং ১৯০৯ সালে নিজ-জন্মস্থানেই এটিকে “সেন্ট্রাল কো-অপারেটিভ (সমবায়) ব্যাংক লিঃ” হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন যা ছিল অবিভক্ত বাংলার তৃতীয় ব্যাংক। ১৯২৩ সালে দুর্ভিক্ষ মোকাবেলায় ধর্মগোলা ও সমবায় ভান্ডার স্থাপনের পরামর্শ দেন। ১৯১৭ সালে বেঙ্গল কেমিক্যাল সমবায় সমিতি, ১৯১৮ সালে বঙ্গবাসী কলেজ কো-অপারেটিভ স্টোর এন্ড কেন্টিন, ১৯২১ সালে বেঙ্গল কো-অপারেটিভ সোসাইটিসহ অনেক সমবায় সমিতি প্রতিষ্ঠা করেন। 
রাড়–লি, কাটিপাড়া, বাঁকা ও খেসরা এই চার গ্রামের নামের আদ্যাক্ষর নিয়ে তাঁর বাবার নামে ১৯০৩ সালে নিজ জমিতে প্রতিষ্ঠা করেন দক্ষিন বাংলার প্রথম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান “আর কে বি কে হরিশচন্দ্র ইন্সটিটিউশন (বর্তমানে কলেজিয়েট ইন্সটিটিউশন)। উল্লেখ্য তাঁর বাবা উপমহাদেশে নারী শিক্ষার উন্নয়নে ১৮৫০ সালে রাড়–লি গ্রামে নিজ পতœীর নামে “ভূবন মোহিনী বালিকা বিদ্যালয়” প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। “আর কে বি কে হরিশচন্দ্র ইন্সটিটিউশনটি কলেজিয়েটে উন্নীত হওয়ার পর প্রথম অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন ঐ প্রতিষ্ঠানের এক সময়ের তুখোড় ছাত্র আবুল কালাম আজাদ। প্রবন্ধ লেখাকালীন তাঁর সাথে কথা বলে জানা গেল, আজও প্রতিষ্ঠান দু’টি স্ব-মহিমায় এগিয়ে চলেছে। ১৯১৮ সালে স্যার পিসি রায়ের অর্থায়নে বাগেরহাট কলেজ স্থাপিত হয় যা পরবর্তীতে তাঁর অনিচ্ছা স্বত্ত্বেও শের-বাংলা এ কে ফজলুল হকের প্রস্তাবে পিসি কলেজ নামে পরিচিত। খুলনার এ পিসি বালিকা বিদ্যালয়, সাতক্ষীরার চাম্পাপুল হাইস্কুল তাঁর প্রতিষ্ঠিত। বিভিন্ন্ মানুষের সহযোগিতা নিয়ে তিনি খুলনার রূপসায় নৈহাটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। উল্লেখ্য স্যার পিসি রায় ১৯২৬ থেকে ১৯৩৬ সাল পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ১ লক্ষ ৩৬ হাজার টাকা অনুদান প্রদান করেন। এছাড়া খুলনার বিএল কলেজ, কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, কারমাইকেল কলেজ, বরিশালের অশ্বিনী কুমার ইন্সটিটিউশন, যাদবপুর যক্ষা হাসপাতাল, চিত্তরঞ্জন ক্যান্সার হাসপাতালসহ প্রায় অর্ধ-শতাধিক প্রতিষ্ঠানে আর্থিক অনুদান দিয়েছেন। তিনি বিজ্ঞান কলেজে তাঁর শেষের ১৫ বছরের সম্পূর্ণ বেতন ঐ কলেজের রসায়নের বিশুদ্ধ ও ফলিত শাখার উন্নয়নে ব্যয় করেন। তিনি রসায়নে সর্বশ্রেষ্ঠ গবেষণাকর্মের জন্য ১৯২২ সালে নাগার্জুন পুরস্কার এবং ১৯৩৭ সালে প্রাণিবিজ্ঞান ও উদ্ভিদবিজ্ঞানে শ্রেষ্ঠ গবেষণার জন্য আশুতোষ মুখার্জী পুরস্কার প্রবর্তন করেন। ১৯০৮ সালে কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে পিএইচডি ডিগ্রী প্রদান করেন। ১৯১১ সালে ব্রিটিশ সরকার অধ্যাপক আচার্যদেবকে ‘কোম্পানিয়ন অব দ্য অর্ডার অব দ্য ইন্ডিয়ান এমপ্যায়ার (সিআইই) উপাধি এবং একই বছর ডারহাম বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে ডিএসসি ডিগ্রী প্রদান করেন। ১৯১৯ সালে ব্রিটিশ সরকার বিশেষ কৃতিত্বের জন্য তাঁকে “নাইট” উপাধি দিয়ে সম্মানিত করেন। তিনি ১৯২০ সালে ভারতীয় বিজ্ঞান কংগ্রেসের সভাপতি পদে নির্বাচিত হন। ১৯৩৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, এবং পরবর্তীকালে মহীশুর ও বেনারস বিশ্ববিদ্যালয় স্যার পিসি রায়কে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রী প্রদান করে।
ফাদার অব নাইট্রইট খ্যাত বিশ্ব বরেণ্য বিজ্ঞানী স্যার আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায় ৭৫ বছর বয়সে এমিরিটাস অধ্যাপক হিসেবে অবসর নেওয়ার পরও আট বছর বেঁচে ছিলেন।  শেষ জীবনে তাঁর স্মৃতি শক্তি কিছুটা লোপ পায় এবং নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে তাঁর সাথে থাকা ছাত্রদের একজনের হাতে মাথা রেখে ১৯৪৪ সালের ১৬ জুন বাংলা ১৩৫১ সালের ২ আষাঢ় ৮৩ বছর বয়সে উপ-মহাদেশের এই কিংবদন্তীর জীবনাবসান হয়। আমরা হয়তো অনেক বড় বিজ্ঞানী পাবো, পাবো অনেক বড় মাপের নেতা, কিন্তু আচার্যদেব যেভাবে মানুষকে ভালোবেসেছেন, যেভাবে সর্বস্ব উজাড় করে দিয়ে মানুষের সেবা করেছেন, সেরকম ত্যাগ-তিতিক্ষা নিয়ে আমাদের মধ্যে আর কবে তাঁর মতো ক্ষণজন্মা মনীষী জন্মগ্রহণ করবেন তা একমাত্র মহান সৃষ্টিকর্তাই জানেন।
লেখক: সহকারী অধ্যাপক (সমাজবিজ্ঞান)
সহকারী পরিচালক, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, খুলনা অঞ্চল, খুলনা।

বার পঠিত

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ


বঙ্গবন্ধুই আমার প্রেরণা 

বঙ্গবন্ধুই আমার প্রেরণা 

১৫ অগাস্ট, ২০১৮ ০০:৫০






সমাজ ও গ্রন্থাগার

সমাজ ও গ্রন্থাগার

০৫ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ ০০:০০


জেরুজালেম ও ফিলিস্তিনিদের ভবিষ্যৎ

জেরুজালেম ও ফিলিস্তিনিদের ভবিষ্যৎ

১০ জানুয়ারী, ২০১৮ ০০:২৩

এই ছবিটি যেন ‘বিরল’ হয়ে না থাকে

এই ছবিটি যেন ‘বিরল’ হয়ে না থাকে

২১ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



ব্রেকিং নিউজ

খুলনায় ৫ জনের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ

খুলনায় ৫ জনের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ

১৩ নভেম্বর, ২০১৮ ০১:০২