খুলনা | বৃহস্পতিবার | ১৫ নভেম্বর ২০১৮ | ১ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

অশ্লীল ও খারাপ কাজ থেকে দূরে রাখে নামাজ

মাওলানা আব্দুল ওয়াদুদ | প্রকাশিত ১০ অগাস্ট, ২০১৮ ০০:০৫:০০

নামাজ হলো ফরজ ইবাদত। ইসলাম পাঁচটি ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। এর দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হলো নামাজ। ঈমানের পরেই যার অবস্থান। কিয়ামতের দিন আল্লাহ তায়ালা বান্দার কাছ থেকে সর্বাগ্রে নামাজের হিসাব নেবেন। আল্লাহ তায়ালা যেহেতু মানুষকে তার ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছেন-সেহেতু কিয়ামতের দিনে নামাজের ব্যাপারে জবাবদিহিতার সম্মুখীন হতে হবে এটাই স্বাভাবিক। পবিত্র হাদিসে রাসুল (সাঃ) বলেছেন, কেউ নামাজের হিসাব সঠিকভাবে দিতে পারলে তার অন্যান্য আমলও শুদ্ধ বলে পরিগণিত হবে। কিন্তু নামাজের হিসাব দিতে গিয়ে কেউ ব্যর্থ হলে বা অশুদ্ধ বলে বিবেচিত হলে তার অন্যান্য আমলও অশুদ্ধ হবে।
এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ‘(হে নবী!) আপনি নামাজ কায়েম করুন। নিশ্চয়ই নামাজ অশ্লীল ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে।’ (সূরা আনকাবুত: ৪৫)। সত্যিকারভাবে নামাজ আদায়কারী ব্যক্তি, যে নামাজের মধ্যে আল্লাহর হুকুম অনুযায়ী প্রত্যেকটি কাজ সম্পাদন করছে, সে নামাজ শেষ হলেও আল্লাহর হুকুম মেনে যাবতীয় অন্যায়-অশ্লীলতা থেকে বিমুক্ত থাকবে এটাই নামাজের শিক্ষা। আর নামাজের মাধ্যমে আল্লাহ বান্দার অতীত অপরাধ মোচন করে দেন। নামাজ আল্লাহর ভয় জাগ্রত করে, বান্দাকে আল্লাহকে ভয় করতে শেখায়। অজু না করে, ঠিকমতো সূরা-কেরাত পাঠ না করে নামাজ আদায় করলে কারো তা বোঝার উপায় নেই। কিন্তু একমাত্র আল্লাহকে ভয় করেই বান্দা সমস্ত লোক চক্ষুর আড়ালেও তার হুকুম লংঘন করতে ভয় পায়। তাই আল্লাহ ভীতি জীবনের সকল ক্ষেত্রে মেনে আসলেই ব্যক্তি যাবতীয় অন্যায় থেকে বিরত থাকতে পারে। এতে একটি অনাচারমুক্ত সমাজ গঠন সহজ হয়। তাই তো বলা চলে, নামাজ বান্দাকে বিনয়ী বানায়। নামাজে বিনীত, বিনম্র হওয়ার মাধ্যমে একজন নামাজী ব্যক্তি তার ব্যক্তি জীবনে বিনয়ী হওয়ার প্রশিক্ষণ পায় যা তার চরিত্রকে সুরভিত করে। এ বিষয়ে পবিত্র কোরআন এ আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে তোমরা সাহায্য প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই নামাজ খুব কঠিন কাজ। কিন্তু বিনয়ী অনুগত লোকদের জন্য তা কঠিন নয়।’ (সূরা বাকারা:৪৫)। নামাজকে সংঘবদ্ধ জীবনের প্রতিচ্ছবিও বলা যায়। কারণ, পুরুষদেরকে জামাতের সঙ্গে নামাজ আদায় করতে হয়। যার মাধ্যমে মুমিনের সংঘবদ্ধতার অপরিহার্যতা প্রমাণিত হয়। জামাতে নামাজ আদায়ের মাধ্যমে সমাজের সবার সুখ-দুঃখের খোঁজ নেয়া যায়। সম্মিলিতভাবে আল্লাহর বিধান জানা এবং মানার ব্যবস্থা হয়। জামাতে নামাজ মুমিনদেরকে মজবুত দেয়ালের মতো ঐক্যবদ্ধ করে গড়ে তোলে-যারা সমস্ত আল্লাহদ্রোহিতার মোকাবিলায় আওয়াজ তুলতে পারে। নামাজ মানুষকে পবিত্র জীবনযাপনে অভ্যস্ত করে। সূরা মায়েদার ৬ নম্বর আয়াতের আলোকে অজু-গোসল সম্পাদন করে পাক-পবিত্র হওয়া নামাজ আদায় করার পূর্বশর্ত। নামাজের জন্য বান্দা পবিত্র হয় যা আর অন্য কোনো কারণে হওয়া এতটা জরুরী নয়। তাই নামাজই মানুষকে পবিত্র-পরিচ্ছন্ন জিন্দেগী যাপনে সহায়তা করে। পরিস্কার থাকার অভ্যাস গড়ে তোলে। সুতরাং আমাদের ইমানের দাবি অনুযায়ী দিনে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা উচিত।

মাওলানা আব্দুল ওয়াদুদ
উপাধ্যক্ষ
তানযীমুল উম্মাহ মাদরাসা, খুলনা শাখা।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ



“তাওবা করার নিয়ম ও পদ্ধতি”

“তাওবা করার নিয়ম ও পদ্ধতি”

২৬ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:১০

চেয়ারে বসে নামায ও শরয়ী হুকুম

চেয়ারে বসে নামায ও শরয়ী হুকুম

১৯ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:১০

“শরীয় বিধানে দেনমোহর”

“শরীয় বিধানে দেনমোহর”

১২ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০৩

যে আগে সালাম দেয় সে অহংকার মুক্ত

যে আগে সালাম দেয় সে অহংকার মুক্ত

০৫ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:১০

“অকাল মৃত্যু” একটি ভ্রান্ত ধারণা

“অকাল মৃত্যু” একটি ভ্রান্ত ধারণা

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:১২


রহস্যময় আবে যমযম কূপ

রহস্যময় আবে যমযম কূপ

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০৯

পবিত্র আশুরা  ২১ সেপ্টেম্বর

পবিত্র আশুরা  ২১ সেপ্টেম্বর

১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০

হজে গুনাহ মাফ হয়

হজে গুনাহ মাফ হয়

১৬ জুলাই, ২০১৮ ১৩:২৫

শাওয়ালের ছয় রোজা

শাওয়ালের ছয় রোজা

২০ জুন, ২০১৮ ১৩:১১


ব্রেকিং নিউজ