খুলনা | বুধবার | ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ১০ আশ্বিন ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

আনুষ্ঠানিক ভাবেই বিলুপ্ত হয়ে গেল ‘সুজা গ্র“প’ 

‘ভাইজান’র অনুসারীরা নেতা মানলেন মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেককে 

শাহীন রহমান | প্রকাশিত ০৯ অগাস্ট, ২০১৮ ০০:০০:০০

খুলনা আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ‘ভাইজান’ হিসেবে পরিচিত প্রয়াত জেলা সাধারণ সম্পাদক এস এম মোস্তফা রশিদী সুজা’র অনুসারীরা তাদের নেতা হিসেবে মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেককে সমর্থন জানিয়েছেন। গত শনিবার নগরীতে কেএমপি ভবনের পাশে স্থানীয় এক যুবলীগ নেতার বাসায় ঐ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ফলে অনেকটা আনুষ্ঠানিক ভাবেই বিলুপ্ত হয়ে গেল ‘সুজা গ্র“প’। এর মধ্য দিয়ে খুলনা আওয়ামীলীগে নতুন মেরুকরণ এখন দৃশ্যমান। গত ২৭ জুলাই মধ্যরাতে সিঙ্গাপুরে কিডনিতে আক্রান্ত হয়ে এস এম মোস্তফা রশিদী সুজা মারা গেলে তার দীর্ঘদিনের অনুসারিরা অভিভাবকহীন হয়ে পড়েন।  
দলীয় সূত্র জানায়, উপস্থিত নেতা-কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে মেয়র খালেক তার বক্তব্যে জানান, তিনি সব সময়েই কর্মীবান্ধব। তার দরজা দলের নেতা কর্মীদের জন্য সব সময়য়েই উন্মুক্ত। তিনি বলেন, সুজার অবর্তমানে তার জায়গা কোনও দিনেও পূরণ হবার নয়। সুজার বিকল্প আমরা কেউই নই। সুজা আমার খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। এ সময়ে মেয়র খালেক আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, সুজার বন্ধু হিসেবে আমার সহযোগিতা তোমরা সব সময়েই পাবে। পরে মেয়র খালেক উপস্থিত সবার সাথে কোলাকুলি করেন। 
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এমন একাধিক নেতা জানান, শ্রমিক লীগের একজন নেতা মূলতঃ এই বৈঠকের উদ্যোক্তা। একজন সাবেক এমপি, একাধিক আইনজীবী, বেশ কয়েকজন সাবেক ছাত্রনেতা, জেলা আওয়ামীলীগে পদে আছেন এমন একাধিক নেতা, সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর, মুক্তিযোদ্ধা, মেয়র খালেকের ঘনিষ্ঠ একজন অধ্যক্ষ, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি/সম্পাদক, সাবেক ভিপি, অঙ্গ সংগঠনের নেতারা এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। 
সুজার সন্তান এস এম খালেদিন রশিদী সুকর্ণ নিজেও কিছুক্ষণ এই বৈঠকে ছিলেন। ঐ রাতেই সুকর্ণ তার অসুস্থ মাকে নিয়ে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশ্যে খুলনা ত্যাগ করেন। নিজেদের মধ্যে প্রায় ঘন্টাখানেক আলোচনার পরে ছাত্রলীগের এক সাবেক নেতার মোটরসাইকেলে মেয়র খালেক বিশেষভাবে আমন্ত্রিত হয়ে ঐ বৈঠকে উপস্থিত হন। সভায় প্রয়াত সুজার কথা বলতে গিয়ে মেয়র খালেক ভারাক্রান্ত হয়ে পড়লে সেখানে আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়।  
জানা গেছে, এই বৈঠকে সুজার অনুপস্থিতিতে তার অনুসারিরা অনেকেই নিজেদের রাজনৈতিক  অনিশ্চিত ভবিষ্যতের কথা তুলে ধরেন। পদবঞ্চিতরা যাতে দলে পদ পদবি পায় সেই ব্যাপারে মেয়র খালেকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বক্তব্য রাখেন। সময়ে অসময়ে মেয়র খালেকের সার্বিক সহযোগিতা দাবি করেন। 
মেয়র খালেক এই প্রতিবেদককে বুধবার টেলিফোনে জানান, আমাদের সবার পরিচয় আমরা বঙ্গবন্ধুর সৈনিক, শেখ হাসিনার কর্মী হিসেবে আমরা তার চলমান উন্নয়নের ধারা এগিয়ে নিয়ে যাবো। জঙ্গিমুক্ত, ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশ গড়বো। তিনি জানান, সুজাকে মেনে চলে এমন নেতা-কর্মীরা আমাকে অভিভাবক হিসাবে দেখতে চেয়েছে। তাদের মধ্যে সুজার সার্বক্ষণিক অভাব বিরাজমান, যা কখনই পূরণ হবার নয়। সুজাকে তারা যেমন নেতা মেনে চলতো আমাকেও তারা তেমন নেতা মেনেছে। মেয়র খালেক বলেন, সুজার কর্মীই হোক আর আমার কর্মীই হোক আমাদের সবার পরিচয়, আমরা আওয়ামী পরিবারের সদস্য। আমাদের সবার লক্ষ্য হলো দলকে শক্তিশালী করা, আগামি নির্বাচনে ঐক্যবদ্ধ থেকে নৌকা মার্কাকে বিজয়ী করা। সেই লক্ষেই আমরা একযোগে সবাই কাজ করে যাবো।
প্রাপ্তসূত্র মতে, সফলতার সঙ্গে এই বৈঠক শেষ হলে সুজার অনুসারিরা আগামীতে মেয়র খালেকের নেতৃত্বে একযোগে কাজ করার অঙ্গিকার করেন। এর পরদিনেই দলীয় কার্যালয়ে তারা মেয়র খালেককে নিয়ে ফটোসেশন করে ছবি ফেসবুকে ছাড়লে বিষয়টি দলের নেতা-কর্মীদের মাঝে সাড়া পড়ে। ছবির পেছনের গল্প অনুসন্ধানে যুবলীগ নেতার বাসায় মেয়রের বৈঠকের খবর বেরিয়ে আসে। জানা গেছে, ঐ রাতে সবাইকে আপ্যায়িত করেন যুবলীগ নেতা ও তার পরিবার। 
 

বার পঠিত

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ






খুলনা-৪ আসনে নৌকার মাঝি কে?

খুলনা-৪ আসনে নৌকার মাঝি কে?

০১ অগাস্ট, ২০১৮ ০২:৩০








ব্রেকিং নিউজ












তৃতীয় ফাইনাল নাকি স্বপ্ন ভঙ্গ

তৃতীয় ফাইনাল নাকি স্বপ্ন ভঙ্গ

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:৫৫