খুলনা | শনিবার | ২৪ অগাস্ট ২০১৯ | ৯ ভাদ্র ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

এমপি সুজার অবর্তমানে পরিবারের পক্ষে ‘রাজনৈতিক নেতৃত্ব’ কে দেবেন?

বিশেষ প্রতিনিধি | প্রকাশিত ২২ জুলাই, ২০১৮ ০০:০৪:০০


খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এস এম মোস্তফা রশিদী সুজার অবর্তমানে এই পরিবার থেকে রাজনৈতিক নেতৃত্ব কে দেবেন, সেই প্রশ্ন এখন জোরেসোরে উঠেছে।  
জানা গেছে, নিজের শরীরে কিডনি প্রতিস্থাপনের পর এস এম মোস্তফা রশিদী সুজা আর রাজনীতিতে আগ্রহী নন, তাঁর শারীরিক অবস্থা রাজনীতির মতো দৌড়-ঝাঁপের সার্বক্ষণিক ব্যস্ততার অনুকূলেও নয়। অন্যদিকে স্ত্রী খোদেজা রশিদীও ক্যান্সারে আক্রান্ত। ফলে ইচ্ছা বা মানসিক সার্মথ্য থাকলেও এস এম মোস্তফা রশিদী সুজা আর আগের মতো রাজনীতিতে সক্রিয় থাকতে পারবেন না। পারিবারিক সূত্র বলছে, চলতি মাসেই সুজার দেশে ফেরার কথা থাকলেও তিনি কবে নাগাদ ফিরবেন সেটা অনেকটা অনিশ্চিত। 
এক সময়ের ছাত্র ইউনিয়ন নেতা মোস্তফা রশিদী সুজা স্বাধীনতার আগেই আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে উঠে এসে বর্তমানে খুলনা জেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে আছেন তিনি।
এদিকে সুজার অবর্তমানে এই পরিবার থেকে রাজনৈতিক ভাবে কে ভবিষ্যতে নেতৃত্ব দেবেন সেটাই এখন দেখার বিষয়। সেক্ষেত্রে সুজার অবর্তমানে তার সন্তান সুকর্ণ যেমন রাজনীতিতে দৃশ্যমান, তেমনি আপন ভাই এস এম মোর্ত্তজা রশিদী দারা নিজেও সুজার অবর্তমানে রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের দাবিদার। দারা খুলনার কিংবদন্তি ছাত্রনেতা, ৯০’র গণঅভ্যুত্থানের রাজপথের সফল নেতা। এর আগে ৮০’র দশক থেকেই খুলনার ছাত্রলীগকে সংগঠিত করেছেন, সুন্দরবন কলেজের ভিপি, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে খুলনার ক্রীড়াঙ্গনে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন তিনি।
অন্যদিকে, এমপি সুজার ছেলে সুকর্ণ দীর্ঘদিন বিদেশে লেখাপড়া করেছেন। বছর চারেক আগে সুকর্ণ দেশে ফিরে আওয়ামী রাজনীতিতে বাবার সঙ্গে সক্রিয় হন। সুকর্ণ গত বছরে অনুষ্ঠিত জেলা পরিষদ নির্বাচনে সদস্য পদে বিজয়ী হন। সুকর্ণ একই সঙ্গে খুলনা থেকে  প্রকাশিত একটি দৈনিকের সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।   
জানা গেছে, সুজার অবর্তমানে পিতার নির্বাচনী আসনসহ অন্যান্য কাজকর্ম ছেলে সুকর্ণই দেখে আসছেন। মোস্তফা রশিদী সুজা নির্বাচন করবেন এমন প্রস্তুতির পাশাপাশি নির্বাচন করবেন না এমন প্রস্তুতিও পরিবার থেকে নেয়া হচ্ছে, যদিও সেটা দৃশ্যমান নয়। 
ছেলে সুকর্ণ আলাপকালে বলেছেন, “আব্বুর শারীরিক অবস্থা এখন ভালোর দিকে, আশা করি তিনি নির্বাচন করতে পারবেন। তিনি নির্বাচন করতে পারবেন না, এমন কথা এখনও আমাদের মাথায় আসেনি।” আগামী নির্বাচনে মোস্তফা রশিদী সুজা শারীরিক কারণে নির্বাচন করতে না পারলে তখন কি হবে, এমন প্রশ্নের জবাবে কিছুটা বিষন্ন হয়েই ছেলে সুকর্ণ জানালেন, এখনও তেমন করে আমরা ভেবে দেখিনি। সুকর্ণ আরও জানান, সেক্ষেত্রে দলের স্থানীয় মুরুব্বি শেখ হেলালসহ অন্য সিনিয়র নেতারা আছেন। তাদের সিদ্ধান্তই আমাদের সিদ্ধান্ত। 
অন্যদিকে, ছোট ভাই মোর্ত্তজা রশিদী দারা আলাপকালে এ প্রতিনিধিকে জানান, ভাইজান (মোস্তফা রশিদী সুজা) নির্বাচন করবেন এমন প্রস্তুতিই আমাদের রয়েছে। তিনি নির্বাচন করবেন না এমনটি এখনও আমরা ভাবিনি। সব কিছুই নির্ভর করছে ভাইজানের শরীরের ওপর, ভাইজানের সিদ্ধান্তের ওপর, দলের সিদ্ধান্তের ওপর। এর বাইরে আর কিছু বলতে চাচ্ছি না আমি। পরিবার থেকে কে হাল ধরবেন, সেই কথা বলার সময় এখনও আসেনি বলে জানান তিনি। 
দলের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, সিঙ্গাপুরে কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য রওনা দেবার আগে মোস্তফা রশিদী সুজা দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করে দোয়া নিয়ে যান। অপারেশনের পর গত কয়েক মাস সিঙ্গাপুরে অবস্থানকালে শেখ হাসিনা নিজেও দফায় দফায় সুজার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর ভ্রাতুষ্পুত্র শেখ হেলাল ও শেখ জুয়েলও দফায় দফায় সিঙ্গাপুরে মোস্তফা রশিদি সুজাকে দেখতে গিয়েছিলেন। 
 

বার পঠিত

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ



জাতীয় পার্টিতে ভাঙনের সুর!

জাতীয় পার্টিতে ভাঙনের সুর!

২৪ জুলাই, ২০১৯ ০০:৩৩











ব্রেকিং নিউজ












পেঁয়াজের বাজার বেসামাল

পেঁয়াজের বাজার বেসামাল

২৪ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:৫৮