খুলনা | বুধবার | ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ১১ আশ্বিন ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

সম্পত্তি ভোগদখলে বহিরাগতরা : রয়েছে গরু-ছাগলের বিচরণ

জরাজীর্ণ ভবন আর জনবল সংকটে খুলনার একমাত্র সরকারি বক্ষব্যাধি হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা ব্যাহত

বশির হোসেন ও মোঃ মোশারেফ হোসেন | প্রকাশিত ১৮ জুলাই, ২০১৮ ০২:৩০:০০

জরাজীর্ণ ভবন আর জনবল সংকটে খুলনার একমাত্র সরকারি বক্ষব্যাধি হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া হাসপাতালে বিভিন্ন গাছসহ সম্পত্তি নিজের মত ব্যবহার করছে স্থানীয় কতিপয় ব্যক্তি। হাসপাতালের বেহাল চিকিৎসা ব্যবস্থা আর অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে সেবা নেয়ার আগ্রহ কমছে রোগীদের। এদিকে ভবন সংস্কারের জন্য পাঁচ কোটি টাকার প্রাক্কলন পাঠালেও এখন পর্যন্ত তা আলোর মুখ দেখেনি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, নগরীর মিরেরডাঙ্গায় সরকারি বক্ষব্যাধি হাসপাতালের জনবল সংকট ব্যপক। হাসপাতালে ১১ জন ডাক্তার থাকার কথা থাকলেও রয়েছে ৬ জন। চিকিৎসকদের জন্য নির্ধারিত আবাসিক ভবন ব্যবহারের অনুপযোগী। তাই কোন চিকিৎসক এখানে আসতেও চায় না। তাছাড়া সিনিয়র স্টাফ নার্স-এর ৯৭টি পদের বিপরীতে রয়েছে ৭২ জন। সম্প্রতি ৭জন নার্স অন্যত্র বদলী হলে আরও সমস্যায় পড়ে হাসপাতালটি। ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারী ও পরিচ্ছন্ন কর্মীসহ ৪৫ জন থাকার কথা থাকলেও রয়েছে মাত্র ১৪ জন। সরকারি বক্ষব্যাধি এই হাসপাতালটিতে ১০০ শয্যা থাকলেও বর্তমান রোগীর সংখ্যা ৫৪ জন মাত্র।
সরেজমিন দেখা যায়, হাসপাতালে বহিরাগত লোকদের আনাগোনা অনেক। এছাড়া রয়েছে স্যাঁতস্যাঁতে নোংরা পরিবেশ। বাথরুম ও ব্যাসিন ব্যবহারের অনুপযোগী। রোগীদের খাবারের মানও নিম্ন। হাসপাতালটিতে এম.ডি.আর রোগীর সংখ্যা ১০ জন। যাদের সংরক্ষিত কক্ষে রাখার কথা থাকলেও তারা অবাধে হাসপাতালের ভিতরে ও বাইরে চলাফেরা করছে। সূত্রমতে, এম.ডি.আর এমন একটি জটিল রোগ যা রোগীর শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে সুস্থ মানুষের দেহে প্রবেশ করে। ফলে সেও দ্রুত আক্রান্ত হয়ে পড়ে। এম.ডি.আর রোগী যত্রতত্র চলাফেরা করায় অন্য রোগীসহ স্বজনরাও রয়েছে প্রচন্ড ঝুঁকির মধ্যে।
এদিকে হাসপাতাল চত্বর গরু-ছাগলের বিচরণ ভূমিতে পরিণত হয়েছে। রাাস্তার উপর গরু-ছাগলের মলের স্তূপ পড়ে আছে। আর হাসপাতালের ভিতরে অনেক ফলদ ও বনজ গাছ রয়েছে, যেগুলো নিয়ন্ত্রণ করে বহিরাগতরা। তারা ইচ্ছামত ফল পাড়ে ও গাছ কাটে। এছাড়া হাসপাতাল কমপ্লেক্স এর জায়গা ব্যবহার করছে স্থানীয় একটি মহল। বিষয়গুলো হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ স্বীকার করলেও তাদের রহস্যজনক নিরবতা নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
এদিকে হাসপাতালে ভবন সংস্কারসহ নতুন করে অবকাঠামো নির্মানের জন্য পাঁচ কোটি টাকার প্রাক্কলন তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে পাঠালেও এখনও তা আলোর মুখ দেখেনি। এ ব্যাপারে গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ জাকির হোসেন বলেন, সরকারি বক্ষব্যাধি হাসপাতালের জন্য মেগা প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। পুরো ভবন নতুন রুপে সাজানোর জন্য পাঁচ কোটি টাকার প্রাক্কলন তৈরি করে পাঠানো হয়েছে। আশা করি এই বাজেটেই টাকা পাওয়া যাবে। টাকা পেলে চলতি বছরেই কাজ শুরু করবেন বলে জানান তিনি।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ












তৃতীয় ফাইনাল নাকি স্বপ্ন ভঙ্গ

তৃতীয় ফাইনাল নাকি স্বপ্ন ভঙ্গ

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:৫৫