খুলনা | শনিবার | ১৯ অক্টোবর ২০১৯ | ৪ কার্তিক ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

সাবেক এমপি আব্দুল গফ্ফার বিশ্বাস  ফের সক্রিয় হচ্ছেন রাজনীতিতে?

আশরাফুল ইসলাম নূর | প্রকাশিত ১৫ জুলাই, ২০১৮ ০২:৩০:০০

রাজনীতিতে ফের সক্রিয় হচ্ছেন খুলনা-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল গফ্ফার বিশ্বাস। গেল ঈদুল ফিতরে স্থানীয় দৈনিকে খুলনাবাসীকে ঈদ শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তিনি। তবে শেষ বয়সে নতুন করে কোন দলে যোগ দিচ্ছেন এ প্রবীণ রাজনীতিক? এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে ‘সময়ের খবর’ মুখোমুখি হয়েছে তাঁর।
খুলনার রাজনীতিতে এক সময়ে বিশ্বাসবাড়ির বিশেষ ভূমিকা ছিল। এ পরিবারের সদস্যরা ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’র রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থাকলেও প্রবীণ রাজনীতিক গফ্ফার বিশ্বাস জীবনের বেশিরভাগ সময় কাটিয়েছেন জাতীয় পার্টির সাথে। কেসিসি’র অন্তত পাঁচ কাউন্সিলর তার নিকট আত্মীয়। থানা আ’লীগের শীর্ষ নেতা তার ছোট ভাই। প্রত্যেকেই রাজনৈতিক পরিমন্ডলে স্ব স্ব পদে খ্যাত। এ জন্যই রাজনীতিতে গফ্ফার বিশ্বাসের প্রত্যাবর্তন নিয়ে আগ্রহ রয়েছে খুলনাবাসীর।
একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি বললেন, “জনগণের সাথে কথা দিয়ে কেউ কথা রাখেনি। বিগত দশ বছরের রাজনীতির চিত্র অতীতের থেকে সম্পূর্ণ ভিন্নধাচের। এখন রাজনীতি হয়েছে টাকা কামানোর মাধ্যম। সেটা ইয়াবা বিক্রি করে হোক আর বিদেশে নারী পাচার করে হোক, রাজনীতিকদের টাকাই যেনো সবকিছু! খুলনার যতো উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড হয়েছে তার হিংসভাগের দাবিদার এরশাদ সরকার। তার শাসনামলে অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে তৃণমূলে, গ্রামবাংলায়। যদিও এখন আর সেই জাতীয় পার্টি নেই। জাতীয় পার্টির নিজস্ব কোন স্বত্ত্বা নেই। পার্টির প্রধানেরও কোন চরিত্র নেই। জাতীয় পার্টি বলতে এখন মানুষ ক্ষমতাসীন দলকেই বোঝেন। একসাথে সরকারে ও বিরোধী দলে থাকায় মানুষের হাসি-ঠাট্টার পাত্র হয়েছে দলটি।” ২০১৪ সালের শুরুতে জাতীয় পার্টির মহানগর সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন তিনি। সেই থেকে প্রায় পাঁচ বছর রাজনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন এ নেতা ফের সক্রিয় হচ্ছেন। তবে কোন দলে? আগামী ঈদুল আযহার পূর্বেই সেটি দৃশ্যমান হবে বলে জানিয়েছেন তিনি নিজেই।
১/১১‘র জরুরী অবস্থার মধ্যে অনেক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, “বিএনপি’র রাজনীতিতে যোগ দিলে ক্ষমতাসীন দলের থেকে পুনরায় তার পরিবারকে তেমন চাপের মুখে পড়তে হয় কি না, এসব ভাবছি। বিএনপি সরকারের আমলেও খুলনা উন্নয়ন বঞ্চিত হয়েছে। তবে বর্তমান সময়ে বিএনপি’র সাথে ক্ষমতাসীনদের রাজনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত আচরণ সচেতন নাগরিকদের কষ্ট দেয়।” 
স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ১৯৮৮ সালে খুলনা-৩ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন আব্দুল গফ্ফার বিশ্বাস। ১৯৯২ সালে গ্রেফতার হন তিনি। পরে ১৯৯৬ সালে বিএনপিতে যোগদানের পর মহানগর বিএনপি’র সহ-সভাপতি পদে দায়িত্ব পালন করেন। অবশ্যই ২০০৪ সালে জাতীয় পার্টিতে যোগ দিয়ে আট বছর পর ঘরে ফেরেন তিনি। রাজনীতির শুরুতেই মুসলিম লীগের যুব সংগঠনটির খুলনা শাখার সভাপতি হলেও জাতীয় পার্টি গঠনের পর হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের হাত ধরে তার দলে ছিলেন দীর্ঘ সময়।
আবার জাতীয় পার্টিতে ফিরবেন কি? এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বললেন, “রাজনীতিতে শেষ বলে কোন কথা নেই। আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির নেতাদের সাথে আলাপ-আলোচনা চলছে। যে দল খুলনার উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে খুলনাবাসীর স্বার্থে সেই দল করবো। রাজনীতিতে আমার চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই। অন্য রাজনীতিকদের মতো অর্থ উপার্জনের হাতিয়ার হিসেবে রাজনীতি করিনি, করতেও চাই না। খুলনার রাজনীতিতে যোগ্য নেতার অভাববোধ করি। যদিও সে শূন্য স্থান পূরণে আমি উপযুক্ত নই। তবে খুলনাবাসীর জন্য শেষ জীবনেও কিছু করে যেতে চাই। ফলে কোন দলে যোগ দেবো সেটা আগামী কোরবানির ঈদের আগেই জানতে পারবেন খুলনাবাসী।”
ক্ষমতাসীন দলে যোগ দিচ্ছেন তাহলে? এমন প্রশ্নের জবাবে মৃদ হেসে আব্দুল গফ্ফার বিশ্বাস বলেন, “মঞ্জুরুল ইমাম, এস এম আব্দুর রব ও সর্বশেষ শহীদ ইকবাল বিথারদের কারা হত্যা করেছে? এটা তো খুলনাবাসী জানেন। এজন্যেও ভাবছি। তবে যে দলেই যোগ দেই না কেন প্রথমেই খুলনাবাসীকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানাবো।”
 

বার পঠিত

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ












ব্রেকিং নিউজ









লবণচরায় এক বছরে তিন দফায় গরু চুরি

লবণচরায় এক বছরে তিন দফায় গরু চুরি

১৯ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:৫৩