খুলনা | বুধবার | ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ১০ আশ্বিন ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

প্রকল্পের মেয়াদ ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত

খানজাহান আলী বিমানবন্দর এবার সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে

নিজস্ব প্রতিবেদক   | প্রকাশিত ১১ জুলাই, ২০১৮ ০২:৩০:০০

অবশেষে বাস্তবায়নের পথে গতি পেল বাগেরহাটের খানজাহান আলী (রহঃ) বিমানবন্দর। বন্দরটি নির্মাণ হবে পিপিপি বা সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে। ২০১৫ সালের সরকারি অর্থায়নে এ প্রকল্প নেয়া হলেও অগ্রগতি হয়নি। তখন ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫৪৪ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। এ অবস্থায় স্থবির প্রকল্পটি পিপিপিতে স্থানান্তর করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এতে প্রকল্পের সংশোধন করে ব্যয় ধরা হয়েছে ২১৭ কোটি টাকা। তার মানে চার বছরের ব্যবধানে ব্যয় উল্টো কমেছে। প্রকল্পের সময়ও দু’বছর বাড়িয়ে ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়েছে। 
গতকাল মঙ্গলবার শেরে বাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা শেষে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান সাংবাদিকদের ব্রিফকালে এসব কথা বলেন। এর আগে, একনেক’র সভায় সভাপতিত্ব করেন একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
একনেকের সভায় ২ হাজার ৯২০ কোটি টাকার ৬ প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। অর্থ প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারি অর্থায়নের পরিবর্তে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারীত্বের (পিপিপি) আওতায় নির্মাণ হবে বিমানবন্দরটি। মূল প্রকল্পের নাম সংশোধন করে রাখা হয়েছে ‘পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি)’ আওতায় বাস্তবায়িতব্য খানজাহান আলী বিমানবন্দর নির্মাণ প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণের জন্য লিঙ্ক প্রকল্প (প্রথম সংশোধিত)। এতে মূল ব্যয় থেকে ৩২৭ কোটি টাকা কমিয়ে ২১৭ কোটি টাকা ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৯৫ কোটি টাকা দেবে সরকার, বাকি ২১ কোটি টাকা দেবে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। প্রকল্পের মেয়াদ দুই বছর থেকে বাড়িয়ে ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়েছে।
সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের মূল প্রস্তাবে ১৬৩ হেক্টর জমি অধিগ্রহণে ব্যয় ধরা ছিল ৪৩ কোটি টাকা। কিন্তু নতুন প্রস্তাবে ৫৪ হেক্টর বাড়তি জমি যোগ হলেও মোট ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে ১৬৯ কোটি টাকা। গত জুন পর্যন্ত প্রকল্পের আর্থিক ব্যয় হয়েছে ৪৩ কোটি টাকা।
বাগেরহাটের সদর ও রামপাল উপজেলার চারটি গ্রাম সংলগ্ন (ফয়লা, হোগলডাঙ্গা, গোবিন্দপুর ও গোদারডাঙ্গা) চলমান এই প্রকল্প এলাকা সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, নিরাপত্তারক্ষীরা বেষ্টনী দেয়া এলাকাটি পাহারা দিচ্ছে। সেখানে বেশ কিছুকাল আগে মাটি ভরাটের বাইরে নতুন কোন কাজ চলমান নেই। প্রকল্পের পশ্চিম দিকে নতুন অধিগ্রহণ করা এলাকায় বেশ কিছু নতুন টিনের ছোট অবকাঠামো দেখা যায়। অধিগ্রহণ হওয়া জমির বর্ধিত মূল্য পেতে গ্রামবাসী নিজ জমিতে এ ধরনের ঘর নির্মাণ করেন বলে জানা গেছে।
মংলা বন্দরকে আরও গতিশীল করতে এবং সুন্দরবনে পর্যটন শিল্প বিকাশের সম্ভাবনা মাথায় রেখে ১৯৯৬ সালের ২৭ জানুয়ারি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার মংলা-মাওয়া-ঢাকা মহাসড়কের পাশে হযরত খানজাহান আলী (রহঃ) বিমান বন্দর নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এরও আগে সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মোহম্মদ এরশাদের সময়ে ওই এলাকায় প্রায় ৪২ হেক্টর জমির উপর একটি শর্ট টেক অফ এন্ড ল্যান্ডিং (স্টল) বিমান বন্দর নির্মাণের ঘোষণা দেয়া হয়েছিল। পরে ওই প্রকল্প আর সামনে এগোয়নি।
গত প্রায় ২২ বছরে প্রকল্পটির বাস্তবায়িত কার্যক্রমের তথ্য থেকে জানা যায়, বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ ১৯৯৭ সালে সেখানে মাটি ভরাট কাজ শুরু করে। প্রায় ৪৪ হেক্টর জমিতে প্রায় ২৪ কোটি টাকায় আংশিক মাটি ভরাট কাজ ছাড়া তখন আর কোন কাজ হয়নি। ২০০১ সালে চারদলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় এসে আবার মাটি ভরাটের কাজ শুরু করে। কিছুদিনের মধ্যে অর্থাভাবে সেই কাজও বন্ধ হয়ে যায়। 
বর্তমান সরকারের সময়ে বাগেরহাট-খুলনা অঞ্চলে মংলা বন্দরকে ঘিরে ধারাবাহিক উন্নয়ন উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই বিমান বন্দর নির্মাণের উদ্যোগ নতুন করে সামনে আনা হয়। পদ্মাসেতু নির্মাণ কাজের পাশাপাশি এই বিমান বন্দর নির্মাণ শেষ করার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এরই অংশ হিসেবে ২০১৫ সালের ৫ মে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (একনেক) সভায় এই বিমান বন্দর নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয় এবং এ জন্য ৫৪৪ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ছাড়ও করা হয়।
বিশিষ্টজনদের মতে, বাগেরহাট শহর, মংলা বন্দর ও বিভাগীয় শহর খুলনার সাথে প্রায় ২৫ মিনিটের সম দূরত্বে নির্মিত হচ্ছে এই বিমান বন্দরটি। বিমান বন্দরটি বিশ^ ঐতিহ্য সুন্দরবনের ইকো ট্যুরিজম, হযরত খানজাহান আলী (রহঃ) মাজার ও বিশ^ ঐতিহ্য ষাটগম্বুজ মসজিদ কেন্দ্রীক পর্যটন শিল্পের দ্রুত বিকাশ, মংলা সমুদ্র বন্দর, মংলা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা, প্রক্রিয়াধীন মংলা-ঢাকা ও মংলা-খুলনা রেলপথ, চিংড়ি শিল্পসহ বেসরকারি শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। এসবের সম্মিলনে অবহেলিত দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক অবস্থা ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি পাবে।
 

বার পঠিত

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ












তৃতীয় ফাইনাল নাকি স্বপ্ন ভঙ্গ

তৃতীয় ফাইনাল নাকি স্বপ্ন ভঙ্গ

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:৫৫