খুলনা | বুধবার | ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ১১ আশ্বিন ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

কেসিসি’র নতুন পরিষদের প্যানেল মেয়র হতে ভেতর-বাইরে দৌড়-ঝাঁপ

আশরাফুল ইসলাম নূর | প্রকাশিত ১০ জুলাই, ২০১৮ ০১:০৫:০০

খুলনা সিটি কর্পোরেশনে নতুন পরিষদে কে কে হচ্ছেন প্যানেল মেয়র? এ প্রশ্ন এখন শুধু নগর ভবনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; আলোচনা হচ্ছে নগরীতেও। ক্ষমতাসীন দলের মধ্যেও চলছে আস্থা-অনাস্থার নানা হিসাব-নিকাশ। বিশেষ পরিবারের সদস্য, নব-নির্বাচিত মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের আস্থা অর্জনে ভেতরে-বাইরে চলছে প্যানেল মেয়র পদ প্রত্যাশীদের দৌড়-ঝাঁপ। তবে সব গুঞ্জন ছাড়িয়ে প্রকাশ্যে আসতে প্রায় দুই মাস অপেক্ষায় থাকতে হবে নগরবাসীকে।
সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে নগরীর ৩১টি সাধারণ ও ১০টি সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদের মধ্যে অন্তত ২৪ জন আওয়ামী লীগের, দশ জন বিএনপি ও বাকি সাতটিতে স্বতন্ত্র কাউন্সিলর রয়েছেন। আলোচনার ভিত্তিতে নিরসন না হলে কাউন্সিলরদের ভোটের মধ্যদিয়ে তিনজন প্যানেল মেয়র নির্বাচন করার বিধান রয়েছে। মেয়রের অনুপস্থিতিতে পর্যায়ক্রমে প্যানেল মেয়রবৃন্দ দায়িত্ব পালন করে থাকেন। এছাড়া কেসিসি’র অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন কমিটির দায়িত্বশীল পদে আসীন হন প্যানেল মেয়র।
সূত্রমতে, আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর বর্তমান মেয়র মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মনি’র নেতৃত্বাধীন পরিষদের মেয়াদ শেষ হবে। ইতিমধ্যে গত ৫ জুলাই প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে নব-নির্বাচিত মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেকসহ ৪১ জন কাউন্সিলর শপথ গ্রহণ করেছেন। শপথের পূর্ব থেকেই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ভিতরে-বাইরে গুঞ্জন চলছিল। শপথের পর সে আলোচনার পালে হাওয়া লেগেছে। বিশেষ পরিবারের আস্থা অর্জনে ও নব-নির্বাচিত মেয়রের স্নেহধন্য হবার চেষ্টায় প্যানেল মেয়র প্রত্যাশী কাউন্সিলররা। সে হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন ২৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আজমল আহমেদ তপন, ২৫নং ওয়ার্ডের আলী আকবর টিপু, ২১নং ওয়ার্ডের শামসুজ্জামান মিয়া স্বপন, ২৬নং ওয়ার্ডের জেড এ মাহমুদ ডন, ১৫নং ওয়ার্ডের আমিনুল ইসলাম মুন্না, ২৯নং ওয়ার্ডের ফকির সাইফুল ইসলাম, ৩০নং ওয়ার্ডের এস এম মোজাফ্ফর রশিদী রেজা, ১৩নং ওয়ার্ডের এস এম খুরশিদ আহমেদ টোনার নাম শোনা যাচ্ছে প্যানেল মেয়র পদ প্রত্যাশী হিসেবে। তবে সব জল্পনা-কল্পনা ছাড়িয়ে ১৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর বর্তমান প্যানেল মেয়র মোঃ আনিসুর রহমান বিশ্বাষ ও ১৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাফিজুর রহমান হাফিজ পুনরায় প্যানেল মেয়র নির্বাচিত হলেও আশ্চর্য্য হবার কিছু থাকবে না। বিএনপি’র সাবেক এ দুই নেতা স্বতন্ত্রভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে নির্বাচিত হয়ে বিশেষ পরিবারের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করেছেন বলে গুঞ্জন রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে কাউন্সিলর আনিসুর রহমান বিশ্বাষ বলেন, “প্যানেল মেয়র-১ ও ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতার আলোকে নব-নির্বাচিত কাউন্সিলরবৃন্দ যদি আমাকে দায়িত্ব দেন; তাহলে তো আমি আর না করতে পারি না। পদের প্রতি আমার কোন মোহ নেই। জনগণের জন্য কাজ করতে চাই।”
২৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আজমল আহমেদ তপন বলেন, “বিষয়টি উপরের সিদ্ধান্তের ব্যাপার। অতীতে দায়িত্ব নিয়ে সুনামের সাথে কাজ করেছি; ভবিষ্যতে দায়িত্ব পেলে সুনাম অক্ষুন্ন রেখে দায়িত্ব পালন করবো।”
অপরদিকে, বিগত তিন টার্মের প্যানেল মেয়র-৩ রুমা খাতুন। আওয়ামী লীগ-বিএনপি’র নির্বাচিত মেয়রদের সাথে প্যানেল মেয়র-৩ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। গত নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন তিনি। ফলে সংরক্ষিত কোটায় প্যানেল মেয়র-৩ পদ প্রত্যাশী সকলেই আওয়ামী লীগের নির্বাচিত কাউন্সিলর। তারা হলেন ২নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সাহিদা বেগম, ৪নং ওয়ার্ডের পারভীন আক্তার, ৫নং ওয়ার্ডের মেমোরী সুফিয়া রহমান শুনু, ৬নং ওয়ার্ডের আমেনা হালিম বেবী। সংরক্ষিত ৯নং আসনের মাজেদা খাতুন ব্যতীত বাকী নয়জন কাউন্সিলর আওয়ামী লীগের। ফলে সাধারণ ও সংরক্ষিত ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর সংখ্যালঘিষ্ঠ হওয়ায় তাদের মতামতের দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন অন্য কাউন্সিলররা। প্রসঙ্গত, গত ১৫ মে খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। 
 

বার পঠিত

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ












তৃতীয় ফাইনাল নাকি স্বপ্ন ভঙ্গ

তৃতীয় ফাইনাল নাকি স্বপ্ন ভঙ্গ

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:৫৫