খুলনা | মঙ্গলবার | ২৬ মার্চ ২০১৯ | ১২ চৈত্র ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

খুমেক হাসপাতালই হতে পারে খুলনা অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবার নির্ভরযোগ্য আশ্রয়স্থল

বশির হোসেন   | প্রকাশিত ০৩ জুলাই, ২০১৮ ০১:৫২:০০

হাসপাতালের বহির্বিভাগে আসা রোগীরা কোন প্রকার দালালের খপ্পরে পড়বে না। ব্যক্তিমালিকানাধীন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যাওয়ার জন্য কেউ বাধ্য করবে না। দিনের ভিতরেই সেবা পাবেন দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীরা। ভর্তি রোগীরাও পাবে হাসপাতালে সেবার সুষ্ঠু পরিবেশ। থাকবে সার্বক্ষণিক চিকিৎসক। মানসম্মত খাবার পাবেন সাধারণ রোগীরা। সকল ধরনের প্যাথলজি টেস্ট হাসপাতালের ভিতরেই সম্ভব হবে। ফ্রি সার্ভিস বা কন্ট্রাক্ট সার্ভিস কর্মচারীদের নামে বহিরাগতদের দ্বারা কেউ প্রতারিত হবে না। দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের সর্ববৃহৎ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নিয়ে সাধারণ রোগী ও খুলনা উন্নয়ন কর্মীদের স্বপ্ন এমনই। অথচ উল্লিখিত অধিকাংশ সেবা থেকেই বঞ্চিত এ অঞ্চলের মানুষ। তবে আশার কথা বিগত এক বছরে হাসপাতালের দৃশ্যপট পাল্টেছে। উন্নতি হয়েছে বিভিন্ন বিভাগে। তারপরেও অপর্যাপ্ত জনবল, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দুর্নীতি আর ফ্রি সার্ভিস ও দালালদের দৌরাত্মে কাঙ্খিত সেবা পাচ্ছে না সাধারণ রোগীরা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন এই সমস্যাগুলো নিরসন ও উন্নতি করতে পারলেই খুমেক হাসপাতাল হবে খুলনাসহ এই অঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্যসেবার নির্ভরযোগ্য আশ্রয় স্থল।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য মতে ১ বছর আগেও হাসপাতালে রোগীদের খাবার নিয়ে দুর্নীতি ছিল চরমে। সকাল দুপুর কিংবা রাতে খাবার বরাদ্দের অর্ধেকও দেয়া হতো না। বর্তমানে এ অবস্থান পরিবর্তন ঘটেছে। প্যাথলজি বিভাগে নমুনা সংগ্রহ করা হতো দুপুর ১২টা পর্যন্ত। অথচ এখন বিকেল এমনকি সন্ধ্যার পরও প্যাথলজি বিভাগ খোলা থাকে। দেয়া হয় সেবা। তবে হাসপাতাল প্রশাসনের সাথে পাল্লা দিয়ে চলছে বিভিন্ন পরীক্ষা-নীরিক্ষার মাধ্যমে রোগীদের শোষণ করা। এখনও বিভিন্ন ওয়ার্ডের সহকারী রেজিস্ট্রাররা রোগীদের বাধ্য করেন বাইরের প্যাথলজিতে যেতে। নির্দিষ্ট কয়েকটি প্যাথলজি ছাড়া রিপোর্ট দেখতে চান না। হাসপাতালে ওয়ার্ডের রোগীদের চিকিৎসার সাথে জড়িত সহকারী রেজিস্ট্রাররা। সার্বক্ষণিক হাসপাতালে অবস্থান করা ইণ্টার্ণ এবং অন্য চিকিৎসক দিয়ে রোগীদের চিকিৎসা করার নিয়ম থাকলেও বেশিরভাগ সহকারি রেজিস্ট্রার ভর্তির দিন ছাড়া ঠিকমত হাসপাতালে আসেন না। দিনের নির্দিষ্ট একটি সময় হাসপাতালে অবস্থান করে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের সময় দিয়ে আবার চলে যান। বিকেলে আবার কিছুক্ষণ এসে একই কাজ করেন। ফলে ওয়ার্ডগুলো হয়ে পড়েছে সকালে একবার রাউন্ড এবং ইণ্টার্ণ নির্ভর। তবে পাওয়া গেছে ব্যতিক্রমও। মেডিসিন ৫ ওয়ার্ডে রোগীরা বলছেন সব ওয়ার্ডের ডাক্তাররা সহকারী রেজিস্ট্রার-এর মত হলে হাসপাতালের চিত্র এমন হতো না। 
হাসপাতালের পুরোটাই এখন সিসি ক্যামেরা নিয়ন্ত্রিত। জরুরী বিভাগ থেকে শুরু করে রান্নাঘর পর্যন্ত সর্বত্র সিসি ক্যামেরার আওতায়। অথচ ওষুধ চুরি, দালালের দৌরাত্মসহ দুর্নীতির নানান চিত্র এখনও ঘুরে ফিরে সামনে আসে। তবে বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে পাল্টাতে শুরু করেছে দৃশ্যপট। গত ১ বছরে হাসপাতালের মানসিক স্বাস্থ্য বিভাগ, সতন্ত্র আইসিইউ, লিভার বিভাগ, বার্ণ ইউনিট, ক্যান্সার ইউনিট, চালু করা হয়েছে। নিজস্ব পরিচালন কোডও মিলেছে কয়েকদিন আগে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় কঠোর অবস্থান নিয়ে বহিষ্কার করা হয়েছে কয়েকজনকে। কারণ দর্শানো নোটিশ দেয়া হয়েছে চিকিৎসক ও কর্মকর্তা কর্মচারীকে। তবে বর্তমানে হাসপাতালকে জনবান্ধব সাধারণ রোগীদের স্বাস্থ্যসেবার আশ্রয়স্থল হিসেবে তৈরি করতে তিনটি দিকে উন্নত করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন সংশ্লিষ্টরা। এর মধ্যে হাসপাতালকে সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত করা, জনবল সংকট দুর করা ও হাসপাতাল থেকে ফ্রি-সার্ভিস ও কন্ট্রাক্ট সার্ভিসের নামে বহিরাগতদের দৌরাত্ম দূর করাই প্রধান চ্যালেঞ্জ।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ এটিএম মোর্শেদ এ প্রতিবেদককে বলেন সরকারি হাসপাতাল চাহিদা অনুযায়ী কাঙ্খিত সেবা পাওয়া সম্ভব সেটা প্রমাণ হবে এখন। গত এক বছরে হাসপাতালের চেহারা পাল্টে দিয়েছি। কিছু কাজ পাইপ লাইনে রয়েছে যা আগামী ৬ মাসের মধ্যে শেষ করতে পারবো বলে আশা করছি। তাহলে এ হাসপাতাল নিয়ে কারও কোন অভিযোগ থাকবে না।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ

একাত্তরের স্মৃতির রোডম্যাপ

একাত্তরের স্মৃতির রোডম্যাপ

২৬ মার্চ, ২০১৯ ০১:৪৩


স্বাধীনতা ও আমাদের প্রত্যাশা

স্বাধীনতা ও আমাদের প্রত্যাশা

২৬ মার্চ, ২০১৯ ০১:৪২




৭১ এর সেই কালো রাতের গল্প

৭১ এর সেই কালো রাতের গল্প

২৬ মার্চ, ২০১৯ ০১:৪০




১৯৭১ সালের এক ভয়াল রাত

১৯৭১ সালের এক ভয়াল রাত

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:১০

বাংলাদেশ

বাংলাদেশ

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:১০


ব্রেকিং নিউজ







একাত্তরের স্মৃতির রোডম্যাপ

একাত্তরের স্মৃতির রোডম্যাপ

২৬ মার্চ, ২০১৯ ০১:৪৩


স্বাধীনতা ও আমাদের প্রত্যাশা

স্বাধীনতা ও আমাদের প্রত্যাশা

২৬ মার্চ, ২০১৯ ০১:৪২