খুলনা | বৃহস্পতিবার | ১৮ অক্টোবর ২০১৮ | ২ কার্তিক ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

শবে কদর হাজার মাস থেকে উত্তম 

মুফতি রবিউল ইসলাম রাফে | প্রকাশিত ১২ জুন, ২০১৮ ০১:১৩:০০


আজ ২৬ রমজান। আজকের রাত পবিত্র কদরের রাত। মাগরিবের পর পরই শুরু হবে সেই মহান রজনী শবে কদর যা হাজার মাস অপেক্ষাও উত্তম। এই রাত সীমাহীন বরকতময়। শবে কদরের রাত্রে হযরত জিব্রাঈল (আঃ) ফেরেশতাদের একটি জামাতের সাথে পৃথিবীতে অবতরণ করেন এবং এমন প্রত্যেক বান্দার জন্য রহমতের দোয়া করেন যে দাঁড়িয়ে অথবা বসে আল্লাহর জিকির করে বা ইবাদত-বন্দেগীতে লিপ্ত থাকে (মেশকাত, বায়হাকী শো’আবুল ঈমান)। এই রাতের ফজিলত সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন, নিশ্চয় আমি কদরের রাত্রিতে এই কুরআন নাজিল করেছি। আপনি জানেন কি কদরের রাত্রি কি? কদরের রাত্রি হাজার মাস অপেক্ষাও উত্তম। এই রাতে নাজিল হয় ফেরেশতাগণ এবং জিব্রাঈল (আঃ) তাদের পরওয়ারদিগারের আদেশে সর্ববিধ শান্তি ও কল্যাণ সহকারে। উহা বিরাজ করে ফজর পর্যন্ত (সূরা কদর)। এই আয়াত থেকে বুঝা গেলো কুরআনের কারণেই এই রাতের মর্যাদা। এটাও পরিষ্কার যে পবিত্র গ্রন্থ আল কুরআন এই রাতেই নাজিল হয়। আয়াতে কারীমা থেকে প্রমাণিত হয় যে, কদরের রাতে কেই যদি ইবাদত করে তাহলে সে এক হাজার মাস অর্থাৎ তিরাশি বছর চার মাসেরও বেশী  ইবাদত করার ছওয়াব প্রাপ্ত হবে। কুরআনে এক হাজার বছরের সমান বলা হয়নি, বরং বলা হয়েছে এক হাজার মাস অপেক্ষাও বেশী। আর বেশীর পরিমাণও আমরা জানিনা, উহা হাজার মাসের চেয়ে কত বেশী উত্তম।  হাদিসে এসেছে যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও ছওয়াবের নিয়তে কদরের রাত্রি ইবাদতে কাটাবে তার পূর্বের  সমস্ত গোনাহ মাফ করা হবে (বুখারী, মুসলিম)। যে ব্যক্তি কদরের রাত হতে বঞ্চিত থেকে গেল সে যেন সমস্ত কল্যাণ হতেই বঞ্চিত হল (তারগীব: ইবনে মাজাহ)। রাসুলে কারীম (সাঃ) রমজানের শেষ দশকে ইবাদতের পরিমাণ বহুগুণে বাড়িয়ে দিতেন। বিশেষ করে শবে কদরের তালাশে মসজিদে নিরবিচ্ছিন্ন আমলে ব্যস্ত থাকতেন যাতে মহা বরকতময় এই রাতের কল্যাণ থেকে মাহরুম না হয়ে যান। অধিকাংশ হাদিসের রেওয়ায়েত অনুসারে ওলামায়ে  কেরাম বলেছেন যে উহা শেষ দশকেই রয়েছে। এক হাদিসে হুজুর (সাঃ) এরশাদ করেন, তোমরা শবে কদর তালাশ করিবে রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাত্রিতে (বুখারী)। কিন্তু শেষ দশকের বেজোড় রাত গুলোর মধ্যে ২৭ রমজানের রাতের কথা হাদিসে বিশেষভাবে উল্লেখ থাকার কারণে এই রাতকেই (২৬ রমজান দিবাগত রাত) কদরের রাত হিসাবে ধর্মপ্রাণ মুসলমান পালন করে থাকেন। বিশিষ্ট সাহাবী উবাই ইবনে কা’ব (রাঃ) শপথ করে বলেন যে, শবে কদর ২৭ রমজানের রাতেই (মেশকাতঃ মুসলিম)। হযরত আয়েশা (রাঃ) হুজুর (সাঃ) কে জিজ্ঞাসা করেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি যদি শবে কদর পাই তাহলে কি দোয়া করব? হুজুর (সাঃ) এরশাদ করেন, এই দোয়া করিও, আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আ’ফুউউন তুহিব্বুল আ’ফওয়া ফা’আফু আ’ন্নী। অর্থাৎ হে আল্লাহ! আপনি বড় ক্ষমাশীল, ক্ষমাকে ভালবাসেন। অতএব আমাকে ক্ষমা করে দেন  (মেশকাত: তিরমিজী, ইবনে মাজাহ, আহমাদ)। তবে শুধু এই দোয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে বান্দা তার প্রয়োজনমাফিক যে কোন দোয়া করতে পারেন। 
(লেখক: আরবি সাহিত্যিক এবং ইমাম ও খতিব, নাজিরঘাট জামে মসজিদ, নিরালা, খুলনা)


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ

“শরীয় বিধানে দেনমোহর”

“শরীয় বিধানে দেনমোহর”

১২ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০৩

যে আগে সালাম দেয় সে অহংকার মুক্ত

যে আগে সালাম দেয় সে অহংকার মুক্ত

০৫ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:১০

“অকাল মৃত্যু” একটি ভ্রান্ত ধারণা

“অকাল মৃত্যু” একটি ভ্রান্ত ধারণা

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:১২


রহস্যময় আবে যমযম কূপ

রহস্যময় আবে যমযম কূপ

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০৯

পবিত্র আশুরা  ২১ সেপ্টেম্বর

পবিত্র আশুরা  ২১ সেপ্টেম্বর

১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০


হজে গুনাহ মাফ হয়

হজে গুনাহ মাফ হয়

১৬ জুলাই, ২০১৮ ১৩:২৫

শাওয়ালের ছয় রোজা

শাওয়ালের ছয় রোজা

২০ জুন, ২০১৮ ১৩:১১

দুই ঈদের রাত খুবই বরকতময়

দুই ঈদের রাত খুবই বরকতময়

১৪ জুন, ২০১৮ ০১:৪৫




ব্রেকিং নিউজ











শারদীয় দুর্গোৎসবের  আজ মহানবমী

শারদীয় দুর্গোৎসবের  আজ মহানবমী

১৮ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:৪৯