খুলনা | রবিবার | ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮ | ২ পৌষ ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

শবে কদর কবে? 

মুফতি রবিউল ইসলাম রাফে | প্রকাশিত ১০ জুন, ২০১৮ ০১:০৯:০০


আজ ২৪ রমজান। জাহান্নাম থেকে মুক্তি বা নাজাতের দশকের আজ চতুর্থ দিন। রাসুলে কারীম (সঃ) রমজানের শেষ দশকে ইবাদতের পরিমাণ বহুগুণে বাড়িয়ে দিতেন। বিশেষ করে শবে কদরের তালাশে মসজিদে নিরবিচ্ছিন্ন আমলে ব্যস্ত থাকতেন যাতে মহা বরকতময় এই রাতের কল্যাণ থেকে মাহরুম না হয়ে যান। কারণ হাদিসের বিশুদ্ধ বর্ণনা মতে শেষ দশকেই রয়েছে সেই মহিমান্বিত রজনী শবে কদর যা হাজার মাস অপেক্ষাও উত্তম। শবে কদরেই পবিত্র গ্রন্থ আল কুরআন নাজিল হয়। মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন, নিশ্চয় আমি কদরের রাত্রিতে এই কুরআন নাজিল করেছি। আপনি জানেন কি কদরের রাত্রি কি? কদরের রাত্রি হাজার মাস অপেক্ষাও উত্তম (সূরা কদর)। সুতরাং, কদরের রাতে কেউ যদি ইবাদত করে তাহলে সে এক হাজার মাস অর্থাৎ তিরাশি বছর চার মাসেরও বেশী  ইবাদত করার ছওয়াব প্রাপ্ত হবে। কুরআনে এক হাজার বছরের সমান বলা হয়নি, বরং বলা হয়েছে এক হাজার মাস অপেক্ষাও বেশী। আর বেশীর পরিমাণও আমরা জানিনা, উহা হাজার মাসের চেয়ে কত বেশী উত্তম।  এই শবে কদরের তালাশেই হুজুরে আকরাম (সাঃ) রমজানের শেষ দশ দিন মসজিদে নিয়মিত এতেকাফ করতেন। হাদিসে এসেছে যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও ছওয়াবের নিয়তে কদরের রাত্রি ইবাদতে কাটাবে তার পূর্বের  সমস্ত গোনাহ মাফ করা হবে (বুখারী, মুসলিম)। অপর হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, শবে কদরের রাত্রে হযরত জিব্রাঈল (আঃ) ফেরেশতাদের একটি জামাতের সাথে পৃথিবীতে অবতরণ করেন এবং এমন প্রত্যেক বান্দার জন্য রহমতের দোয়া করেন যে দাঁড়িয়ে অথবা বসে আল্লাহর জিকির করে বা ইবাদত-বন্দেগীতে লিপ্ত থাকে (মেশকাত, বায়হাকী শো’আবুল ঈমান)। তবে কদরের রাত ঠিক কোন দিন তা হাদিসে অথবা কুরআনে স্পষ্ট করে বলা হয়নি। কিন্তু অধিকাংশ হাদিসের রেওয়ায়েত অনুসারে ওলামায়ে  কেরাম বলেছেন যে উহা শেষ দশকেই রয়েছে। নবী করীম (সাঃ) এরশাদ করেন, তোমরা শবে কদরকে তালাশ করবে রমজানের শেষ দশকে, মাসের নয় দিন বাকি থাকতে, সাত দিন বাকি থাকতে, পাঁচ দিন বাকি থাকতে (বুখারী)। অপর হাদিসে আবু বাকরা (রাঃ) বলেন, আমি রাসুলে কারীম (সাঃ) কে বলতে শুনেছি, তোমরা শবে কদরকে তালাশ করবে রমজানের নয় দিন বাকি থাকতে, সাত দিন বাকি থাকতে, পাঁচ দিন বাকি থাকতে, তিন দিন বাকি থাকতে অথবা শেষ রাত্রিতে- অর্থাৎ ২১, ২৩, ২৭ ও ২৯ রমজানের রাত্রিতে  (তিরমিজী)। এই জন্য আমাদের উচিত রমজানের বাকি দিনগুলো, বিশেষ করে রাতে ইবাদত-বন্দেগীতে মশগুল থাকা এবং শবে কদরের তালাশ করা। 
(লেখক: আরবি সাহিত্যিক এবং ইমাম ও খতিব, নাজিরঘাট জামে মসজিদ, নিরালা, খুলনা)
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ


আত্মহত্যা একটি মহাপাপ

আত্মহত্যা একটি মহাপাপ

১৬ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০৫



“তাওবা করার নিয়ম ও পদ্ধতি”

“তাওবা করার নিয়ম ও পদ্ধতি”

২৬ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:১০

চেয়ারে বসে নামায ও শরয়ী হুকুম

চেয়ারে বসে নামায ও শরয়ী হুকুম

১৯ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:১০

“শরীয় বিধানে দেনমোহর”

“শরীয় বিধানে দেনমোহর”

১২ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০৩

যে আগে সালাম দেয় সে অহংকার মুক্ত

যে আগে সালাম দেয় সে অহংকার মুক্ত

০৫ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:১০

“অকাল মৃত্যু” একটি ভ্রান্ত ধারণা

“অকাল মৃত্যু” একটি ভ্রান্ত ধারণা

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:১২


রহস্যময় আবে যমযম কূপ

রহস্যময় আবে যমযম কূপ

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০৯

পবিত্র আশুরা  ২১ সেপ্টেম্বর

পবিত্র আশুরা  ২১ সেপ্টেম্বর

১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০


ব্রেকিং নিউজ