খুলনা | শনিবার | ১৭ নভেম্বর ২০১৮ | ৩ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor
এস এস সাগর, চিতলমারী

চিতলমারীতে টমেটোর বাম্পার ফলন বাজারজাত হচ্ছে বিভিন্ন জেলায়

এস এস সাগর, চিতলমারী | প্রকাশিত ৩১ জানুয়ারী, ২০১৭ ০১:৪৮:০০

বাগেরহাটের চিতলমারীতে এ বছর টমেটোর বাম্পার ফলন হয়েছে। ভাল উৎপাদন আর ভাল দাম পাওয়ায় কৃষকের মুখে ফুটে উঠেছে হাসি। এখানে মৎস্য ঘেরের ভেড়ীবাঁধের উপর তিন প্রকার টমেটোর চাষ করে প্রায় ২৪ হাজার মেট্রিক টন টমেটো উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছেন চাষিরা। সময় উপযোগী হওয়ায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে শীতকালীন ফসল উৎপাদন হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষি বিভাগ। এ অঞ্চলে পানিতে মাছ ও ভেড়ীবাঁধে সবজির চাষ এখন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। যা এলাকার চাহিদা মিটিয়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় এই টমেটো বাজারজাত করা হচ্ছে।
চিতলমারী উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ আবুল হাসান জানান, বাগেরহাটের চিতলমারী, কচুয়া ও মোল্লাহাট উপজেলায় মৎস্য ঘেরের ভেড়ীবাঁধের উপর এবার ১ হাজার ৮০ হেক্টর জমিতে টমেটো উৎপাদন হয়েছে। তার মধ্যে শুধু চিতলমারীর চাষিরা ৬শ’ হেক্টর জমিতে প্রায় ২৪ হাজার মেট্রিক টন টমেটো উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছেন। আধুনিক প্রযুক্তিতে কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও কৃষিবিভাগের কঠোর নজরদারিতে এবার লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। ফলেছে টমেটোর বাম্পার ফলন। উপজেলার বিভিন্ন হাটের দিন কৃষকরা নৌকা ও ভ্যানযোগে তাদের উৎপাদিত টমেটো নিয়ে পাইকারী বিক্রি করতে যান।
গত শনিবার চিতলমারী সদর বাজারের হাটের দিনে টমেটো চাষি পরিমল মজুমদার, রেজাউল খান, অচ্যুৎ বাড়ৈ, মুন্না শেখ ও নির্মল বাইনসহ অনেকে জানান, এ বছর কৃষকেরা ঘেরের পাড়ে ভেঁড়ীবাধে লাভলী, হাইটপ ও বিজলি নামের তিন জাতের টমেটো চাষ করেছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় উৎপাদনও অনেক ভালো হয়েছে। মৌসুম শুরুতে মণ প্রতি টমেটো দেড় থেকে দুই হাজার টাকা দরে বিক্রি করেছেন। তবে এখন দাম ৩শ’ থেকে ৪শ’ টাকা।
অপরূপ দাস নামের অপর এক চাষি জানান, টমেটো পাকার সাথে সাথে বাজারে নিয়ে আসতে হয়। কাঁচামাল ঘরে রাখা যায় না। তাই ব্যবসায়ীদের কাছে অনেকটা জিম্মি চাষিরা। তিনি দাবি করেন চিতলমারীতে সবজি সংরক্ষণের জন্য সরকারিভাবে হিমাগারের ব্যবস্থা করলে চাষিরা তাদের ফসলের ভালো দাম পেতেন।
টমেটো ব্যবসায়ীরা জানিয়েছে, চিতলমারী একটি কৃষিপ্রধান উপজেলা। এই উপজেলায় সব মৌসুমেই সবজি উৎপাদন হয়ে থাকে। সবজি সংরক্ষণের জন্য হিমাগার প্রয়োজন। এছাড়া পদ্মা সেতু চালু হলে অল্প সময়ে জেলার সবজি দেশব্যাপী দ্রুত সরবরাহ করাসহ বিদেশেও রফতানি করা সম্ভব হবে।
এ ব্যাপারে বাগেরহাট জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উপ-পরিচালক মোঃ আফতাব উদ্দিন বলেন, বাগেরহাটের চিতলমারী, মোল্লাহাট, ফকিরহাট ও কচুয়া উপজেলায় মৎস্য ঘেরের ভেড়ীবাঁধের উপর ভাল সবজি উৎপাদন হয়। এ বছর লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। এবার বেগুন, লাউ ও টমেটোর বাম্পার ফলন হয়েছে।

 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ






গলদার মূল্য হ্রাসে রেকর্ড

গলদার মূল্য হ্রাসে রেকর্ড

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০২:১০








ব্রেকিং নিউজ