খুলনা | শনিবার | ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮ | ১ পৌষ ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

আদালতে দু’আসামির লোমহর্ষক জবানবন্দী

যুবলীগ নেতা শহীদ আলীর নির্দেশেই সুমনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত ০৯ জুলাই, ২০১৭ ০১:৪৭:০০

নগরীর সোনাডাঙ্গা মডেল থানাধীন বসুপাড়া ৫৭নং নর্থ খালপাড় এলাকায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করে খান হারুন-অর রশিদ ওরফে সুমন (৩৫) কে হত্যার নেতৃত্বে ছিলেন যুবলীগ নেতা শহীদ আলী। তার নির্দেশেই প্রথমে ইট দিয়ে সুমনের মাথায় আঘাত করে মোঃ জাহিদ হাসান রাসেল। এরপর মোঃ সেলিম শেখ (৩১), মোঃ বাবু ওরফে রড বাবু (৩২), ছোট রনি (২৫) ও মোঃ আলামিন (১৯) সহ অন্যান্যরা সুমনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে।
গতকাল শনিবার বিকেলে এ হত্যাকান্ডে গ্রেফতার ৩ আসামির মধ্যে আজাদ লন্ড্রীর মোড়স্থ নর্থখাল এলাকার ব্যাংক রোডের ফিরোজ কসাইয়ের বাড়ির ভাড়াটিয়া মোঃ সেলিম শেখ ও মহির বাড়ির বড় খালপাড় এলাকার মোঃ রুস্তম আলীর ছেলে মোঃ জাহিদ হাসান রাসেল (২৮) আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক লোমহর্ষক এ জবানবন্দী দিয়েছে। মহানগর হাকিম মোঃ শাহীদুল ইসলাম ফোজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তাদের জবানবন্দী রেকর্ড করেন। এছাড়া মামলার অপর আসামি আমতলা নির্বাচন অফিসের পাশে পুরাতন রেঞ্জার সাহেবের বাড়ির ভাড়াটিয়া মৃত আবুল হোসেন হাওলাদারের ছেলে মোঃ রাজু হাওলাদার (২৫) কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছে পুলিশ। একই আদালত রিমান্ড আবেদনের শুনানী আগামী সোমবার দিন নির্ধারণ করেছেন।
আসামি সেলিম শেখের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীর বরাত দিয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই রাধে শ্যাম সরকার জানান, সোনাডাঙ্গা থানাধীন বসুপাড়া ৫৭নং নর্থ খালপাড় এলাকায় গত শুক্রবার দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে খান হারুন-অর রশিদ ওরফে সুমনকে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়। সুমনকে ধরে নিয়ে ঘটনাস্থলে যাওয়ার পর সোনাডাঙ্গা থানা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক শহীদ আলী তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানোর নির্দেশ দেয়। এরপর তাকে সেখানেই ফেলে রেখে চলে যায় তারা।
আসামি মোঃ জাহিদ হাসান রাসেল তার জবানবন্দীতে বলেন, যুবলীগ নেতা শহীদ আলীর নির্দেশ পেয়ে প্রথমে ঘটনাস্থলে পড়ে থাকা একটি ইট দিয়ে সুমনের মাথায় আঘাত করি। এতে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। এরপর উপস্থিত সকলে চা-পাতি ও রামদা দিয়ে সুমনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
সোনাডাঙ্গা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মমতাজুল হক জানান, হত্যাকান্ডের পরপরই সাঁড়াশী অভিযান চালিয়ে ঘটনার সাথে জড়িত ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা এ হত্যাকান্ডে তাদের সম্পৃক্ততা স্বীকার করে। তাদের গতকাল শনিবার আদালতে সোপর্দ করা হলে দু’জন হত্যাকান্ডের বিবরণ দিয়ে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দিয়েছে। ইতোমধ্যেই ৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৪/৫ জনের নামে নিহতের ভাই বাদী হয়ে মামলা করেছেন। হত্যাকান্ডের সাথে যে কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাকেও গ্রেফতার করা হবে বলে জানান তিনি।

বার পঠিত

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ








ড. কামালের দুঃখ প্রকাশ

ড. কামালের দুঃখ প্রকাশ

১৫ ডিসেম্বর, ২০১৮ ১৩:০৩






ব্রেকিং নিউজ