খুলনা | বৃহস্পতিবার | ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২০ | ১৪ ফাল্গুন ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

বাজার নিয়ন্ত্রণে মনিটরিং জোরদার করার দাবি  

রমজানের আড়াই মাস আগেই খাদ্যপণ্যের মূল্য উর্ধ্বমুখী

আশরাফুল ইসলাম নূর | প্রকাশিত ১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২০ ০১:১০:০০

পবিত্র রমজানের আড়াই মাস আগেই অতিপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের মূল্য উর্ধ্বমুখী। রোজায় নয়, বরং দু/তিন মাস পূর্বেই দাম বৃদ্ধির সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ী। ফলে বাজার নিয়ন্ত্রণে এখনই সংশ্লি¬ষ্ট সংস্থাগুলোর কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন ভোক্তারা।
খুলনার বিভিন্ন বাজার ঘুরে সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রতি কেজি ছোলা ৮০ টাকা, চিনি ৬৫ টাকা, চিড়া (লাল) ৪০ টাকা ও সাদা চিড়া ৫০ টাকা, বুটের ডাল ৪০ টাকা, মশুর ডাল (চিকন) ১৩০ টাকা ও মোটা মশুর ৬৫ টাকা, দেশী পেঁয়াজ ১২০ টাকা, দেশী রসুন ১৫০ টাকা, আদা একশ’ টাকা, শুকনো মরিচ ৩০০ টাকা, হলুদ ১৬০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। যা গত এক মাস আগে কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা কম ছিল। এছাড়া বেড়েছে ভোজ্যতেলের দামও। গত বুধবার সয়াবিন (সিটি) ৯২ টাকা ও সরিষার তেল ১২৫ টাকা লিটার এবং পাঁচ কেজির বোতলজাত সয়াবিন ৪৯০ থেকে ৫২০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। গত দু’সপ্তাহের ব্যবধানে উপরোক্ত খাদ্যপণ্যে কেজি প্রতি প্রকারভেদে ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে বলে খুচরা বিক্রেতারাই স্বীকার করেছেন।
এদিকে খেজুরের দামও গত রমজানের চেয়ে এবারে উর্ধ্বমুখী। খেজুর ইরাকি (নরমাল) একশ’ টাকা, দামাস (ইরাকী) ১৮০ টাকা ও দুবাইয়ের দামাস ২২০ টাকা প্রতি কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে গতকাল। আবার, আখের গুড় ৭০-৮০ টাকা, খেজুরের গুড় ১৮০-২২০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। রমজান পৌঁছানোর পূর্বেই ব্যবসায়ীরা নানা অজুহাতে খেজুরের মূল্য আরও বাড়াতে পারে বলে শঙ্কায় ভোক্তারা।
এদিকে ভরা মৌসুমে বেগুনের দাম এখন কেজি প্রতি ৫০ থেকে ৬০ টাকা দরে থাকলেও রমজানের বেগুনি ভাজা খেতে অধিকমূল্য গুণতে হবে বলে জানিয়েছেন কাঁচা তরকারি বিক্রেতারা। এছাড়া গেল বছরের চেয়ে এ বছরে তরিতরকারির দাম থাকতে পারে উচ্চমূল্যে। কারণ হিসেবে বিক্রেতারা বলছেন, “এ বছর ভরা মৌসুমেও কমেনি শাক-সবজিসহ কাঁচা তরকারির দাম।”
রমজান আসার আড়াই মাস আগেই হাট-বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়তে শুরু করেছে। ক্রেতার ভীড় বেড়েছে বড় বাজারেও। শীতকালীন শাক-সবজির মৌসুম চলাকালেই গেল ক’দিন থেকে সবজিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী অস্থিতিশীল। বাজার দরের এমন বাস্তবতায় বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্য আয়ের সাধারণ মানুষ।
ক্রেতারা বলছেন, প্রতিবছরই রোজার আগে নানা অজুহাতে অনেক বিক্রেতা বাড়তি মুনাফার আশায় দাম বাড়িয়ে দেন। ক্রেতাদের এমন অভিযোগ মানতে নারাজ খুচরা বিক্রেতারা। তাদের দাবি পাইকারি বাজারে দাম বাড়লে তাদের কিছুই করার থাকে না। এ কারণে তারাও দাম বাড়াতে বাধ্য হন। বিশেষ করে পেঁয়াজ, রসুন, আদা, চাল, ডাল, ছোলা, চিনি, লবণ, দুধ, ব্যাসন, কাঁচা মরিচ, টমেটো, শিম, বেগুন, শসাসহ বিভিন্ন পণ্যের মূল্য গেল ক’দিন থেকেই ঊর্ধ্বমুখী। চাহিদার তুলনায় বাজারে পণ্য সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকার পরও শুধু ব্যবসায়ীদের বাড়তি মুনাফার চিন্তায় দাম বাড়ছে বলে মনে করছেন বাজার মনিটরিংয়ের দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্টরা। 
জেলা বাজার কর্মকর্তা আব্দুস সালাম তরফদার বলেন, “পেঁয়াজের মূল্য বৃদ্ধির ঘটনা থেকেই ভ্রাম্যমাণ আদালত কিন্তু চলছে; যা অব্যাহত রয়েছে। তবে এবারে মনিটরিং বেশি হবে। তাছাড়া কৃষি বিপনন আইনটা খুবই কার্যকর হয়েছে। এ আইনে পণ্যের ক্রয় মূল্য উল্লে¬খপূর্বক বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ থাকতে হবে। সে হিসেবে এবারের রমজানে অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট করার সুযোগ থাকবে না। বাজার মনিটরিং অত্যন্ত জোরদার করা হবে।”
কনজ্যুমার এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) খুলনা জেলা সভাপতি এড. এনায়েত আলী বলেন, এখন আর রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যদ্রব্যের দাম বাড়ে না; দুই মাস আগেই মূল্য বাড়িয়ে সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন অসাধু ব্যবসায়ীরা। এসময়ে নি¤œ আয়ের মানুষের কষ্টের শেষ থাকে না। রমজান আসার দুই/তিন আগে থেকেই ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বাজার মনিটরিং করার প্রয়োজন।
জনউদ্যোগ খুলনার আহ্বায়ক এড. কুদরত-ই খুদা বলেন, রমজান এলেই বাজারদর বাড়িয়ে দেয়া এটা আমাদের অসুস্থ মন-মানসিকতার পরিচায়ক। বিশেষ করে ওই সময়টাতে দাম বাড়ানোর কারণে দরিদ্র মানুষের কষ্ট ও দুর্ভোগের সীমা থাকে না।  ব্যবসায়ী ভাইদের মানুষের কল্যাণে এগিয়ে আসা উচিত।
জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার (ব্যবসা ও বাণিজ্য) দেবাশীষ বসাক বলেন, রমজানের আগেই জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সাথে মতবিনিময় করে স্থিতিশীল মূল্য স্তর নির্ধারণ করা হবে। তারপরও যদি ব্যবসায়ীরা দাম বাড়ান তা হলে জেলা প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ












ক্রিকেটার মিরাজের বাসায় চুরি

ক্রিকেটার মিরাজের বাসায় চুরি

২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২০ ০০:৪৬