খুলনা | শুক্রবার | ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২০ | ১৫ ফাল্গুন ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

সাড়ে ৪৯ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের মামলা

খুলনা জেলা পরিষদের সাবেক প্রধান সহকারী মিজান গ্রেফতার, কারাগারে প্রেরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত ১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২০ ০১:০০:০০

খুলনা জেলা পরিষদের সাবেক প্রধান সহকারী মিজানুর রহমান মিজানকে গ্রেফতার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে মামলা দায়েরের পর দুপুরে খুলনা জেলা পরিষদের সামনে থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোঃ শহিদুল ইসলাম জেল হাজতে প্রেরণের আদেশ দেন। 
দুদক খুলনা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক তরুণ কান্তি ঘোষ বাদী হয়ে দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০ ধারাসহ ১৯৭৪ সনের ২নং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় ৪৯ লাখ ৩৪ হাজার ৬০৮ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মিজানের নামে মামলাটি করেন। ইতোমধ্যে ১৩ লাখ টাকা ইতোমধ্যে খুলনা জেলা পরিষদের তহবিলে জমা দিয়েছেন গ্রেফতার হওয়া মিজান। 
মামলার বিবরণে জানা যায়, মিজানুর রহমান ২০১৭-১৮ অর্থবছরের টিএ বিল, দরপত্র বিক্রি ও নগরীর দৌলতপুর এলাকার মহেশ্বরপাশা খেয়াঘাট ইজারা দিয়ে পাওয়া টাকা সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেন। 
এর আগে গত বছরের ডিসেম্বরে সিডিউল বিক্রি ও ইজারার ৫০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করার সংবাদের পর তোলপাড় শুরু হয় খুলনা জেলা পরিষদে। এরপর বিভাগীয় মামলার পর মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল বৃহস্পতিবার তার বিরুদ্ধে দুদক সজেকা মামলা-৭ দায়ের করা হয়। তিনি বর্তমানে মাগুরা জেলা পরিষদে কর্মরত আছেন। তিনি ছুটি নিয়ে খুলনায় এসে গতকাল দুপুরে খুলনা জেলা পরিষদ এলাকা থেকে গ্রেফতার হয়েছেন।  
মামলার বাদী ও তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক তরুণ কান্তি ঘোষ বলেন মিজানের বিরুদ্ধে সিডিউল বিক্রয় বাবদ ২৬ লাখ ১৮ হাজার ৯৮০ টাকা, ভ্রমণ ভাতা বাবদ ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫০৮ টাকা, খেয়াঘাটের খাস আদায় বাবদ ২১ লাখ ৩২ হাজার ১২০ টাকাসহ সর্বমোট ৪৯ লাখ ৩৪ হাজার ৬০৮ টাকা আত্মসাৎ করেন। এর মধ্যে থেকে আসামি মিজান ১৩ লাখ টাকা জেলা পরিষদের তহবিলে জমা দিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে সম্প্রতি খুলনা জেলা পরিষদের সাধারণ সভায় সাবেক প্রধান সহকারী মিজানের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। স্থানীয় সরকার (জেলা পরিষদ) আইন, ১৯৮৮ (১৯৮৮ সনের ২৯নং আইন) এর ধারা ৫৭, ধারা ২২ এর ৩৯ দণ্ডসমূহের খ এর গুরুদণ্ডের ই’তে চাকুরি হইতে অপসারণ এবং ঈ’তে চাকুরি হইতে বরখাস্তের কথা উল্লে¬খ আছে।
এর আগে গত ৩ ফেব্র“য়ারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে খুলনা জেলা পরিষদে অভিযান চালায় দুদক। সে সময় তদন্তে তার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। 
জেলা পরিষদ সূত্র জানা যায়, মিজানের বিরুদ্ধে খুলনা জেলা পরিষদের সিডিউল বিক্রি, খেয়াঘাট ইজারা এবং অনুনমোদিত ভ্রমণ ভাতা উত্তোলন করে প্রায় অর্ধকোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠে গত বছরের শেষ দিকে। এর মধ্যে সিডিউল বিক্রির ২৩ লাখ ৫৮ হাজার ৭৮০ টাকা, ভ্রমণ ভাতা ৮৩ হাজার টাকা, খেয়াঘাট ইজারা বাবদ ২৮ লাখ টাকা সরকারি ভাবে আত্মসাতের অভিযোগ মেলে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলাও হয়। পাশাপাশি ঘটনাটির অধিকতর তদন্তের জন্য  জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটিও করা হয়। কমিটিতে রয়েছে জেলা পরিষদের সহকারী প্রকৌশলী মোঃ হাফিজুর রহমান, প্রশাসনিক কর্মকর্তা এস এম মাহাবুবুর রহমান এবং প্রধান সহকারী মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন। চলতি ফেব্র“য়ারি মাসেই তদন্ত কমিটি মিজানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রমাণ পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আসাদুজ্জামান। 
জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন, মিজানের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সাধারণ সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে। ইতিমধ্যে মিজান ১৮ নভেম্বর ৮ লাখ এবং ১৫ জানুয়ারি ৫ লাখ করে মোট ১৩ লাখ টাকা জেলা পরিষদের কোষাগারে জমা দিয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা চলমান। তদন্তকারী টিমও দুর্নীতির প্রমাণ পেয়েছে।

বার পঠিত

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ







মানিকতলায় তাফসীরুল  কুরআন মাহফিল 

মানিকতলায় তাফসীরুল  কুরআন মাহফিল 

২৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২০ ০০:০০




জেএসডি নগর ও জেলা  শাখার সভা ২ মার্চ

জেএসডি নগর ও জেলা  শাখার সভা ২ মার্চ

২৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২০ ০০:০০



ব্রেকিং নিউজ







মানিকতলায় তাফসীরুল  কুরআন মাহফিল 

মানিকতলায় তাফসীরুল  কুরআন মাহফিল 

২৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২০ ০০:০০




জেএসডি নগর ও জেলা  শাখার সভা ২ মার্চ

জেএসডি নগর ও জেলা  শাখার সভা ২ মার্চ

২৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২০ ০০:০০