খুলনা | বৃহস্পতিবার | ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২০ | ১৪ ফাল্গুন ১৪২৬ |

সেন্টমার্টিনে ট্রলার ডুবি : মানব পাচার  রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া জরুরি 

১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২০ ০০:০০:০০

সেন্টমার্টিনে ট্রলার ডুবি : মানব পাচার  রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া জরুরি 

উন্নত জীবনের আশায় রোহিঙ্গারা মালয়েশিয়া পাড়ি দিতে গিয়ে গত মঙ্গলবার সকালে বঙ্গোপসাগরে ট্রলার ডুবির ঘটনায় ১৬ রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়। বারবার এ রকম ঘটনা ঘটলেও বঙ্গোপসাগরে ট্রলারে অবৈধভাবে মানবপাচার রোধে কঠোর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না, যা সত্যিই দুঃখজনক। বস্তুত বঙ্গোপসাগরের ওপর দিয়ে অবৈধ বিদেশযাত্রায় মানব পাচার চক্র যেভাবে বেপরোয়া ও বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে এটা তারই অংশ। 
বিভিন্ন গনমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে ট্রলারটি অন্তত ১৩৮ জন যাত্রী নিয়ে মালয়েশিয়া যাচ্ছিল, যাদের অধিকাংশই ছিল রোহিঙ্গা শরণার্থী। তারা মানব পাচারকারীদের প্ররোচনায় পড়ে উন্নত জীবনের আশায় এই ঝুঁকিপূর্ণ পথে পা বাড়িয়েছিল। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, তারা গন্তব্যে যেতে পারেনি। তার আগেই চিরতরে অনেকের স্বপ্নের মৃত্যু হয়। এ পর্যন্ত অন্তত ১৬ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে ৭৩ জনকে। অর্থাৎ এখনও নিখোঁজ রয়েছে অন্তত অর্ধশত। মূলত প্রতিবছর শীতকাল এলেই মানব পাচারকারীদের অপতৎপরতা বেড়ে যায়। দালালরা এই সুযোগের আশায় থাকে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে যারা এ কাজে পা দিয়েছে, তাদের সিংহভাগই রোহিঙ্গা। স্থানীয় দালাল চক্র তো রয়েছেই, রোহিঙ্গাদের মধ্যেই এই দালাল তৈরি হয়েছে, যারা নানা প্রলোভন দিয়ে রোহিঙ্গাদের পাচার করছে। গত এক বছরে প্রায় আট’শ রোহিঙ্গা ও দু’জন বাংলাদেশিকে উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের তথ্যমতে, ২০১৭-এর ২৮ আগস্ট থেকে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্র“য়ারি পর্যন্ত নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগরে ২৮টি নৌকা ডুবির ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় পুলিশ, বিজিবি ও কোস্টগার্ড ১৯৭ জনের লাশ উদ্ধার করে। নিহতদের ৯৭ শতাংশ রোহিঙ্গা। এ পর্যন্ত নিখোঁজ রয়েছে অন্তত ৫০০ জন। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এত ঘটনার পরও কেন মানবপাচারের হোতাদের শনাক্ত করা হচ্ছে না? তাদের খেয়ালখুশি মতো এভাবে মানবজীবন অকালে ঝরে যাবে! আমরা চাই, মানবপাচারের ক্ষেত্রে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক এবং দালালদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া খুবই জরুরি।
২০১৫ সালে মানব পাচারের ঘটনা বেশ তোলপাড় হয় থাইল্যান্ডের জঙ্গলে গণকবর আবিস্কার করার পর। এমনকি মালয়েশিয়ায় পাওয়া যায় গণকবর। আমরা তখন অসহায়ের মতো ট্রলার ডুবির মতো ভূমধ্যসাগরে উন্নত জীবনের প্রত্যাশায় পাড়ি দেওয়া মানুষের সলিল সমাধির খবর দেখেছি। তাদের মধ্যে দুঃখজনকভাবে হতভাগ্য অনেক বাংলাদেশিও ছিল। এরপর সরকারের পদক্ষেপ ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থানের কারণে পরবর্তী বছরগুলোতে মানব পাচারের মতো অপরাধ আমরা কিছুটা কম দেখলেও ২০১৯ সাল থেকে তাদের অপতৎপরতা দেখা যায়। গত মঙ্গলবারের ট্রলার ডুবির ঘটনার পর আমরা মানব পাচারকারী দালালদের ব্যাপকতা নতুন করে উপলব্ধি করছি। আমরা মনে করি, এ ব্যাপারে স্থানীয়দের তো বটেই, রোহিঙ্গাদেরও সচেতন করা জরুরি। মনে রাখতে হবে, দালাল চক্রের নিশানা এখন রোহিঙ্গারা। তাছাড়া মানব পাচারকারীদের খপ্পরে বিশেষত তারাই পড়ে, যারা বেকার কিংবা দেশে কাঙ্খিত কর্ম করতে পারছে না। ফলে মানব পাচার বন্ধে প্রথমত কর্মসংস্থান বাড়াতে হবে, বেকারদের জন্য নতুন কর্মউদ্যোগে প্রেরণা দিতে হবে। একই সঙ্গে মানব পাচারকারীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। আমরা বিস্মিত যে, একটি প্রতিবেদন বলছে, ২০১২ সালের পর থেকে এখন পর্যন্ত ছয় শতাধিক মামলা হলেও একটিরও বিচার হয়নি। আমরা মনে করি, তাদের বিচার হতেই হবে। এক্ষেত্রে দালাল চক্র চিহ্নিত করে শাস্তির ব্যবস্থা করা জরুরি। সেন্টমার্টিনের ট্রলার ডুবির ঘটনায় নিহতদের প্রতি আমরা শ্রদ্ধা জানাই।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ












ক্রিকেটার মিরাজের বাসায় চুরি

ক্রিকেটার মিরাজের বাসায় চুরি

২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২০ ০০:৪৬