খুলনা | শুক্রবার | ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২০ | ১৫ ফাল্গুন ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

স্থায়ী চিকিৎসক না থাকায় ফার্মাসিস্ট দিয়ে চলছে বন্দিদের সেবা

খুলনা জেলা কারাগারে নজরদারিতে ২৪ ফাঁসির দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত কয়েদী

এন আই রকি | প্রকাশিত ০৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২০ ০১:১৫:০০

খুলনা জেলা কারাগারে কারাবিধি অনুযায়ী নিরাপত্তার বেষ্টনী এবং নজরদারিতে রয়েছে ২৪ জন ফাঁসির দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত কয়েদী। কারাগারে ফাঁসির কয়েদীদের জন্য পর্যাপ্ত বিশেষ সেল না থাকলেও তিনতলা ভবন বিশিষ্ট ৩০ সেলে  ফাঁসির আসামিদের রাখা হয়েছে। এদিকে চিকিৎসা সেবার জন্য কারাগারে স্থায়ী চিকিৎসক না থাকায় ফার্মাসিস্ট দিয়ে সকল বন্দিদের সেবা দেওয়া হয়। তবে ফাঁসির আসামিদের মধ্যে কেউ গুরুতর অসুস্থ হলেই পুলিশের স্কোয়াডের উপস্থিতিতে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়। 
নব্বই দশকের পর থেকে খুলনা জেলা কারাগারে তিন জনের ফাঁসির আদেশ কার্যকর হয়েছে। ১৯৯২ সালের ২৫ আগস্ট আলমডাঙ্গার মৃত আজহার আলী ছেলে আকুল ওরফে সিদ্দিক, ২০০৪ সালের ১০ মে দেশের আলোচিত সন্ত্রাসী খুলনার সোনাডাঙ্গা থানার মৃত বন্দে আলী শিকদারের ছেলে এরশাদ আলী শিকদার এবং ২০১৬ সালের ১৬ অক্টোবর বরগুনার হাবিবুর রহমানের ছেলে আসাদুল ইসলাম আরিফ।
জেলা কারাগারের সূত্র জানায়, বর্তমানে ২৪ জন কয়েদী রয়েছে। এদের মধ্যে একতলা ভবন বিশিষ্ট বিশেষ সেল রয়েছে পাঁচটি। যেখানে সর্বোচ্চ ১৫ জন বন্দি রাখা যায়। তবে বন্দির সংখ্যা বেশি হওয়ায় তিনতলা বিশিষ্ট ৩০ সেলেও ফাঁসির দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত কয়েদীদের রাখা হচ্ছে। মূলত এই ৩০ সেলে ফাঁসির আসামির পাশাপাশি, জঙ্গীসহ বিশেষ মর্যাদাসম্পন্ন বন্দিদের রাখা হয়। জেলা কারাগারে গত ৩ ফেব্র“য়ারির সূত্রমতে মৃত্যুদণ্ডাদেশ প্রাপ্ত কয়েদীরা হলেন নড়াইল জেলার মিরাপাড়ার মোঃ শহিদুর রহমান মিনার ছেলে মোঃ আশিকুর রহমান মিনা (২৩), একই এলাকার মৃত মজিদ মিনার ছেলে মোঃ ইলিয়াছ মিনা (৬৫) এবং মৃত হাতেম মোল্লার ছেলে বাশার মোল্লা (৩২)। খুলনার পাইকগাছা উপজেলার বান্দিকাটির মোঃ ইয়াকুব্বার গাজীর ছেলে নূর ইসলাম গাজী (৪৩), দিঘলিয়া উপজেলার ঘোষগাতী এলাকার মোঃ ইকতার ঢালীর ছেলে মোঃ রাছেল ঢালী (২৫), একই উপজেলার উত্তর চন্দনী মহলের মোঃ ফুলু মিয়ার ছেলে মোঃ রফিকুল ইসলাম ওরফে পুসকেল (২৭), গোয়ালপাড়ার মোঃ চুন্নু মিয়ার ছেলে মোঃ রাজু (২৮), রূপসার নারকেলী চাঁদপুরের শেখ ইলিয়াছ আহম্মেদের ছেলে শেখ জাহিদ (৪৭), কয়রা উপজেলার মৃত বাবর আলীর ছেলে হযরত আলী সরদার, ডুমুরিয়া উপজেলার গোনালী এলাকার মৃত রহমান শেখের ছেলে লুৎফর শেখ (৩৮), আড়ংঘাটা থানার সরদার ডাঙ্গা এলাকার সাগরের ছেলে রসুল (১৯), একই এলাকার মোঃ রমজান ফকিরের ছেলে মোঃ হাফিজুর রহমান (২১), দৌলতপুর থানার কার্তিক কুল এলাকার মোঃ জলিলের ছেলে মোঃ নুরনবী (২৫), একই থানার মহেশ্বরপাশার মুন্সীপাড়ার মৃত মুজিবর হাওলাদারের ছেলে মোঃ মনির হাওলাদার (৩৫), একই এলাকার সেকেন্দার শেখের ছেলে বুলবুল,  খালিশপুর থানার বাস্তুহারা কলোনীর মৃত আঃ কাদের হাওলাদারের ছেলে মোঃ বাবুল হোসেন ওরফে কালা বাবুল (৪০), নগরীর ৭নং ওয়ার্ডের আবুল হোসেনের ছেলে অন্তর হোসেন রমজান (২৭), সোনাডাঙ্গা থানার তপন বণিকের ছেলে সজল বণিক (২৭), তেরখাদা উপজেলার কুশলার লুৎফর খানের ছেলে আমিনুর খান (৪০), বাগেরহাট জেলার রামপাল গোণাবেলাইলেয় মৃত জহির সরদারের ছেলে মোঃ হাবি সরদার (৩৫), রামপালের কুমলাইয়ের ইউছুপ হাওলাদারের ছেলে ইয়াছিন হাওলাদার (৪০),  যশোর জেলার ঝিকরগাছার লাউজানীর আঃ খালেকের ছেলে মোঃ রুবেল (২৫), একই এলাকার শুকুর মিয়ার ছেলে মোঃ সোহাগ (২১), আঃ হক মেম্বরের ছেলে জাহিদ হাসান মিলন (২৫)।  
জেলা কারাগারের জেলার মোঃ তারিকুল ইসলাম জানান, বর্তমানে প্রায় ২৪ জন ফাঁসির আসামি এখানে আছে। কারাবিধি মেনে নিয়ে সকালে এবং বিকেলে আমি নিজে উপস্থিত থেকে তল্লাশী করি। তাদের কাছে আত্মহত্যার কোন সরঞ্জামাদি না থাকে সেই বিষয়গুলোতে গুরুত্ব দেওয়া হয়। ফাঁসির আসামিদের কেউ অসুস্থ হলে পুলিশ স্কোয়াডের উপস্থিতিতে এখান থেকে বের করে হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়।
জেলা কারাগারের জেল সুপার মোঃ ওমর ফারুক বলেন, ফাঁসি আসামিদের সবসময়ই নজরদারিতে থাকে। তারা অন্য আসামিদের সাথে মেলামেশা করতে পারে না। এমনকি তাদের সাথে কেউ দেখা করতে আসলেও দর্শনার্থীর বিষয়ে গোয়েন্দা সংস্থার সাথে আলোচনা করে দেখা করানো হয়। চিকিৎসক সংকট কেটে যাবে। পর্যায়ক্রমে খুলনাতেও চিকিৎসক দেওয়া হবে। 

বার পঠিত

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ







মানিকতলায় তাফসীরুল  কুরআন মাহফিল 

মানিকতলায় তাফসীরুল  কুরআন মাহফিল 

২৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২০ ০০:০০




জেএসডি নগর ও জেলা  শাখার সভা ২ মার্চ

জেএসডি নগর ও জেলা  শাখার সভা ২ মার্চ

২৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২০ ০০:০০



ব্রেকিং নিউজ



মেয়েদের গ্র“পের ফাইনালে উন্নীত খুলনা

মেয়েদের গ্র“পের ফাইনালে উন্নীত খুলনা

২৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২০ ০০:০৫