খুলনা | বৃহস্পতিবার | ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২০ | ১৪ ফাল্গুন ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

চট্টগ্রামের পর খুলনায় নৌবাহিনীর বিশেষ উদ্যোগ

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নির্ভরতার ঠিকানা হবে ‘আশার আলো স্কুল’

এন আই রকি  | প্রকাশিত ২৮ জানুয়ারী, ২০২০ ০১:০০:০০

বাংলাদেশ নৌবাহিনীর উদ্যোগে নগরীর খালিশপুর চরেরহাটে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য ‘আশার আলো স্কুল’ এর শিক্ষা কার্যক্রম চালু হচ্ছে আগামী ফেব্র“য়ারিতে। এর আগে ২০০৩ সালে চট্টগ্রামে নৌবাহিনীর উদ্যোগে আশার আলো স্কুলের যাত্রা শুরু হয়। নৌবাহিনীর নিয়ন্ত্রিত দ্বিতীয় স্কুলটি করা হয়েছে খুলনায়। ইতিমধ্যে জমি অধিগ্রহণ, ভবন নির্মাণ, নিবন্ধন, শিক্ষক নিয়োগসহ ক্লাসরুম প্রস্তুত সম্পন্ন হয়েছে। শিক্ষার্থী ভর্তিও শুরু হয়েছে। নৌবাহিনীর কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে আশোর আলো স্কুলটি বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের জন্য পরিচালিত বিশেষায়িত স্কুল। খুলনার বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের নির্ভরতার প্রথম ঠিকানা হবে স্কুলটি, এমনই মনে করেন খুলনা নৌ অঞ্চলের আঞ্চলিক কমান্ডার রিয়ার এডমিরাল মোহাম্মদ মুসা। 
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, স্কুলটিতে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নানা ধরনের শারীরিক চর্চা, মানষিক বিকাশে সহযোগিতা, ফিজিওথেরাপী, চিকিৎসা এবং মায়েদের জন্য মোটিভেশন ক্লাসের ব্যবস্থা থাকছে। প্রাথমিকভাবে স্কুলে ফিজিক্যাল ডিজএ্যাবিলিটি, অটিজম এবং সেরিব্রাল পালসি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ভর্তি করা হবে। খুলনা বিভাগে বর্তমানে প্রায় ৬ হাজার প্রতিবন্ধী ব্যক্তি রয়েছেন। 
সরেজমিনে নগরীর খালিশপুর তিতুমীরের মধ্যে অবস্থিত ‘আশার আলো স্কুল’ পরিদর্শনে দেখা যায়, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের উপযোগী করে স্কুলটির সিঁড়ি, ক্লাস রুম, খেলার মাঠ ও টয়লেট নির্মাণের কাজ প্রায় শেষের দিকে। ইতোমধ্যে শিক্ষার্থীদের জন্য অভিজ্ঞ শিক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অভিভাবকরা ‘গার্ডিয়ান রুম’ এ বসেই সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে তাদের সন্তানদের কার্যক্রম দেখতে পারবেন। এমনকি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের খাবার গরম ও ঠান্ডা করার জন্য রয়েছে ব্যবস্থা। ‘স্পেশাল রুম’ এ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা শিক্ষকদের সহযোগিতায় গান ও কার্টুন আঁকবে, ‘সেনসরি কর্নার’ এ থাকবে পানি, বালু, পাথর, মাটিসহ বিভিন্ন উপাদান। যার ফলে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা কোনটা কোন উপাদান সেটা অনুভব করতে পারবে। রয়েছে সাইকোথেরাপীরও ব্যবস্থা। সপ্তাহের পাঁচ দিন স্কুলে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য সাইকোলজিস্ট এবং দুইদিন চাইল্ড স্পেশালিস্ট থাকবেন। 
আগামী ১ ফেব্র“য়ারি থেকে ২০ জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং ১৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়ে স্কুলের শিক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। তবে মার্চ মাসে ইন্টারকনভেনশনাল ক্লিনিক চালু হলে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়ানো হবে। প্রাথমিকভাবে ক্লাস ওয়ানে ফিজিক্যাল ডিজএ্যবিলিটি, ক্লাস টুতে অটিজম এবং ক্লাস থ্রিতে সেরিব্রাল পালসি’র কার্যক্রম শুরু হবে। তবে প্রয়োজনের তাগিদে পরবর্তীতে ক্লাস এবং শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হবে। 
বাংলাদেশ নৌবাহিনী কর্তৃক পরিচালিত বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের জন্য বিশেষায়িত ‘আশার আলো স্কুল’ এর প্রিন্সিপাল ইঃ লেঃ কমান্ডার কে এম মারুফ হোসেন বিএন জানান, তিতুমীরের দক্ষিণ পাশে এবং ভৈরব নদীর তীর ঘেঁষে ২০১৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর স্কুলের জন্য দুই একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। স্কুলের নিবন্ধন করা হয়েছে ২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারি, ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয় ঐ বছরের ১৫ এপ্রিল। প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০১৬ সালের শেষে স্কুলের একতলা ভবনে ৯ হাজার ৬শ’ স্কয়ার ফুটের কাজ শেষ হয়। ভবনটি ৬ তলা ফাউন্ডেশন করা হয়েছে। পরবর্তীতে ভবনে ভোকেশনালের ব্যবস্থা করা হবে। তিনি আরও বলেন, একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে খুলনায় নৌবাহিনী এ ধরনের কার্যক্রম শুরু করছে। প্রাথমিকভাবে ৩ থেকে ৬ বছরের বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের ইনিশিয়াল স্ক্যানিং করা হবে। এরপর শিশুকে কোন ক্লাসে দেওয়া হবে তার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। পরবর্তীতে ৩ বছর পর শিশুদের ইন্টার কনভেনশনাল ক্লিনিক থেকে ক্লাসে রাখা হবে। বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশু ৬ বছর নার্সিং করার পর তাকে জেনারেল বা ভোকেশনালে ভর্তি করার উপযোগী করা হবে। 
খুলনা নৌ অঞ্চলের আঞ্চলিক কমান্ডার রিয়ার এডমিরাল মোহাম্মদ মুসা বলেন, নৌবাহিনীর উদ্যোগে চট্টগ্রামের পর খুলনায় আশার আলোর স্কুলের যাত্রা শুরু হয়েছে। নৌবাহিনী যুদ্ধের পাশাপাশি ব্লু ইকোনমিতে প্রত্যক্ষভাবে কাজ করছে। তেমনভাবে সামাজিক দায়বদ্ধতার জন্য কাজ করছে। যেহেতু খুলনা একটি বড় ঘাঁটি তাই এখানে স্কুলটির পরিকল্পনা করা হয়েছে। খুলনার বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুরা এখানে ভর্তির সুযোগ পাবে। স্কুলটির মূল্য লক্ষ্য হচ্ছে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুরা নির্ভরতার প্রথম ঠিকানা হিসেবে স্কুলটিতে আসবে।
উল্লে¬খ্য, ফিজিক্যাল ডিজএ্যাবিলিটি বলতে সাধারণত শারীরিক অদক্ষতাকে বোঝায়। অটিজম হল মানসিক বিকাশ ঘটিত সমস্যা যা স্নায়ু বা স্নায়ুতন্ত্রের গঠন ও পরিবর্ধনজনিত অস্বাভাবিকতার ফলে হয়। এ রোগে আক্রান্তদের স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠতে অসুবিধা হয়, কথাবার্তা, অঙ্গভঙ্গি ও আচরণ একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে আবদ্ধ থাকে। আবার অনেক ক্ষেত্রে মানসিক ও ভাষার উপর দক্ষতা কম থাকে। সেরিব্রাল পালসি হল মস্তিষ্কের অবশ ভাব বা মস্তিষ্ক অবশ হয়ে পড়া। অটিজম এ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ডিজএ্যাবিলিটি মনিটরিং নেটওয়ার্ক এর সমীক্ষা অনুযায়ী বিশ্বের প্রতি ৩২৩টি জীবিত শিশুর মধ্যে ১ জন সেরিব্রাল পালসি নিয়ে জন্মগ্রহণ করে বা জন্মের পর আক্রান্ত হয়। সমাজসেবা অধিদফতরের ২০১৯ সালের ১৫ সেপ্টেম্বরের তথ্য অনুযায়ী ২০১৯-২০ অর্থবছরে ১৫ লাখ ৪৫ হাজার প্রতিবন্ধী ব্যক্তিতে মাসিক ৭৫০ টাকা হিসেবে ১৩৯০.৫০ কোটি টাকা প্রদান করা হচ্ছে। এর বাইরেও দেশে অনেক প্রতিবন্ধী রয়েছেন। বাংলাদেশ শতকরা ১০জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি রয়েছেন। 
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ








এইচএসসি পরীক্ষা শুরু ১ এপ্রিল

এইচএসসি পরীক্ষা শুরু ১ এপ্রিল

৩০ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:৩১






ব্রেকিং নিউজ












ক্রিকেটার মিরাজের বাসায় চুরি

ক্রিকেটার মিরাজের বাসায় চুরি

২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২০ ০০:৪৬