খুলনা | বৃহস্পতিবার | ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২০ | ১৪ ফাল্গুন ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

টাঙ্গাইলে রাস্তা থেকে পোশাক কর্মীকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার : গণধর্ষণের অভিযোগ

খবর প্রতিবেদন | প্রকাশিত ২৭ জানুয়ারী, ২০২০ ০০:২২:০০

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে রাস্তার পাশে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে জামালপুরের এক নারী পোশাক কর্মীকে। তার অভিযোগ, সাভারের আশুলিয়ায় নিজ কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফেরার জন্য একটি পিকআপে চড়লে তাকে নেশাজাতীয় দ্রব্য খাইয়ে অচেতন করা হয়। পরে গণধর্ষণ করে রাস্তার পাশে ফেলে দেয়া হয়। বর্তমানে জামালপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে মেয়েটিকে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তার ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। গত শুক্রবার সকালে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার সাগরদিঘী এলাকায় রাস্তার পাশে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয় ওই পোশাক কর্মীকে। খবর পেয়ে স্বজনরা প্রথমে তাকে বাড়িতে নিয়ে যান। পরে শনিবার তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
মেয়েটির পরিবার সূত্রে জানা গেছে, জামালপুর সদরের শাহবাজপুর ইউনিয়নের একটি গ্রামে তার বাড়ি। আশুলিয়ার একটি ডেনিম কারখানায় কাজ করেন আর কারখানার কাছেই একটি মেসে ভাড়া থাকেন। পোশাককর্মী জানান, গত বৃহস্পতিবার গার্মেন্টস ছুটির পর রাত ৮টায় তিনি কর্মস্থল থেকে ছুটি নিয়ে জামালপুরে গ্রামের বাড়ির পথে রওনা হন। প্রথমে তিনি আশুলিয়া থেকে বাসে গাজীপুরের চানধরা এলাকায় নামেন। সেখান থেকে তিনি একটি পিকআপ দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন, তাতে বেশ কয়েকজন যাত্রী ছিল। পিকআপের চালক জানান, গাড়িটি জামালপুরে যাবে। গাড়িতে থাকা একজন মাঝ বয়সী ব্যক্তি জানান, তিনি আগে সেনাবাহিনীতে চাকুরি করতেন। মেয়েটি চাইলে তাদের সঙ্গে যেতে পারেন।
পোশাক কর্মী জানান, পিকআপটি চানধরা থেকে বেশ কিছু দূর যাওয়ার পর বেশিরভাগ যাত্রীই নেমে যায়। এ সময় তার পাশের যাত্রী নেমে একটি ফলের জুসের প্যাকেট কিনে নিয়ে আসে। তাকে জুস খেতে বললে তিনি রাজি হননি। পরে জোরাজুরি করলে তিনি জুস খান এবং এর কিছুক্ষণ পরই তিনি সংজ্ঞা হারান। পরে যখন তার চেতনা ফিরে আসে, তিনি জানতে পারেন, টাঙ্গাইলের সাগরদিঘী এলাকায় তাকে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। তখন শরীরে প্রচন্ড ব্যথা ছিল। তিনি বুঝতে পারেন, তাকে গণধর্ষণ করা হয়েছে। তবে সংজ্ঞা না থাকায় কখন কিভাবে কী হয়েছিল, তা বলতে পারছেন না তিনি।
এদিকে, শুক্রবার ভোরে টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল উপজেলার সাগরদিঘী এলাকায় রাস্তার পাশে ওই মেয়েটিকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা মেয়েটিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন এবং সঙ্গে থাকা পরিচয়পত্র থেকে নম্বর নিয়ে স্বজনদের ফোন করেন। খবর পেয়ে মেয়েটির কয়েকজন স্বজন তাকে সাগরদিঘী থেকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যান। শনিবার বিকেলে তাকে জামালপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
নির্যাতনের শিকার ওই নারী ও তার স্বজনরা ধারণা করছেন, তাকে কয়েকজন ব্যক্তি ধর্ষণ করেছে। নিপীড়করা মেয়েটির সঙ্গে থাকা ব্যাগ থেকে একজোড়া রূপার নুপুর, একসেট জামা, নগদ প্রায় পাঁচ হাজার টাকা ও মোবাইল ফোন নিয়ে ব্যাগটি ফেলে রেখে গেছে বলেও অভিযোগ করেন তারা। এদিকে, জামালপুর সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মেয়েটি শারীরিকভাবে অত্যন্ত দুর্বল। তার নেশার ঘোর এখনো কাটেনি। তার সুস্থ করে তুলতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
ধর্ষণের অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডাঃ গাজী মোঃ রফিকুল হক জানান, আমরা ধর্ষণের অভিযোগের কথা জেনেছি। ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করেছেন কর্তব্যরত নার্সরা। ডাক্তারি পরীক্ষার বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন। পরীক্ষা শেষে এ বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য জানানো যাবে।
জামালপুর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ সালেমুজ্জামান জানান, আমরা খবর পেয়ে হাসপাতালে গিয়ে ওই নারীর পরিচয় ও ঘটনার যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করেছি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। (সূত্র : সারা বাংলা ডটনেট)
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ












ক্রিকেটার মিরাজের বাসায় চুরি

ক্রিকেটার মিরাজের বাসায় চুরি

২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২০ ০০:৪৬