খুলনা | বৃহস্পতিবার | ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২০ | ১৪ ফাল্গুন ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

খুবি’র দুই শিক্ষার্থীর জঙ্গি কানেকশন ও সহযোগীদের সন্ধানে পুলিশ

২৮ দিনে র‌্যাব-পুলিশের হাতে জঙ্গি সন্দেহে গ্রেফতার এক ডজন

সোহাগ দেওয়ান | প্রকাশিত ২৭ জানুয়ারী, ২০২০ ০০:৪০:০০

আশঙ্কাজনকহারে খুলনায় বেড়ে গেছে জঙ্গি সংগঠনের কার্যক্রম। নব্য জঙ্গি ‘আল্লাহর দল’সহ বিভিন্ন নামে এ সকল সংগঠরের কার্যক্রম হঠাৎ করেই এ এলাকায় দৃশ্যমান হচ্ছে। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় পড়–য়া শিক্ষার্থীদের এ ধরনের নিষিদ্ধ সংগঠনের সাথে কানেকশান হওয়াটা জনমনে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। গত ২৮ দিনে শুধুমাত্র খুলনা মহানগর এলাকা থেকে র‌্যাব-৬ ও কেএমপি পুলিশের অভিযানে জঙ্গি সম্পৃক্তার অভিযোগে ১২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। 
এদিকে নব্য জেএমবি’র কার্যক্রমের সাথে সম্পৃক্ততার অভিযোগের মামলায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের দু’জন শিক্ষার্থীকে ১০ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। বিশেষ করে তাদের জঙ্গি সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ততা এবং অন্যান্য সহযোগীদের সন্ধানে নেমেছে পুলিশ। এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সোনাডাঙ্গা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মমতাজুল হক সময়ের খবরকে বলেন, তাদেরকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তারা কিভাবে নিষিদ্ধ এ জঙ্গি সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত হয়েছে এবং তাদের সাথে অন্যান্য সহযোগিতায় কারা রয়েছে। এ সকল বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। ইতোমধ্যে তারা কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে, যা তদন্তের সার্থে আপাতত বলা যাচ্ছে না। তাছাড়া যেহেতু বিষয়টি খুবই স্পর্শকাতর এ কারনে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার খন্দকার লুৎফুল কবির নিজেই তদারকি করছেন বলেও জানান তিনি।  
গত ২৪ জানুয়ারি দিবাগত রাত আড়াইটা থেকে ভোর সাড়ে ৫টার পর্যন্ত সোনাডাঙ্গা মডেল থানাধীন পুরাতন গল্লামারী রোডের হাসনাহেনা নামের ২৩/৪নং বাড়ির নিচতলায় অভিযান চালিয়ে খুবি’র দু’শিক্ষার্থীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরদিন ২৫ জানুয়ারি ১৫ দিনের রিমান্ড আবেদনসহ আদালতে সোপর্দ করা হলে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ড. আতিকুস সামাদ শুনানী শেষে তাদের দু’জনের ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। 
ওই দু’জন শিক্ষার্থী হলেন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএ ডিসিপ্লিনের ৪র্থ বর্ষের ছাত্র নুর মোহাম্মদ অনিক (২৪)। সে মানিকগঞ্জ জেলার ঘিওর উপজেলার মোড়াবাড়ী গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে। তিনি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু হলের ৩১৮ নম্বর রুমে থাকতেন। এবং একই বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান ডিসিপ্লি¬নের ৪র্থ বর্ষের ছাত্র মোঃ মোজাহিদুল ইসলাম রাফি (২৩)। সে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার ঘাগুর দুয়ার গ্রামের মোঃ রেজাউল করিমের ছেলে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের খানবাহাদুর আহছানউল্লাহ হলের ২০৩ নম্বর রুমে থাকতেন। তাদের কাছ থেকে বেশ কিছু বোমা তৈরির সরঞ্জাম জব্দ করেছে পুলিশ।
র‌্যাব-৬’র অধিনায়ক লেঃ কর্নেল সৈয়দ মোহাম্মদ নুরুস সালেহীন ইউসুফ সময়ের খবরকে জানান, আমাদের গোয়েন্দা ও বিশেষ অভিযানিক টিম নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের নানা কানেকশানের বিষয়ে  নজরদারিসহ অভিযান চালিয়ে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৩ মে নগরীর পূর্ব বানিয়া খামার এলাকা থেকে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠণ ‘আল্লাহর’ দলের ৩ জন সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। এরা হলো  মেহেরপুর জেলার গাংনী থানার গারাডোব গ্রামের মোঃ বুলবুল আহম্মেদের ছেলে মোঃ হাবিবুর রহমান (২৪), জামালপুর জেলার সদর থানাধীন কৃষ্ণচরণপুর গ্রামের মোঃ নান্নু খানের ছেলে মোঃ রফিউর রহমান রজিব (৩০) ও সিরাজগঞ্জের শলংগা থানার চৌবিলা গ্রামের মৃত ফজলুর রহমানের ছেলে আব্দুল মান্নান (৫০)। খুলনার পূর্ব বানিয়াখামারের নজরুল ইসলামের ভাড়া বাড়িতে বসবাস করতেন। দীর্ঘদিন ধরে খুলনা ও বরিশাল বিভাগে আল্লাহর দলের সদস্য সংগ্রহের কাজ করে আসছিলো। তাদের কাছ থেকে উগ্রবাদী বই, লিফলেট, ৩ লাখ ৩৪ হাজার ৩১১ টাকা, সদস্য সংগ্রহের ফরম ও রশিদ উদ্ধার করা হয়। সেই সূত্র ধরে গত ৩০ ডিসেম্বর লবণচরা থানাধীন খোলাবাড়িয়া এলাকা থেকে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আল্লাহর দলের ৫ জন সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলোÑঝিনাইদহ সদরের মৃত লিয়াকত আলী খাঁ’র ছেলে জঙ্গি সংগঠনটির যশোর জেলার নায়েক ইলিয়াস কাঞ্চন রিপন (৩৮), যশোরের ঝিকরগাছার মৃত জামাল বিশ্বাসের ছেলে যুগ্ম-জেলা নায়েক মোঃ মুকুল হোসেন (৩৬), যশোর কোতোয়ালীর মৃত চাঁন মিয়া শিকদারের ছেলেসহ জেলা নায়েক মোঃ ইয়াছিন আলী (৩৮), একই এলাকার আব্দুল আজিজ বিশ্বাসের ছেলে থানা নায়েক মোঃ শুকুর আলী (২৯) ও মোঃ সাহেব আলীর ছেলে গ্রাম নায়েক মোঃ সোহানুর রহমান সোহান (২৩)। এছাড়াও গত ১২ জানুয়ারি র‌্যাব-৬’র স্পেশাল কোম্পানি নগরীর রেলস্টেশন এলাকা থেকে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন “আল্লাহর দল”র দু’সদস্যকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতার দু’সদস্য হলেন যশোর জেলার ঝিকরগাছা থানার সন্তোষ নগর গ্রামের মৃত আলতাপ হোসেন খাঁর ছেলে মোঃ ফসিয়ার রহমান (৫২), ও একই এলাকার মৃত চাঁন্দালী মোড়লের ছেলে মোঃ জাহাঙ্গীর আলম মোড়ল। বর্তমানে এ সকল আসামিরা খুলনা জেলা কারাগারে রয়েছেন।    
এ বিষয়ে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার খন্দকার লুৎফুল কবির পিপিএম জানিয়েছেন, ২০১৯ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর খানজাহান আলী থানাধীন কৃষক লীগ অফিসে এবং একই বছরের ৫ ডিসেম্বর আড়ংঘাটা থানার গাড়ির গ্যারেজে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনার সাথে এরা দু’জন সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তার পুলিশের কাছে এ কথা স্বীকার করেছে। তাদেরকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে আরও তথ্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা করা হচ্ছে।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ












ক্রিকেটার মিরাজের বাসায় চুরি

ক্রিকেটার মিরাজের বাসায় চুরি

২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২০ ০০:৪৬