খুলনা | বৃহস্পতিবার | ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২০ | ১৪ ফাল্গুন ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

কাজ বন্ধ করে দেওয়ায় হতাশায় বদলি শ্রমিকরা  

নতুন মজুরি স্কেলে স্লিপ পেলেও টাকা পাননি খুলনা অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের শ্রমিকরা   

মোহাম্মদ মিলন  | প্রকাশিত ২৭ জানুয়ারী, ২০২০ ০০:৪০:০০

মজুরি স্কেল-২০১৫ অনুযায়ী স্লিপ প্রদান করার এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেছে। তবে মজুরি স্লিপ প্রদানের এক সপ্তাহ পরও স্থায়ী শ্রমিকদেরকে বকেয়া মজুরি প্রদান করা হয়নি। মজুরি নিয়ে বিপাকে পড়েছে শ্রমিক ও পাটকলের কর্মকর্তারা। এছাড়া মজুরি কমিশন বাস্তবায়নের পর বদলি শ্রমিকদের কাজ বন্ধ করে দেওয়ায় বেকার হয়ে পড়েছে ২ হাজার ৫১২ জন শ্রমিক। ফলে চরম আর্থিক কষ্টে জীবন যাপন করছেন তারা। তাদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে।  
বিজেএমসি সূত্রে জানা গেছে, মজুরি স্কেল-২০১৫ অনুযায়ী খুলনা অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত ৯টি পাটকলে মজুরি বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। মজুরি কমিশন বাস্তবায়ন করায় ৯টি পাটকলকে সপ্তাহে শ্রমিকদের বাড়তি মজুরি গুণতে হবে প্রায় সোয়া ৩ কোটি টাকা। আগে ৯টি পাটকলের ৯ হাজার ৩৯৭ জন স্থায়ী শ্রমিকের সাপ্তাহিক মজুরি ছিল ৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা। নতুন মজুরি স্কেল অনুযায়ী এখন সাপ্তাহিক মজুরি ৬ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। সর্বশেষ গত ১৬ জানুয়ারি শ্রমিকদেরকে নতুন মজুরি স্কেল-২০১৫ অনুযায়ী ৪ জানুয়ারি থেকে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত এক সপ্তাহের মজুরি ¯ি¬প প্রদান করা হয়। কিন্তু বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মজুরির টাকা মেলেনি। পাটকলগুলোর শ্রমিকদের ৬ থেকে ৯ সপ্তাহের মজুরি বকেয়া পড়েছে বলে শ্রমিক নেতারা জানিয়েছেন।  
এদিকে রাষ্ট্রায়ত্ত ক্রিসেন্ট, প্লাটিনাম, খালিশপুর, দৌলতপুর, স্টার, ইস্টার্ন, আলিম, জেজেআই ও কার্পেটিং জুট মিলে বর্তমানে ২৮ হাজার ৪৩৩ মেট্রিক টন পাটজাত পণ্য বিক্রির অপেক্ষায় পড়ে রয়েছে। যার মূল্য প্রায় ২২৭ কোটি টাকা। মজুদ পণ্য দ্রুত বিক্রি না হলে সরকারের ভর্তুকি ছাড়া এ অর্থ পরিশোধের সামর্থ্য নেই পাটকলগুলোর। 
প্ল¬াটিনাম জুট মিলের বদলি শ্রমিক রফিকুল ইসলাম বলেন, ২০০৯ সালে বদলি শ্রমিক হিসেবে যোগদান করি। কিন্তু মজুরি কমিশন বাস্তবায়ন হওয়ার পর কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এখন পরিবার-পরিজন নিয়ে কিভাবে চলবো? বাধ্য হয়ে অন্যত্র কাজ খুঁজছি। 
একই মিলের বদলি শ্রমিক মোঃ পলাশ বলেন, ‘আমাদের কাজ বন্ধ করে দেওয়ায় বেকার হয়ে পড়েছি। এখন চাকুরি খুঁজছি। বাধ্য হয়ে পরিবারের অন্যান্যের উপর নির্ভর করে চলতে হচ্ছে। কিছু ভালো লাগে না।’     
মিলের স্থায়ী শ্রমিক মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমাদের ৯ সপ্তাহের মজুরি বকেয়া রয়েছে। গত ১৬ জানুয়ারি নতুন মজুরি স্কেলে এক সপ্তাহের স্লিপ প্রদান করা হলেও এখনো পর্যন্ত টাকা পাওয়া যায়নি। ৯ সপ্তাহের মজুরি না পেয়ে চরম আর্থিক সংকটে রয়েছি। এ নিয়ে আমাদের মাঝে হতাশা বিরাজ করছে’।  
বদলি শ্রমিকরা জানান, হঠাৎ করে কাজ বন্ধ করে দেওয়ায় তারা হতাশ। তারা অন্য পেশায় চলে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। চাকুরি হারিয়ে রিকশা ও ইজিবাইক চালানো, আবার কেউ কেউ দিনমজুরি করছেন। অনেকেই আশায় রয়েছেন আবার তাদেরকে কাজে নেওয়া হবে। 
প্ল¬াটিনাম জুট মিল সিবিএ সভাপতি শাহানা শারমিন বলেন, সম্প্রতি একটি চিঠির মাধ্যমে বদলি শ্রমিকদের কাজ বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়। বদলি শ্রমিকরা স্থায়ী শ্রমিকের অবর্তমানে কাজ করতেন। তাদের অধিকার রয়েছে মিলে কাজ করার। তাদের কাজ বন্ধ করে দেওয়ায় তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। 
আলিম জুট মিলের সিবিএ সভাপতি মোঃ সাইফুল ইসলাম লিটু বলেন, নতুন মজুরি স্কেল অনুযায়ী স্লিপ পেলেও শ্রমিকদেরকে মজুরি দেওয়া হয়নি। এ নিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি হয়েছে। এই মিলে ৮ সপ্তাহের মজুরি বকেয়া পড়েছে। অন্যান্য মিলেও ৮/৯ সপ্তাহের মজুরি বকেয়া। টাকা না পেয়ে আর্থিক সংকটে রয়েছে শ্রমিকরা। নতুন বছরে ছেলে মেয়েদের লেখাপড়ার খরচসহ অন্যান্য ব্যয় মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। 
এদিকে খালিশপুর ও দৌলতপুর জুট মিল বাদে অন্য ৭টি পাটকলে আগে ২ হাজার ৫১২ জন বদলি শ্রমিক কর্মরত ছিল। মজুরি কমিশন বাস্তবায়ন হওয়ার পর বিজেএমসির নির্দেশনা অনুযায়ী তাদের কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে তারা বিপাকে পড়েছেন।    
প্লাটিনাম জুট মিলের মহাব্যবস্থাপক মোঃ গোলাম রব্বানী জানান, উৎপাদন কম থাকায় সম্প্রতি বিজেএমসি থেকে চিঠি দিয়ে বদলি শ্রমিকদের কাজ বন্ধ রাখতে বলা হয়। সে অনুযায়ী বদলি শ্রমিকদের কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, টাকা জোগাড় হলে স্থায়ী শ্রমিকদের বকেয়া টাকা প্রদান করা হবে। 
এ ব্যাপারে বিজেএমসির খুলনা আঞ্চলিক কার্যালয়ের সমন্বয়কারী মোঃ বনিজ উদ্দিন মিঞা জানান, নিজস্ব ফান্ডে টাকা না থাকায় মিলগুলো শ্রমিকদের বকেয়া টাকা পরিশোধ করতে পারছে না। এসব পাটকলে ৮ সপ্তাহের প্রায় সাড়ে ৬ কোটি টাকা মজুরি ও বেতন বকেয়া রয়েছে। পাটকলে মজুদ থাকা পণ্য বিক্রি করতে পারলে মজুরি পরিশোধ করা সম্ভব হবে। অন্যথায় সরকারি অর্থায়নের কোনো বিকল্প নেই। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বিজেএমসির উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনায় বদলি শ্রমিকদের কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে।  

বার পঠিত

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ












ক্রিকেটার মিরাজের বাসায় চুরি

ক্রিকেটার মিরাজের বাসায় চুরি

২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২০ ০০:৪৬