খুলনা | বৃহস্পতিবার | ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২০ | ১৪ ফাল্গুন ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

আ’লীগ-বিএনপি সংঘর্ষ, ফাঁকা গুলি : সংবাদকর্মীসহ আহত ১২

ইশরাকের প্রচারের সময় হামলা

খবর প্রতিবেদন | প্রকাশিত ২৬ জানুয়ারী, ২০২০ ২৩:৫৭:০০

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে বিএনপি’র প্রার্থী ইশরাক হোসেনের নির্বাচনী প্রচারের সময় হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’র কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। প্রায় ৪০ মিনিট ধরে এই সংঘর্ষের মধ্যে এক সংবাদকর্মীসহ ডজনখানেক লোক আহত হয়েছেন। পরে দুইপক্ষে একে অপরের দিকে ইটের টুকরা নিক্ষেপ করে। হামলার মধ্যে গুলি ছোড়ার শব্দ শোনা গেছে। দুইপক্ষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়া এই হামলায় উভয়পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। আধা ঘণ্টা পর্যন্ত এ অবস্থা চলার পর পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
রোববার রাজধানীর টিকাটুলী মোড় থেকে ইশরাক হোসেন কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে মিছিল করে সেন্ট্রাল উইমেন্স কলেজের গলিতে ঢোকার সময় কলেজের মূল ফটকে সংঘর্ষের সূত্রপাত। সেখানে আওয়ামী লীগ–সমর্থিত ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের স্থানীয় কাউন্সিলর প্রার্থী রোকন উদ্দিন আহমেদের সমর্থকদের সঙ্গে ইশরাকের কর্মী-সমর্থকদের বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে দুইপক্ষই একে ওপরের উদ্দেশ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা শুরু করে। এর মধ্যে অন্তত ১০টি গুলির শব্দও শোনা গেছে। দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে শুরু হয়ে ১টা ২৫ মিনিট পর্যন্ত সংঘর্ষ ও পাল্টা-পাল্টি ধাওয়া চলে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।
আওয়ামী লীগের সমর্থকেরা বলছেন, ইশরাকের মিছিল থেকে উসকানিমূলক শ্লোগান দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, বিএনপির সমর্থকেরা বলছেন, তাঁরা শান্তিপূর্ণ মিছিল নিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় হঠাৎ করে হামলা চালানো হয়। স্থানীয় বিএনপি কর্মীরা বলছেন, গতকাল রবিবার দুপুর ১টার দিকে ইশরাক মিছিল নিয়ে গোপীবাগে নিজের বাসার দিকে যাওয়ার সময় সেন্ট্রাল উইমেন্স কলেজের মোড়ে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা’ তাদের ওপর হামলা করে।
এ সময় দুইপক্ষের মধ্যে প্রায় ৪০ মিনিট ধরে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ঢিল ছোঁড়াছুঁড়ি চলে।  কয়েকটি গাড়ি এ সময় ভাঙচুরের শিকার হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ইশরাকের মিছিল যখন ওই পথ দিয়ে যাচ্ছিল, ঠিক তখন আওয়ামী লীগ সমর্থিক কাউন্সিলর প্রার্থী ব্যাডমিন্টন মার্কার রোকন উদ্দিন আহমেদ এবং সংরক্ষিত আসনের নারী কাউন্সিলর পদের প্রার্থী লাভলী চৌধুরীর কর্মীরা উপস্থিত হন ওই মোড়ে।
দুই পক্ষই শ্লোগান-পাল্টা শ্লোগান দিতে থাকে। এ সময়ে হ্যান্ড মাইকেও ধানের শীষ ও নৌকা প্রতীকের শ্লোগান দিতে থাকেন কর্মীরা। এক পর্যায়ে দুইপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং ঢিল ছোঁড়াছুঁড়ি শুরু হয়। দুইপক্ষের কর্মীরা এ সময় রাস্তার পাশে থাকা চেয়ারও ছুঁড়ে মারেন।
ওয়ারী থানার ডিউটি অফিসার শিলা আকতার বলেন, তারা ৯৯৯ থেকে প্রথম সংঘর্ষের খবর পান। এরপর সেখানে দ্রুত পুলিশ পাঠানো হয় এবং পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
হামলার ঘটনার পরে নিজের বাড়ির সামনে ইশরাক হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, নির্বাচনকে বানচাল করার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এ হামলা হয়েছে। আমরা হাটখোলা থেকে টিকাটুলি হয়ে আমার বাসার দিকে ফিরছিলাম জনসংযোগ শেষে। আমার বাসা থেকে আমরা মাত্র দুই মিনিট দূরে ছিলাম।
আমাদের ফেরার রাস্তার পাশে একটি নির্মাণাধীন বিল্ডিং থেকে আমাদের উপর আক্রমণ করা হয়। এই নির্মাণাধীন বিল্ডিংয়ে আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর প্রার্থীর ক্যাম্প ছিল। এই প্রার্থীর ক্যাম্প থেকে এক দল যুবক বড় বড় ইট নিয়ে আমাদের উপর নিক্ষেপ করে। এতে সাংবাদিক দের ক্যামেরা ভেঙে যায়। কয়েকজন ক্যামেরাম্যান আহত হন। বিএনপি’র জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়েই এ হামলা চালানো হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ইশরাক। ইশরাকের কর্মী রকী, বিল্লাহ হোসেন, জাহিদ ইকরাম ফয়সলসহ ১৪/১৫ জনকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে পাঠানো হয়। সময় টেলিভিশনের চিত্র সাংবাদিক আশরাফুল ইসলাম এ ঘটনায় আহত হয়েছেন। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী রোকন উদ্দিন আহমেদ পাল্টা অভিযোগ এনে বলেন, আমরা ক্যম্পের ভিতরে ছিলাম। হঠাৎ ইশরাকের লোকজন আমাদের নির্বাচনী ক্যাম্পের দরজা ভেঙে আমাদের উপর হামলা করে। এ সময় ইশরাকের লোকজন আট রাউন্ড গুলি ছোঁড়ে, তাদের হামলায় আমাদের লোকজন আহত হয়েছে। আমাদের কেউ হামলায় ছিল না।
সংঘর্ষে আহত ছয় আওয়ামী লীগ কর্মী ইয়াছিন আরাফাত রকি (৩৫), সোরহাব হোসেন (৫৬), মশিউর (৩০), রেজুয়ান ইসলাম রাতুল (২৬), মোঃ রমজান (৩৫) ও রাসেল (৩০) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে নেতা-কর্মীরা জানান। 
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ












ক্রিকেটার মিরাজের বাসায় চুরি

ক্রিকেটার মিরাজের বাসায় চুরি

২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২০ ০০:৪৬