খুলনা | বৃহস্পতিবার | ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২০ | ১৪ ফাল্গুন ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

জরুরি অবস্থায় ভর্তির সুযোগ নেই কোন হাসপাতালে

স্বাস্থ্য বিভাগের সমন্বয়হীনতায় খুমেকের বার্ন এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি চিকিৎসায় বেহাল দশা

বশির হোসেন | প্রকাশিত ২৬ জানুয়ারী, ২০২০ ০১:২০:০০

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগে গতকাল শনিবার নির্ধারিত ২০টি বেডের বিপরীতে রোগী ভর্তি ছিলো ৮৮ জন। গত সপ্তাহে এ সংখ্যা ছিল শতাধিক। অথচ পুরো হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক একজন। এছাড়া একজন সহকারী রেজিস্ট্রার পদমর্যাদার চিকিৎসক রয়েছেন যদিও তিনি দুপুরের পর আর সেখানে থাকেন না। এভাবে অপর্যাপ্ত জনবল ও অপ্রতুল যন্ত্রপাতি দিয়ে অনুমোদিত বেডের চারগুণের বেশি রোগীর প্রতিনিয়ত সেবা দিয়ে চলেছে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগ। অথচ এর বিপরীত চিত্র খুলনা আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালে। এখানকার বার্ন এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগে নির্ধারিত ২০ বেডের সবগুলো বেশিরভাগ সময় পূরণ হয় না। তবে একজন কনসালটেন্ট এর সাথে ৬ জন মেডিকেল অফিসার পোস্টিং রয়েছে এই হাসপাতালে। ফলে স্বাস্থ্য বিভাগের সমন্বয়হীনতায় খুমেকের রোগীরা পূর্ণ সেবা পাচ্ছেন না বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। 
সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্র ও সরেজমিন খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দেখা যায়, হাসপাতালের ৬ষ্ঠ তলায় ২০১৪ সালে মাত্র ২০টি বেড নিয়ে চালু হয় বার্ন এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগটি। নির্ধারিত ২০টি বেড থাকলেও সহকারী অধ্যাপক ডাঃ মোঃ তরিকুল ইসলামের ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় বর্তমানে বেড সংখ্যা ৩৬। তবে গতকালও রোগী ছিল ৮৮ জন। আর গত সপ্তাহে এ সংখ্যা ছিলো শতাধিক। বেডের বাইরে, বারান্দায়, বাইরে লিফট এর সামনে মানুষের হাঁটার রাস্তায়ও রোগী পরিপূর্ণ। এ অবস্থায় কলেজে ছাত্র পড়ানোর পাশাপাশি নিয়মিত সব রোগী রাউন্ড দিতে হয় একজন চিকিৎসককে। ওয়ার্ডে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পদ ২টি থাকলেও রয়েছেন মাত্র একজন। অন্যান্য চিকিৎসকের ৪টি পদ থাকলেও রয়েছেন একজন। সব মিলে মাত্র দু’জন চিকিৎসককেই এ সকল রোগীর সেবা দিতে হয়। হাসপাতালে দুপুরের পর কোন চিকিৎসক থাকেন না। এমনকি হাসপাতালে সব ওয়ার্ডে সার্বক্ষণিক ইণ্টার্ণ চিকিৎসক দায়িত্ব পালন করলেও এই ওয়ার্ডে কোন ইন্টার্ণ চিকিৎসক থাকেন না। দুপুরের পর শতাধিক রোগীর  চিকিৎসা পাওয়ার প্রয়োজন হলে পরের দিন চিকিৎসক আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। জরুরি প্রয়োজনে কখনও কখনও সহকারী রেজিস্ট্রার রাতে আসার কথা শোনা গেলেও এটা খুবই কম দিনে। 
খোঁজ নিয়ে জান যায়, সহকারী অধ্যাপক সপ্তাহে সোমবার আউট ডোরের রোগী দেখেন এবং রবিবার এবং বুধবার অপারেশন সার্জারি নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। এ সময় নতুন রোগী দেখলেও পুরনো সব রোগী সব সময় রাউন্ড দিতে পারেন না। এমন এক হাহাকার অবস্থার মধ্যদিয়ে বার্ন এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি ওয়ার্ড চলছে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজন অন্তত ২ জন সহকারী রেজিস্ট্রার ও ৪ জন মেডিকেল অফিসার। এছাড়া অন্যান্য ওয়ার্ডের মত ইণ্টার্ণ চিকিৎসকও প্রয়োজন সার্বক্ষণিক।
এদিকে শহিদ আবু নাসের হাসপাতালে নির্ধারিত ২০ বেডে ২০ জন রোগী নেই। কখনও কখনও ২০ জন পূর্ণ হলেও অধিকাংশ সময় ২-৪টি বেড খালি থাকে। তবে একজন কনসালটেন্ট এর সাথে ৬জন মেডিকেল অফিসার রয়েছে বলে জানা গেছে। ওয়ার্ডে সেবা নিয়ে রোগীদের কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। দীর্ঘক্ষণ ধরে অপারেশন করতে হয় এই ইউনিটের ডাক্তারদের। প্রতি সোমবার অপারেশনে সময় ব্যয় করেন। চার থেকে পাঁচ ঘন্টা প্রতিটি অপারেশনে সময় লাগে। 
সূত্র জানায়, সরকারি এ দুই হাসপাতালে খুলনা ও আশেপাশের জেলার সব ধরনের পোড়া রোগী আসে। তবে সরাসরি ভর্তি হতে পারে না। সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি হয়ে পরের দিন রেফার নিয়ে আসতে হয়। 
খুমেকের সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ডাঃ মোঃ তরিকুল ইসলাম বলেন, ২০টি বেড নিয়ে শুরু করেছিলাম। সেই একজন চিকিৎসকই রয়েছে কিন্তু বর্তমানে রোগী বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮০ জনের বেশি। মাঝে মাঝে শতাধিক রোগী বেশি হয় এখানে। বেড দিতে না পারায় ফ্লোরে শুইয়ে সেবা দিতে হচ্ছে। জরুরী ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক এখানে পদায়ন করা প্রয়োজন। বেড় বাড়িয়ে অন্তত ৫০টি বেড দ্রুততার সাথে দেয়া প্রয়োজন।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ












ক্রিকেটার মিরাজের বাসায় চুরি

ক্রিকেটার মিরাজের বাসায় চুরি

২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২০ ০০:৪৬