খুলনা | রবিবার | ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২০ | ১০ ফাল্গুন ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

আতংক ছড়াচ্ছে নিপা ভাইরাসঃ সর্তকতা খুবই জরুরী

ডাঃ সুমন রায় | প্রকাশিত ১৮ জানুয়ারী, ২০২০ ০০:০০:০০

গত ১১ জানুয়ারি গোপালগঞ্জের চরগোবরপুর থেকে রাশিদা (২০) নামে একজন নিপা ভাইরাস নিয়ে ভর্তি হয়েছে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। মেডিসিন ইউনিট-১ এ মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে মেয়েটি। মেয়েটির বাবা বাবুল হোসেন জানান কাচা খেজুরের রস খেয়েছে রাশিদা। প্রচন্ড জ্বর এর সাথে অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার ফলে হাসপাতালে ভর্তি করে রোগীর পরিবার। নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সুস্থ্য হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার সম্ভাবনা কম থাকে। কোন চিকিৎসা না থাকায় এখন পর্যন্ত এ রোগে মৃত্যুর হারই বেশি। নিপা ভাইরাস এর মৌসুম চলছে ফলে এখনই সতর্ক না হলে এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়। ফলে এই মুহুর্ত থেকেই কিছু সাধারণ নিয়ম মেনে চললে এড়ানো সম্ভব মরনঘাতি নিপা ভাইরাস।
দেশে সাধারণত ডিসেম্বর থেকে এপ্রিলের মধ্যে নিপা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। নিপা একটি ভাইরাসজনিত মারাত্মক রোগ, যা বাদুড় থেকে মানুষে সংক্রমিত হয়। আবার আক্রান্ত মানুষ থেকে মানুষেও সংক্রমিত হতে পারে। বাদুড়ে খাওয়া কাঁচা খেজুরের রস খেয়ে ওই সময় নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হয় অনেক মানুষ। এ ভাইরাস ছড়ায় মূলত বাদুড়ের মাধ্যমে। শীতের সময় খেজুর গাছে বাঁধা রসের হাড়িতে বাদুড় মুখ দেয়। বাংলাদেশে এভাবেই রোগটি মানুষে ছড়ায় বলে ধারণা করা হয়।
নিপা ভাইরাসের জন্ম ঃ ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত এই নিপা ভাইরাস জনিত রোগ সম্পর্কে অজানা ছিল মানুষ। তার এক বছর আগে মালয়েশিয়ার শুংগাই নিপা গ্রামে শুয়োরদের মধ্যে এনসেফ্যালাইটিস দেখা দিয়েছিল। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, লক্ষণ ছিল ভিন্ন। মৃত্যুর হারও তুলনায় বেশি। এরপর ১৯৯৯-তে শুয়োরদের মধ্যে ভাইরাস কম দেখা গেল। তবে তাদের সংস্পর্শে থাকা মানুষের মধ্যে প্রায় মহামারির মতো ছড়িয়ে পড়ল রোগ। সে বছরই শনাক্ত হয় নিপা ভাইরাস। শুংগাই নিপা গ্রামের নামে নাম দেওয়া হয় নিপা ভাইরাস।
রোগ নির্ণয় ঃ মানব মস্তিষ্কের কোষে ভাইরাস সংক্রমণের ফলে উৎপন্ন একটি বহু-নিউক্লিয়াসযুক্ত কোষে বাদামী রঞ্জক পদার্থের উপস্থিতি নিপা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রমাণ করে। নিপা ভাইরাস সংক্রমণের কোন নির্দিষ্ট প্রাথমিক লক্ষণ এবং উপসর্গ নেই এবং উপস্থাপনার সময় নিপাহ ভাইরাস রোগ হিসেবে প্রায়ই সন্দেহ হয় না, যা সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে বাধা হতে পারে এবং প্রাদুর্ভাব সনাক্তকরণ ও সময়মত সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে এটি একটি সমস্যা। উপরন্তু, ক্লিনিকাল নমুনার পরিমাণ, মান, টাইপ, সংগ্রহের সময়জ্ঞান এবং পরীক্ষাগারে রোগীদের থেকে নমুনার স্থানান্তর করার প্রক্রিয়ার ত্র“টি রোগনির্ণয়ের ফলাফলকে প্রভাবিত করতে পারে। প্রসাব, রক্ত, সেরিব্রোস্পাইনাল ফ্লুইড ইত্যাদি শারীরিক তরল থেকে প্রকৃত সময় পলিমারেজ চেন প্রতিক্রিয়া (আর টি-পিসিআর) সহ প্রধান পরীক্ষার পাশাপাশি এলাইসা, কোষ কালচার দ্বারা ভাইরাসটিকে সনাক্ত করা যায়। রোগ থেকে মুক্তি ঘটার পর ইমিউনোগ্লোবিউলিন জি ও ইমিউনোগ্লোবিউলিন এম অ্যান্টিবডি সনাক্ত করে নিপা ভাইরাসের সংক্রমণ নিশ্চিত করা যায়।
প্রতিরোধ ঃ নিপা ভাইরাস সংক্রমণের কোন কার্যকরী চিকিৎসা না থাকায় রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা অত্যন্ত পয়োজনীয়। বাদুড় ও রুগ্ন শূকর থেকে দূরে থেকে এই রোগ প্রতিরোধ করা যায়। বাদুড়ের বর্জ্যমিশ্রিত খেজুরের রস পান, ও বাদুড়ে পুর্ণ কুয়ার জল ব্যবহার না করাই শ্রেয়। 
চিকিৎসা ঃ বর্তমানে নিপা ভাইরাস সংক্রমণের কোন কার্যকরী চিকিৎসা নেই। সাধারণত- সহায়ক চিকিৎসা দ্বারা এই রোগ উপশমের চেষ্টা করা হয়ে থাকে। নিপা ভারিরাস দ্বারা আক্রান্ত এমন প্রত্যেক সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের আলাদা করে রাখা প্রয়োজন এবং প্রগাঢ় সহায়ক চিকিৎসা প্রয়োজন।
ডাঃ সুমন রায়
মেডিকেল অফিসার
মেডিসিন বর্হিবিভাগ
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক-স্বাচিপ 
খুলনা জেলা শাখা।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ









পেটে গ্যাস? সময় থাকতে সর্তক হোন

পেটে গ্যাস? সময় থাকতে সর্তক হোন

১৪ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০





ব্রেকিং নিউজ




খুলনায় জমে উঠেছে প্রাণের মেলা  

খুলনায় জমে উঠেছে প্রাণের মেলা  

২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২০ ০১:৪৯




দীর্ঘ ১৬ দিন পর সচল হলো বশেমুরবিপ্রবি 

দীর্ঘ ১৬ দিন পর সচল হলো বশেমুরবিপ্রবি 

২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২০ ০১:৪৭



মাতৃভাষা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধু 

মাতৃভাষা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধু 

২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২০ ০১:৪৪

ভাষা আন্দোলনের দাবি আজও পূরণ হয়নি

ভাষা আন্দোলনের দাবি আজও পূরণ হয়নি

২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২০ ০১:৩৯