খুলনা | শুক্রবার | ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২০ | ১৫ ফাল্গুন ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

শরীয়ত ও প্রচলিত সামাজিক কুসংস্কার

মোঃ মাহফুজুর রহমান আশরাফী | প্রকাশিত ১৭ জানুয়ারী, ২০২০ ০০:৩০:০০

শরীয়ত আরবী শব্দ। যার অর্থ চলার রাস্তা বা পথ। কুরআন ও সুন্নার বিধান হল শরীয়ত, পক্ষান্তরে, কুসংস্কার একটি সামাজিক অভিশাপ। কুসংস্কার একটি বাংলা শব্দ যার অর্থ “যুক্তিহীন ধারনা অথবা ধর্মবিশ^াস (সূত্র : বাংলা অভিধান-১৩৯)।
হাস্যকর নির্বুদ্ধিতার কথা, কল্পকথা, রূপকথা, মিথ্যাকথা, ইত্যাদি অর্থে ব্যবহৃত হয়। যেসব কাজ ও প্রথা রেওয়াজের ভিত্তিতে করা হয় এবং যা শরীয়ত অনুমোদিত ও সমর্থিত নয় এরূপ কাজকে কুসংস্কার বা রুসম বলা হয়”। শরীয়তের দৃষ্টিকোণে আমাদের সমাজে প্রচলিত কুসংস্কারগুলোর পরিচয় নিম্নে তুলে ধরা হল।
কুসংস্কারের উৎপত্তি : আধুনিক যুগ হওয়ার পরও সমাজের রন্ধে রন্ধে কুসংস্কার বিস্তার লাভ করছে যা সম্পূর্ণ শরীয়ত পরিপন্থী। বিশেষ করে তথাকথিত শিক্ষিত দাবীদার এক শ্রেণীর মুর্খ সমাজ মগজ দোলাইকৃত গ্রাম বাংলার সরল মনা অশিক্ষিত মানুষগুলো কুসংস্কারের বেড়াজালে সবচেয়ে বেশী আটকে আছে। তথা-কথিত এক শ্রেণীর অর্থলোভী ভন্ড বাতিল কাকিদাপন্থী পীর সেজে সাধারণ মানুষকে জান্নাতে প্রবেশের প্রতিশ্রতি প্রদান করে মুরীদ বানায় এবং তাদের দ্বারা শরীয়ত বিরোধী কার্যক্রম পরিচালনা করে। এইভাবে ইসলামে উদ্ভট, অবাস্তব, অন্ধবিশ^াস ও যুক্তিহীন অসার কল্পকাহিনী এবং ঈমান ও আমল বিধ্বংসী কুসংস্কারের উৎপত্তি হয়েছে সম্ভবত গ্রীক দর্শন থেকে। কেননা, তখন তারা মানুষদের আকৃষ্ট করতে মস্তিক প্রসূত কল্পকাহিনী রচনা করত। মানব সভ্যতার মধ্যযুগে গ্রীস, মিশর, ব্যাবিলন, চীন ও ভারতাদী অপেক্ষাকৃত উন্নত দেশ সমূহে চালিয়েছিল মানুষের কল্পনা প্রসূত নানাবিধ জপ, তপ, হোম, বলি ও নানাবিধ ক্রিয়ানুষ্ঠানাদী কুসংস্কারের প্রবল বন্যা এবং উহাই ছিল সেই দিনের মানুষের ধর্ম। (সূত্র : সৃষ্টি রহস্য- ১৪৬ পৃষ্ঠা)
প্রচলিত সমাজে কুসংস্কারের ধরন : পেপার-পত্রিকায়, ব্যানার, লিফলেট, যানবাহনের সম্মুখভাবে ও দরজায় “বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম” এর পরিবর্তে ৭৮৬ সংখ্যাটি লিখে রাখে। এ ধরনের কোন ব্যবহার শরীয়তে কোথাও পাওয়া যায় না। আর এটি যদি সত্যই হয়, তাহলে গোটা কুরআনের মান আসে তার মানে হলে এই সংখ্যাটি তাবীজ বানিয়ে গলায় ঝুলিয়ে রাখবে, কুরআন তেলাওয়াতও হবে না, গবেষণাও হবে না। যেমন দেখা যায়, সনাতন ধর্মে বিশ্বাসীরা হিসাব নিকাশের খাতায়ও শব্দ লিখে রাখে। ইহার অর্থ এরা হরি, কৃষ্ণ, নারায়ন, ব্রহ্ম, বিষ্ণু সবকিছু বুঝিয়ে থাকে। ইহাই এদের সকলের মন্ত্রের আদিবীজ (সূত্র : শ্রী শ্রী যোগএহ্ম বিদ্যা ৪র্থ খন্ড, প্রথম মন্ডল-১৭ পৃষ্ঠা)।
এক শ্রেণীর মানুষ শুভ-অশুভ আলামত বা নির্দশনে বিশ^াস করে, কুরআন তেলাওয়াতে নানা ধরনের পদ্ধতি আবিস্কার করে, কুরআন খুলেই যদি জাহান্নাম, শাস্তি, দুঃখ কষ্টের আয়াত ও আবু লাহাবের নাম উচ্চারণ করি, তাহলে দুর্ভাগ্য, অকল্যাণে ও অশুভ হতে পারে। এর বিপরীত যদি জান্নাত, শান্তিসুখের আয়াত পড়ি, তাহলে কল্যাণ ও উন্নতি হতে পারে। এগুলো এক ধরনের সামাজিক কুসংস্কার। আরবের মুশরিকরা কোথাও যাওয়ার সময় বা কোনো কাজের প্রথমে পাখি উড়িয়ে দিয়ে তার মাধ্যমে শুভ-অশুভ নির্ণয় করত। এর প্রতিবাদে আল্লাহর রাসূল (সাঃ) বলেন, “পাখি উড়িয়ে শুভ-অশুভ নির্ণয় করা শিরক (মুসলিম-হাদিস নং ২৯৮৫)”।
বর্তমান সময় মুসলমান বিজাতিদের কালচারে ঝুকে পড়ছে, দিন যতো যাচ্ছে ততো মুসলমান ততোই আসক্ত হচ্ছে বেশী। সালামের পরিবর্তে টাটা দেয়া, মাথা ঝুকানো, হাত নাড়ানো, আঙুল ও তালু দ্বারা ইশারা করা, হাত, পা ও মাথা ছুয়ে সালাম করা। বিদায় কালে সালামের পরিবর্তে আসি আসি বলা, হাত ও তালু দ্বারা ইশারা করা ইত্যাদি। যা ইসলামী শরীয়তে সম্মত নয়। হাদিসে উল্লেখ আছে, “তোমরা ইহুদী ও খৃস্টানদের পদ্ধতিতে সালাম দেবে না, কারণ তারা হাতের তালু, মাথা ও ইশারার মাধ্যমে সালাম দেয় (সূত্র : নাসাই আস্ মুনাপুল কুবরা- ৬-৯ পৃষ্ঠা)”।
খাবারের সময় সালাম দিতে নেই এবং কাউর সালামের জবাব দিতে নেই। ইহা শরীয়ত সম্মত নহে। এ প্রসংগে হাদিসে উল্লেখ আছে, একদিন আমি রাসূল (সাঃ) এর সঙ্গে খাবার খেলাম, আমি পত্রের সব দিক থেকে খেতে লাগলাম। রাসূল (সাঃ) আমাকে বললেন, নিজের কাছের দিক থেকে খাও (বুখারী, ফাওহুল বারী- ৯/৬৪৯ পৃষ্ঠা)”। খাবারের ব্যাপারে আমাদের সমাজে আরো কিছু কুসংস্কার আছে, যেমন খাবারে ফুক দিলে, কপাল থেকে খাবার উঠে যায়, প্লেট চেটে খেলে মানুষ হত দরিদ্র হয়ে যায়, নিজের ছায়ায় (বাতির আড়ালে) বসে পানাহার করতে নেই ইত্যাদি। 
চেহলাম বা চল্লিশা পালন ইহা একটি সনাতন ধর্মের প্রথা। বার নিয়ে কুসংস্কার যেমন, শনিবার, মঙ্গলবার, আমাবস্যা, ভদ্রমাস, চৈত্র মাস, তিথি গুনে কাজ, কাজের শুভ অশুভ মনে করা, যাত্রায় আস্তি নাস্ত্রি নির্ণয় করা কুসংস্কার, কারণ রাত্র দিন বার সবই মহান কুদরতে সৃষ্টি। আমাদের সমাজে আরো দেখা যায়, বার নিয়ে কুসংস্কার যেমন, রবিবারে বাঁশ ও চুল কাটতে নেই, তাহলে নাকি বাঁশ যাবে। সোমবারে বিয়ে করতে নেই তাহলে বউ থাকবে না। ভাদ্র মাসের প্রথম বারে মেয়ে শ^শুড় বাড়ি থাকতে নেই। চৈত্র মাসের ত্রিশ দিনের দিন শনিবার হলে দেশে ফসল হয় না। দেশ ঘর অকাল দুর্ভিক্ষ লেখে হাহাকার পড়ে যায়। ভাল দিনে জন্ম গ্রহণ করলে সুফল পাওয়া যায়। (বাকি অংশ পরবর্তী সংখ্যায়) 
লেখক: মুফাসিরে কুরআন ও প্রভাষক, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, মাতৃভাষা ডিগ্রী কলেজ। শরণখোলা, বাগেরহাট।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ

পবিত্র শবে মেরাজ ২২ মার্চ 

পবিত্র শবে মেরাজ ২২ মার্চ 

২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২০ ০০:২৬

শরীয়ত ও প্রচলিত সামাজিক কুসংস্কার

শরীয়ত ও প্রচলিত সামাজিক কুসংস্কার

২৪ জানুয়ারী, ২০২০ ০০:০০



আল-কুরআনে মৌমাছি ও মধু বিজ্ঞান 

আল-কুরআনে মৌমাছি ও মধু বিজ্ঞান 

২০ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:৩৯



ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম  ৯ ডিসেম্বর

ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম  ৯ ডিসেম্বর

২৮ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:১৫



বিশ্ব ইজতেমার তারিখ ঘোষণা

বিশ্ব ইজতেমার তারিখ ঘোষণা

২৯ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:২৮



ব্রেকিং নিউজ



মেয়েদের গ্র“পের ফাইনালে উন্নীত খুলনা

মেয়েদের গ্র“পের ফাইনালে উন্নীত খুলনা

২৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২০ ০০:০৫