খুলনা | শনিবার | ১৮ জানুয়ারী ২০২০ | ৫ মাঘ ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

সরকারি হাসপাতালের সংবাদ সংগ্রহে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র 

‘স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে’

আশরাফুল ইসলাম নূর | প্রকাশিত ১৪ জানুয়ারী, ২০২০ ০১:০০:০০

সরকারি হাসপাতালের দর্শণার্থী ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত দাপ্তরিক আদেশের ৬ নম্বরে সংবাদ সংগ্রহের ক্ষেত্রে কতিপয় নির্দেশনা জারী করা হয়েছে। গত ১২ জানুয়ারি রবিবার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব মোঃ আবু রায়হান মিঞা স্বাক্ষরিত পরিপত্রে আটটি নির্দেশনা দেয়া হয়। এদিকে, সংবাদ সংগ্রহের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য বিভাগের এ ধরনের নির্দেশনাকে স্বাধীন নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা হিসেবে আখ্যায়িত করছেন সংশ্লি¬ষ্টরা। এ বিধিটি বাতিলের দাবি জানিয়েছেন তারা।
বাংলাদেশ মেডিকেল এ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) খুলনার সভাপতি ডাঃ শেখ বাহারুল আলম বলেন, “অবাধ তথ্য প্রবাহ আইনের চরম স্ববিরোধিতা হয়েছে এই পরিপত্রের মাধ্যমে। নাগরিকের তথ্য গোপন করে রাখার অধিকার সরকার বা বেসরকারি সংস্থার নেই। কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধেই তো নাগরিকদের অভিযোগ বা ক্ষোভ থাকতেই পারে, তা সংবাদকর্মীরা যদি সেই ক্ষোভের বিষয়টি খবরে তুলে না আনেন তাহলে সরকার বা রাষ্ট্র সংক্ষুব্ধ বিষয়টি জানবে কিভাবে? সরকারের জানার জন্যেও অবশ্যই সরকারি হাসপাতালের সকল অসঙ্গতির বিষয়ে সংবাদ প্রকাশিত হওয়া দরকার। আর বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশিত না হবার তো কোন কারণ নেই। দু’একজন অপসাংবাদিকতা করে; তাদের কারণে অধিকাংশ স্বাধীন ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতাকে বাঁধাগ্রস্ত করা সঠিক নয়।”
তিনি আরও বলেন, “মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে একটি আধুনিক রাষ্ট্রের জন্ম দিয়ে গেছেন বঙ্গবন্ধু। সেখানে সংকোচন নীতি তো ঠিক না। উদার হতে হবে। ব্যক্তি, সমাজ ও সরকারকে স্বচ্ছ হতে হবে। অস্বচ্ছ কোনকিছুই কল্যাণ বয়ে আনতে পারে না। রোগীদের প্রতি অবহেলা, প্রশাসনের ব্যবস্থাপনার ত্র“টি, ক্রয় বাণিজ্য, অপরিকল্পিত পরিকল্পনা, ভর্তি বাণিজ্য এ সকল বিষয়ে তথ্য সাংবাদিকদের সংগ্রহ করার ক্ষেত্রে বাধা থাকা উচিত না। বরং সরকার সংবাদকর্মীদের আরও সহযোগিতা করা উচিত। তাদের বিচরণের ক্ষেত্র আরও প্রসারিত করা উচিত। কেবলমাত্র হাসপাতালের সংবেদনশীল এলাকা যেমন, “অপারেশন থিয়েটর, ডেলিভারী কক্ষ, লেবার কক্ষ, এনেসথেশিয়া ও নিবীড় পর্যবেক্ষণ বিভাগে প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত থাকবে; তাও রোগীর স্বার্থে।”
সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) খুলনার জ্যেষ্ঠ সদস্য অধ্যক্ষ জাফর ইমাম বলেন, “আমাদের দেশটাকে যদি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বলে মনে করি বা দাবি করি; তাহলে এ ধরনের আদেশ-নিষেধ একেবারেই গণতন্ত্রের সাথে সম্পৃক্ত করা যায় না। গণতন্ত্রের সাথে মানান সইও নয়। আমাদের প্রত্যেকেরই সবকিছু জানার, দেখার, মতপ্রকাশ করার অধিকার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে থাকা উচিত। আমরা মনে করি জনগণের সঠিক তথ্য জানবার মাধ্যম হলো খবরের কাগজ বা টেলিভিশন। সেই গণমাধ্যমের উপরে যদি এ ধরনের বাধা-নিষেধ আরোপ করা হয়; তো সেটা আমাদের কাম্য নয়।”
তিনি বলেন, মাঝে-মধ্যে অনিয়ম-দুর্নীতি বিরোধী অভিযানের খবর দেখে মনে হয় সরকার প্রধান খুবই আন্তরিক। তাহলে স্বাস্থ্য বিভাগের সংবাদ সংগ্রহের ক্ষেত্রে এ ধরনের বাধা-নিষেধ কেন?
খুলনা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মামুন রেজা বলেন, পেশাদার সাংবাদিকদের স্বাস্থ্য বিভাগের সংবাদ সংগ্রহ চরমভাবে বিঘিœত হবে। সরকারের সেবামূলক অন্য কোন সেক্টরে এ ধরনের নীতিমালা নেই। বিআরটিএ এবং পাসপোর্টসহ সরকারি অন্য কোন দপ্তরে এমন নীতিমালা নেই যে, কোন সংবাদ প্রকাশের পূর্বে অনুমতি নিতে হবে বা ভিডিও চিত্র দেখিয়ে তারপর সংবাদ প্রচার করতে হবে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এ পরিপত্রজারীতে স্বাধীন, বস্তুনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতা বাধাগ্রস্ত হবে বলে মন্তব্য করলেন খুলনা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক এ সভাপতি।
চ্যানেল ২৪ ও দৈনিক সমকাল-এর খুলনা ব্যুরো প্রধান মামুন রেজা আরও বললেন, ‘আমি বিশ্বাস করি-স্বাস্থ্য বিভাগের এ নীতিমালা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বিস্তারিত জানেন না। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় দেশব্যাপী শুদ্ধি অভিযান চলছে; এ মুহূর্তে এ ধরনের নীতিমালা অসাধুদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেবার অপচেষ্টা হতে পারে। এ নীতিমালা বাস্তবায়ন হলে শুধু সাংবাদিকদের সংবাদ সংগ্রহ বাধাগ্রস্ত হবে না; একই সাথে স্বাস্থ্যসেবা বঞ্চিতের হার, অবহেলা, অনিয়ম ও দুর্নীতি বাড়বে। রবিবার মন্ত্রণালয়ের সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা-১ শাখার প্রেরিত দর্শনার্থী ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত পরিপত্রের ৬নং কলামটিতে সংবাদ সংগ্রহ সম্পর্কিত বিধিনিষেধ দেখে হতবাক হয়েছি।’


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ