খুলনা | মঙ্গলবার | ২১ জানুয়ারী ২০২০ | ৮ মাঘ ১৪২৬ |

শিরোনাম :

Shomoyer Khobor

সংকটে খুলনা অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত নয় পাটকল

ছয় মাসে লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ২৬ শতাংশ পাট ক্রয় : কমেছে উৎপাদন 

মোহাম্মদ মিলন | প্রকাশিত ১৪ জানুয়ারী, ২০২০ ০১:১৫:০০

খুলনা অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত ৯টি পাটকলে দেখা দিয়েছে চরম সংকট। পুরাতন মেশিনারিজ, অর্থাভাব, পাট সংকট আর বিশ্ব বাজারে চাহিদা কমে যাওয়ার কারণে এ দূরাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে লোকসানের বোঝা বাড়ছে দিন দিন। আর বেকার হচ্ছে অসংখ্য শ্রমিক। আর্থিক সংকটে লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে মাত্র ২৬ শতাংশ পাট ক্রয় করেছে গত ৬ মাসে। ফলে কমেছে উৎপাদন, বন্ধ রয়েছে অধিকাংশ তাঁত। মজুদ রয়েছে ২৮ হাজার ৪৩৩ মেট্রিকটন উৎপাদিত পাটজাত পণ্য।  
পাটকল সূত্র জানা যায়, প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে খুলনার ৯টি পাটকলে ৫ হাজার ১০৯টি তাঁত স্থাপন করা হয়। যার অধিকাংশই এখন বন্ধ রয়েছে। এমনকি বাজেট অনুযায়ী যে কয়টি তাঁত চালু থাকার কথা তার অর্ধেকে নেমে এসেছে। বাজেট অনুযায়ী ৩ হাজার ৬৫০টি তাঁত চালু থাকার কথা। সেখানে চালু রয়েছে ১ হাজার ৯১২ টি।     
এদিকে পাটকলগুলোতে চরম পাট সংকট দেখা দিয়েছে। চলতি অর্থ বছরে পাট ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৮ লাখ ৩১ হাজার ৮৯৩ কুইন্টাল। লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে গত শনিবার পর্যন্ত ৬ মাসে পাট ক্রয় করা হয়েছে মাত্রা ২ লাখ ১২ হাজার ৮৬৬ কুইন্টাল। যা লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ২৬ শতাংশ। 
এসব কারণে পাটকলগুলোতে উৎপাদনও কমেছে। খুলনার ৯টি পাটকলে দৈনিক উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ২৭২ মেট্রিক টন। সেখানে উৎপাদন হচ্ছে মাত্র ৮০ মেট্রিক টন পাটজাত পণ্য। অন্যদিকে খুলনার ৯টি পাটকলে বিক্রির অপেক্ষায় পড়ে রয়েছে ২৮ হাজার ৪৩৩ মেট্রিক টন উৎপাদিত পাটপণ্য।    
ক্রিসেন্ট জুট মিল সিবিএ’র সাবেক সভাপতি মোঃ মুরাদ হোসেন জানান, মিলে পাট নেই, কাক্সিক্ষত উৎপাদন নেই। মৌসুম শেষ হয়ে পারেনি পাটের অভাব দেখা দিয়েছে। মৌসুমে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হলে স্বল্প মূল্যে পাট কেনা সম্ভব হতো। এতে উৎপাদনও বেড়ে যেত। অথচ বর্তমানে উৎপাদন নেমে এসেছে চার ভাগের এক ভাগে। এছাড়া উৎপাদিত পণ্যও বিক্রি করতে পারছে না। ফলে শ্রমিকরা নিয়মিত মজুরি পাচ্ছে না। চরম দুর্দশায় রয়েছে তারা। সার্বিকভাবে সংশ্লিষ্টদের অব্যবস্থাপনার কারণে মিলগুলো ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে।   
প্লাটিনাম জুট মিল সিবিএ’র সাবেক সভাপতি মোঃ খলিলুর রহমান বলেন, মৌসুমে পাট ক্রয় না করা, ষাটের দশকের যন্ত্রপাতির কার্যক্ষমতা কমে যাওয়ায় পাটকলে উৎপাদন হ্রাস পেয়েছে। আর বেসরকারি পাটকলের উৎপাদিত পণ্য বিক্রি হচ্ছে। অথচ সরকারি পাটকলের উৎপাদিত পণ্য বিক্রি হচ্ছে না, এর কারণ কী তা আমাদের বোধগম্য নয়। এতে সার্বিকভাবে শ্রমিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। 
প্লাটিনাম জুট মিলের প্রকল্প প্রধান মোঃ গোলাম রব্বানী জানান, উৎপাদিত পণ্য সময়মতো বিক্রি না হওয়ায় আর্থিক সংকট দেখা দিয়েছে। আর্থিক সংকটের কারণেই মূলত প্রয়োজনীয় পাট কেনা সম্ভব হচ্ছে না। আর পাট কম থাকায় উৎপাদনও কমেছে। চলতি মাসে উৎপাদিত পণ্য বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে। এসব পণ্য বিক্রি হলে আর্থিক সংকট কিছুটা কমে যাবে।   
বিজেএমসি’র খুলনার সমন্বয়কারী মোঃ বনিজ উদ্দিন মিয়া জানান, আর্থিক সংকটের কারণে পাট ক্রয়ে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। উৎপাদিত পণ্য বিক্রি না হওয়ায় মজুদ বেড়েছে। তবে দ্রুত এসব পণ্য বিক্রি হবে বলে তিনি আশাবাদী।  


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ



৫১ বোতল ফেন্সিডিলসহ  একজন গ্রেফতার

৫১ বোতল ফেন্সিডিলসহ  একজন গ্রেফতার

২১ জানুয়ারী, ২০২০ ০০:৫২











ব্রেকিং নিউজ



৫১ বোতল ফেন্সিডিলসহ  একজন গ্রেফতার

৫১ বোতল ফেন্সিডিলসহ  একজন গ্রেফতার

২১ জানুয়ারী, ২০২০ ০০:৫২







খসড়া তালিকায় ভোটার  ১০ কোটি ৯৬ লাখ

খসড়া তালিকায় ভোটার  ১০ কোটি ৯৬ লাখ

২১ জানুয়ারী, ২০২০ ০০:৪০