খুলনা | শনিবার | ১৮ জানুয়ারী ২০২০ | ৫ মাঘ ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

স্যালো মেশিনে জলাবদ্ধ বিলের পানি নিষ্কাশন শুরু

এবার তলিয়ে যাচ্ছে বিল খুকশিয়ার মাছের ঘের, বাড়ির উঠানে পানি

মেহেদী হাসান জাহিদ, কেশবপুর  | প্রকাশিত ১৪ জানুয়ারী, ২০২০ ০০:০০:০০

এবার তলিয়ে যাচ্ছে বিল খুকশিয়ার মাছের ঘের, বাড়ির উঠানে পানি

কেশবপুরে বোরো আবাদের লক্ষে জলাবদ্ধ বিলের পানি স্যালো মেশিন দিয়ে নিষ্কাষনের কারণে পশ্চিম বিলখুকশিয়ার ৩০টি ঘেরের বেঁড়িবাধ ভেঙে পানিতে একাকার হয়েছে, এত কোটি টাকার মাছ ভেসে গেছে। উপচে পড়া পানি উপজেলার বাগডাঙ্গা ও কালিচরণপুর গ্রামের অর্ধশত বাড়িতে ঢুকে পড়েছে। হরিহর ও আপারভদ্রা নদীতে পাউবোর বেঁড়িবাধের পাশাপাশি শ্রীহরি নদীর নাব্যতা না থাকায় পানি নিষ্কাশন পথ বন্ধ হয়ে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। পানি নিষ্কাশন সম্ভব না হলে চলতি বোরো মৌসুমে প্রায় ৪০ হাজার মেট্রিক টন ধান কম উৎপাদন হবে বলে কৃষকরা আশঙ্কা করছেন। চলতি বছর পানি নিষ্কাশনের পথ না থাকায় যশোর সদরের সুতিঘাটা, মনিরামপুর ও কেশবপুরের পশ্চিমাংশের ২৭ বিলসহ উপজেলার ৬ ইউনিয়নের প্রায় ৫০ বিল জলাবদ্ধ হয়ে পড়ে। এসব বিলের অতিরিক্ত পানি বাগডাঙ্গা দিয়ে কাটাখালি ৮ ব্যান্ড স্লুইস গেট হয়ে ডায়েরখাল দিয়ে শ্রীনদীতে নিষ্কাশন হয়ে থাকে। কিন্তু বিল ও খালের তলদেশ থেকে শ্রীহরি নদীর তলদেশ পলিতে উঁচু হওয়ার কারণে পানি নিষ্কাশন হচ্ছে না। এরপরও ওই অঞ্চলের কৃষকরা বোরো আবাদের লক্ষে জলাবদ্ধ বিলের পানি স্যালো মেশিন দিয়ে নিষ্কাশন কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। বিলের পানি হরিহর ও আপারভদ্রা নদী দিয়ে শ্রীহরি নদীতে নিষ্কাশন হয়ে থাকে। কিন্তু হরিহর ও আপারভদ্রা নদী খননের জন্য পাউবো বাঁধ দিয়ে আটকে রেখেছে। যে কারণে পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্থ হচ্ছে।  
সুফলাকাটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাষ্টার আব্দুস সামাদ জানান, জলাবদ্ধ বিলের পানি স্যালো মেশিন দিয়ে নিষ্কাশন করার কারণে পানি ডায়েরখাল উপচে পশ্চিম বিল খুকশিয়ায় ঢুকছে। ইতোমধ্যে ৩০টি ঘেরের বেঁড়িবাধ ভেঙে একাকার হয়ে গেছে। উপচে পড়া পানিতে সুজিত হালদার, রবিন মন্ডল, বিশ্বনাথ মন্ডল, দীপক মন্ডল, সুকদেব মন্ডল, অমল মন্ডলসহ কমপক্ষে ২৫/৩০ ঘের মালিকের ঘেরের বেঁড়িবাধ ভেঙে প্লাবিত হয়ে কোটি টাকার মাছ ভেসে গেছে। পানির চাপে এখনও বাঁধ ভাঙা অব্যাহত আছে। উপজেলার বাগডাঙ্গা ও কালিচরণপুর গ্রামের অর্ধশত বাড়ির উঠানে এখন পানি। এভাবে পানি বাড়তে থাকলে মানুষ চরম ক্ষতির সম্মুখীন হবে। পানির কারণে এসব বিলে এবার বোরো আবাদ হবে না। 
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মহাদেব চন্দ্র সানা জানান, চলতি বছর বোরো আবাদের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ১৫ হাজার হেক্টর জমি। জলাবদ্ধতার কারণে এবার বোরো চাষের লক্ষমাত্রা পূরণ হবে না। শেষ পর্যন্ত পানি নিষ্কাশন সম্ভব না হলে কেশবপুরে ৩০ হাজার মেট্রিক টন ধান কম উৎপাদন হবে বলে তিনি আশঙ্কা করছেন। 
সুফলাকিটি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মুনজুর রহমান বলেন, গত এক সপ্তাহ ধরে পাঁজিয়া ও সুফলাকাটি ইউনিয়নের ১০/১২টি বিলের পানি নিষ্কাশন করা হচ্ছে ২৫টি স্যালো মেশিন দিয়ে। কিন্তু হরিহর নদীতে বাঁধ থাকায় পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। আপারভদ্রা দিয়ে পানি শ্রীহরি নদীতে নিষ্কাশন হচ্ছে না।   
এ ব্যাপারে কেশবপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মুন্সি আছাদুল্লাহ বলেন, ২৭ বিলের পানি ডায়ের খাল হয়ে শ্রীহরি নদীতে নিষ্কাশন হয়ে থাকে। কিন্তু বিল ও খালে চেয়ে ওই নদীর তলদেশ উঁচু হওয়ায় পানি নিষ্কাশন হচ্ছে না। যে কারণে ডায়ের খালের পানি উপচে পড়ছে। খনন কাজ সম্পূর্ণ না হলে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ