খুলনা | মঙ্গলবার | ২১ জানুয়ারী ২০২০ | ৮ মাঘ ১৪২৬ |

শিরোনাম :

Shomoyer Khobor

সরেজমিন প্রতিবেদন

দুুপুরের পর বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরিণত হয় খুমেক হাসপাতালের ইনডোর

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত ১২ জানুয়ারী, ২০২০ ০১:২০:০০

দুপুর দুইটার পর বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরিণত হয় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। ভ্রাম্যমাণ এক্সেরে, ইসিজি, ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দালাল আর ওষুধের দোকানের প্রতিনিধিরা দাপিয়ে বেড়ায় হাসপাতালের ইনডোর বা আন্তঃবিভাগে। ইন্টার্ণি চিকিৎসক ছাড়া ওই সময় কোন চিকিৎসক না থাকায় অনেকটা নিরাপদে সাধারণ রোগীদের জিম্মি করে নিজেদের আখের গোছাচ্ছেন তারা। 
গতকাল শনিবার বিকেল তিনটা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খুলনা মেডিকেল কলেজের আন্তঃবিভাগগুলো ঘুরে এমন চিত্র মিলেছে। ভুক্তভোগীরা বলছেন, দিনের বেলায় হাসপাতাল পরিচালকের নজরদারির মধ্যে থাকলেও দুপুর দুইটার পর তা অভিভাবকহীন ও দালালদের আখড়ায় পরিণত হয়।
সার্জারি ওয়ার্ড ১১-১২ নম্বর ওয়ার্ডে আজ রবিবার পূর্ব নির্ধারিত অপারেশন হবে মোঃ ইসমাইল নামে একজন চাকুরিজীবীর স্ত্রী সাহানা বেগমের। পিপিবিএফ এবং এফবিএস পরীক্ষাসহ আরও কয়েকটি পরীক্ষা নিরীক্ষা করিয়ে প্রয়োজনীয় ওষুধ কিনে অপারেশনের জন্য প্রস্তুতি নিতে বলেছেন ওয়ার্ডের সহকারী রেজিস্ট্রার। তবে ইন্টার্ণি চিকিৎসকরা বললেন পরীক্ষাটি বাইরে থেকে করিয়ে আনার জন্য। একটি নম্বরও দিলেন রোগীর স্বজনদের। নাম্বারে ফোন দিয়ে দেখা গেল সন্ধানী ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের নম্বর। কিছুক্ষণ পর আরও একজন লোক এসে তাকে বলেন, আপনার অপারেশন কাল (রবিবার)। স্লিপ দেন ওষুধ আনতে হবে। তার পরিচয় জিজ্ঞাসা করলে দাম্ভিকতার সুরে বলেন, আমি ওয়ার্ড ফার্মাসিস্ট। পরে ওয়ার্ড ফার্মাসিস্ট কি, এই পদ তাকে কে দিয়েছে, জিজ্ঞাসা করলে কিছুটা বিব্রত বোধ করে নিজেকে হাসপাতালের সামনের ওষুধের দোকানের প্রতিনিধি দাবি করেন। এরপর তাকে কিছুটা গরম সুরে এভাবে কথা বলার কারণ জিজ্ঞাসা করলে বলেন, তারা নিজেরা বিভিন্ন ওয়ার্ড ভাগ করে এভাবেই রোগীদের ওষুধ কিনতে বাধ্য করেন। মেডিসিন বিভাগ ৭-৮ এ গিয়েও দেখা যায় টেস্টগুলো চলে যাচ্ছে হেলথ গার্ডেন, ফাতেমা হাসপাতাল এবং সন্ধানী ডায়াগনস্টিক সেন্টারের নির্ধারিত প্রতিনিধির কাছে। 
অর্থোপেডিক্স সার্জারি ওয়ার্ডে দেখা যায় ভ্রাম্যমাণ এক্সেরে মেশিন। আর বার্ণ এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, ফাতেমা হাসপাতাল ও সন্ধানী ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের নির্ধারিত লোককে ব্লাডের স্যাম্পল দেয়ার জন্য অপেক্ষা করছে দুইজন। সারাদিনের মধ্যে মাত্র তিন ঘন্টা ইসিজি হয় না। ইজিসি করার একমাত্র সরকারি টেকনেশিয়ান আইয়ুব আলী বিকেলে বিশ্রামে গেলে দালাররা ইসিজি হাতে নিয়ে চলে আসে হাসপাতালে।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ এটিএম মোর্শেদ এ প্রতিবেদককে বলেন, হাসপাতালের প্রত্যেকটি বিষয় নজরদারিতে রাখার চেষ্টা করি। কোন অনিয়ম পেলে সাথে সাথে নিজে গিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হয়। প্যাথলজি বিভাগ এক বেলার পরিবর্তে দুই বেলা খোলা রেখেছি। তবে এখনও ফাঁকে ফাঁকে দালাল ঢোকে বলেও তিনি স্বীকার করেন। তবে দালালদের ধরে পুলিশে দেয়ার জন্য সবাইকে আহ্বান জানান তিনি। অন্যদিকে কোন অভিযোগ আসলে এক মিনিটও দেরি না করে সাথে সাথেই তদন্তের পর ব্যবস্থা নেয়া হয়।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ



৫১ বোতল ফেন্সিডিলসহ  একজন গ্রেফতার

৫১ বোতল ফেন্সিডিলসহ  একজন গ্রেফতার

২১ জানুয়ারী, ২০২০ ০০:৫২











ব্রেকিং নিউজ



৫১ বোতল ফেন্সিডিলসহ  একজন গ্রেফতার

৫১ বোতল ফেন্সিডিলসহ  একজন গ্রেফতার

২১ জানুয়ারী, ২০২০ ০০:৫২







খসড়া তালিকায় ভোটার  ১০ কোটি ৯৬ লাখ

খসড়া তালিকায় ভোটার  ১০ কোটি ৯৬ লাখ

২১ জানুয়ারী, ২০২০ ০০:৪০