খুলনা | বুধবার | ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২০ | ১৩ ফাল্গুন ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

সঠিক পরিসংখ্যান নেই কর্তৃপক্ষের কাছে

খুলনায় বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টার ব্যবসা নিয়ন্ত্রণহীন : এক বছরে খুলেছে নতুন ২০টি

বশির হাসেন   | প্রকাশিত ১০ জানুয়ারী, ২০২০ ০১:১৫:০০

খুলনায় নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ব্যবসা। নিম্নমানের রি-এজেন্ট, প্রশিক্ষিত জনবলের অভাব আর দালাল নির্ভর এসব প্রতিষ্ঠান রোগীদের গলার কাটায় পরিণত হয়েছে। গত এক বছরে খুলনায় অন্তত ২০টি নতুন ডায়াগনস্টিক সেন্টার চালু হয়েছে যার বেশির ভাগেরই নেই ন্যূনতম মান। এসব প্রতিষ্ঠানের হাত থেকে সাধারণ রোগীদের বাচাতে এখনই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, খুলনায় ১২০টি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ প্রাইভেট হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক এসোসিয়েশনের সদস্য। এর মধ্যে অনেক নাম সর্বস্ব ও ভূঁইফোড় প্রতিষ্ঠানও টাকার বিনিময়ে এই সংগঠনের সদস্য হয়েছে, যাদের সেবার ন্যূনতম মান নেই। আবার এসব প্রতিষ্ঠানের বাইরে খুলনায় প্রায় অর্ধশত বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে যারা সম্পূর্ণ দালাল নির্ভর।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আশেপাশে ৫শ’ গজের মধ্যে কোন ডায়াগনস্টিক সেন্টার প্রতিষ্ঠার বিধিনিষেধ থাকলেও এখানে অন্তত ২০টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। আর এই ২০ প্রতিষ্ঠানের দুই শতাধিক দালাল রোগী বেশে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসা সাধারণ রোগীদের সর্বশান্ত করছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কড়াকড়ি আর পুলিশের ভয়ে সকালে গিয়েই এসব দালালরা একটি টিকিট কেটে পকেটে রেখে নিজেকে বৈধ রোগী সাজিয়ে রোগী বাগিয়ে আনছে ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। খোঁজ নিয়ে যানা যায়, লাইসেন্স ফি ও প্রয়োজনীয় অনেক কাগজপত্র নিয়ে আপত্তি থাকায় অসম্পূর্ণ অবস্থায় অনলাইনে আবেদন করে ব্যবসা করছে নগরীর অনেক বেসরকারি ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও হাসপাতাল। দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়ার কারণে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানেরই লাইসেন্স-এর মেয়াদ শেষ হয়েছে ইতোমধ্যে। এরই মাঝে প্রতিনিয়ত প্রাইভেট হাসপাতাল ও ক্লিনিক এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টার তৈরি হচ্ছে নগরীর রাস্তার মোড়ে মোড়ে।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ হালনাগাদ তালিকা থেকে জানা যায়, নগরীতে লাইসেন্সকৃত বেসরকারি ক্লিনিক হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সংখ্যা ১৮০টি। তবে সিনিয়র একাধিক চিকিৎসকের সাথে আলাপ করে এবং নগরীর বিভিন্ন স্থান ঘুরে ২৫০ এর বেশি ক্লিনিক, হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের খোঁজ পাওয়া গেছে। অথচ খুলনায় সর্বমোট বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সঠিক সংখ্যা কত এর কোন হিসাব নেই কর্তৃপক্ষের কাছে।
খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক রাশিদা খানম বলেছেন, অন্যায় ও অবৈধভাবে কেউ হাসপাতাল ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিচালনা করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এখন লাইসেন্স সংক্রান্ত সকল কাজ অনলাইনে সরাসরি ঢাকা থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। খুব শিগগিরই যে সকল প্রতিষ্ঠান এখনও আবেদন করেনি তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ