খুলনা | মঙ্গলবার | ২১ জানুয়ারী ২০২০ | ৮ মাঘ ১৪২৬ |

শিরোনাম :

Shomoyer Khobor

দুই কর্মচারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ

কতিপয় দালালের কারণে খুমেক হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংক রক্তের দোকানে পরিণত হয়েছে 

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত ০৯ জানুয়ারী, ২০২০ ০১:২৫:০০

পাইকগাছার অটোরিকশা চালক রায়হানের স্ত্রী ববি (২০)’র আট মাসের সন্তানের অকাল গর্ভপাতের কারনে রক্তক্ষরণের ফলে প্রচন্ডভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা জানান, এখনি রক্তের প্রয়োজন, না হলে রোগীর জীবন বিপন্ন হতে পারে। স্ত্রীকে বাঁচাতে রায়হান যখন পাগল প্রায় তখন তাকে রক্ত দেয়ার কথা বলে আউট সোর্সিং কর্মচারী আদনান ৫ হাজার টাকা দাবি করে। নিরুপায় ড্রাইভার স্ত্রীকে বাঁচাতে দরকষাকষির মাধ্যমে ৩ হাজার ৭৫০ টাকা তার বিকাশে দেয়। আর এভাবেই একজন রোগীর দান করা বিনামূল্যের রক্ত আর একজন রোগী কিনছেন চড়াদামে। অথচ এই রক্ত গরীব অসহায় রোগীদের ফ্রি পাওয়ার কথা। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতিদিনই রোগীদের কাছ থেকে ফেরত আসা অনেক ব্যাগ রক্তই এভাবে বিক্রি হয় অন্য রোগীদের কাছে। গতকাল বুধবার এই অভিযোগে হাসপাতালের আউট সোর্সিং কর্মচারী আদনান খানকে চাকুরিচ্যুত করে পরিচালক ডাঃ এটিএম মোর্শেদ। একই অভিযোগে ল্যাব সহকারী রওশনারা নামে একজনকে হাসপাতাল থেকে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক এর দপ্তরে ফেরত পাঠিয়ে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপারিশ করা হয়।
এদিকে আমাদের খুলনা ফেসবুক গ্র“পের সদস্যরা খুলনা ব্লাড ব্যাংক-এর সদস্যদের একটি পোস্ট শেয়ার করলে তা ভাইরাল হয় এবং গতকাল সম্মিলিত দুর্নীতি বিরোধী জোট-এর আহ্বায়কসহ খুলনার সামাজিক সাংস্কৃতিক বিভিন্ন সংগঠনের সদস্যরা পরিচালকের দপ্তরে বিষয়টি অবগত করেন। এ ঘটনায় আদনান এবং রওশন আরার সম্পৃক্ততার অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
ব্লাড ব্যাংকে কিছুদিন আগে ইন্টার্ণি হিসাবে ল্যাব সহকারীর কাজ করেছে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এমন একজন বলেন, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ব্লাড ব্যাংকের ল্যাব সহকারী মোঃ আবুল কালাম আজাদ ছাড়া বাকি প্রায় সবাই মিলে সিন্ডিকেট করে রেখেছে। তবে ঝামেলা এড়াতে সব জেনেও না জানার ভান করেন তিনি। মেডিকেল অফিসার ডাঃ জিল্লুর রহমান তরুণকে সঠিক তথ্যও দেন না সব সময়। অপারেশনের পর যে রক্ত কাজে লাগে না সেই রক্ত বিক্রির জন্য অপারেশন থিয়েটার, গাইনি ও সার্জারি ওয়ার্ডে ঘুরে বেড়ায়। এরপর যার রক্ত লাগবে তাকে গোপনে রক্ত এনে দেবেন বলে মোটা অংকের অর্থ দাবি করে। দরকষাকষির মাধ্যমে বিক্রি করে। সব একত্র করে তা আবার নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয়। এভাবে প্রতিদিন অন্তত ৫ থেকে ২০ ব্যাগ পর্যন্ত রক্ত রোগীদের নিকট বিক্রি করে এই চক্র।
তিনি বলেন, সিন্ডিকেটের প্রায় সবাই উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আস্থাভাজন হওয়ায় এদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খোলে না। আমিনুল এবং টুটুল এই চক্রের সক্রিয় সদস্য বলে জানান এই সাবেক প্রশিক্ষণার্থী।
খুলনা মেডিকেল কলেজের ভাইস প্রিন্সিপ্যাল ও বিএমএ সাধারণ সম্পাাদক ডাঃ মোঃ মেহেদী নেওয়াজ বলেন, ব্লাড ব্যাংক নিয়ে যে অভিযোগ আসছে সেই অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় অভিযুক্ত একজনকে চাকুরিচ্যুত করেছেন পরিচালন এবং অন্যজনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া অন্য আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসায় তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 
হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ এটিএম মোর্শেদ বলেন, হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংকে রোগীদের কাছে টাকা নেয়ার অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমানিত হওয়ায় আউট সোর্সিং কর্মচারী আদনানকে বহিস্কার করা হয়েছে। আর বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের কর্মচারী রওশনরাকে তার সংযুক্তি বাতিল করে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। হাসপাতালের কোথাও দুর্নীতিবাজের স্থান নেই। যেখানে যার বিরুদ্ধে অভিযোগ আসুক প্রমানিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ



৫১ বোতল ফেন্সিডিলসহ  একজন গ্রেফতার

৫১ বোতল ফেন্সিডিলসহ  একজন গ্রেফতার

২১ জানুয়ারী, ২০২০ ০০:৫২











ব্রেকিং নিউজ



৫১ বোতল ফেন্সিডিলসহ  একজন গ্রেফতার

৫১ বোতল ফেন্সিডিলসহ  একজন গ্রেফতার

২১ জানুয়ারী, ২০২০ ০০:৫২







খসড়া তালিকায় ভোটার  ১০ কোটি ৯৬ লাখ

খসড়া তালিকায় ভোটার  ১০ কোটি ৯৬ লাখ

২১ জানুয়ারী, ২০২০ ০০:৪০