খুলনা | মঙ্গলবার | ২১ জানুয়ারী ২০২০ | ৮ মাঘ ১৪২৬ |

শিরোনাম :

Shomoyer Khobor

জান্নাত ও জাহান্নামের অবস্থান  নিয়ে প্রাসঙ্গিক কিছু কথা

মাহফুজুর রহমান আশরাফী | প্রকাশিত ০৩ জানুয়ারী, ২০২০ ০০:৫২:০০

জাহান্নাম সম্পর্কে নবী করিম (সাঃ) বলেছেন, “পৃথিবীর আগুন জাহান্নামের আগুনের সত্তর ভাগের একভাগ (বুখারী ও মুসলিম)।
অন্যস্থানে নবী করিম (সঃ) বলেন, “দোজখের সবচেয়ে নিম্নতম শাস্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে এক জোড়া আগুনের জুতা পরিয়ে দেয়া হবে। এর প্রভাবে আগুনে ফুটন্ত ডেকচির মতো তার মগজ টগ্বগ্ করে ফুটতে থাকবে। সে মনে করবে, তার চেয়ে অধিক শাস্তিভোগকারী আর কেউ নেই (বুখারী ও মুসলিম)”।
আবু হোরায়রা (রাঃ) বর্ণনা করেন রসুল (সঃ) এরশাদ করেছেন, “জাহান্নামের আগুন এক হাজার বছর জ্বলে জ্বলে লাল রঙ ধারণ করেছে। আরো এক হাজার বছর জ্বলতে জ্বলতে হয়েছে সাদা। এর পর আরো এক হাজার বছর প্রজ্বলিত হতে হতে হয়েছে ঘন কৃষ্ণ আঁধারের মতো”। 
জান্নাত ও জাহান্নামের অবস্থান ঃ
কুরআনের কোন আয়াতে অথবা হাদীসের কোন রেওয়াতে জাহান্নামের অবস্থান স্থল পরিস্কার ভাবে বর্ণিত হয়নি। তবে পবিত্র কুরআনে সুরা নাজমের ১৫নং আয়াতে জান্নাতের এবং সূরা ‘তুর’ এর ৬ নং আয়াতে জাহান্নামের অবস্থানের ইঙ্গিত পাওয়া যায় “ইনদাহা জান্নাতিল মাওয়া”, অর্থাৎ- যার কাছে অবস্থিত বসবাসের জান্নাত। ‘মাওয়া’ শব্দের অর্থ ঠিকানা, বিশ্রামস্থল, জান্নাত কে ‘মাওয়া’ বলার কারণ এই যে, এটাই মানুষের আসল ঠিকানা। হযরত আদম (আঃ) এখানেই সৃজিত হন। এখান থেকেই তাঁকে পৃথিবীতে নামানো হয় এবং এখানেই জান্নাতীরা বসবাস করবে। এই আয়াত থেকে আরও জানান যায় যে, জান্নাত এখন বিদ্যমান রয়েছে। অধিকাংশ উম্মতের বিশ্বাস এই যে, জান্নাত ও জাহান্নাম কেয়ামতের পর সৃজিত হবে না। এখন ও এগুলো বিদ্যমান রয়েছে। এই আয়াত থেকে একথায় জানা গেল যে, ‘জান্নাত সপ্তম আকাশের উপর আরশের নীচে অবস্থিত। সপ্তম আকাশ যেন জান্নাতের ভূমি এবং আরশ তার ছাদ।’ সূরা তুরের ৬নং আয়াতে, ‘ওয়াল বাহরিল মাছজুর’, অর্থাৎ- এবং উত্তাল সমুদ্রের, এই আয়াত থেকে কোন কোন তাফসীরবিদ এই তথ্য উদ্ধার করেছেন যে, জাহান্নাম সমুদ্রের নিম্নদেশে পৃথিবীর অতল গভীরে অবস্থিত। বর্তমানে তার উপর কোন ভারী ও শক্ত আচ্ছাদন রেখে দেয়া হয়েছে। কিয়ামতের দিন এই আচ্ছাদন বিদীর্ণ হয়ে যাবে এবং জাহান্নামের অগ্নি বিস্তৃত হয়ে সমুদ্রকে অগ্নিতে রূপান্তরিত করে দেবে। 
হযর আলী (রাঃ) কে জনৈক ইহুদী প্রশ্ন করল- জাহান্নাম কোথায়? তিনি বললেন- সমুদ্রই জাহান্নাম। পূর্ববর্তী ঐশী গ্রন্থে অভিজ্ঞ ইহুদী এই উত্তর সমর্থন করল (কুরতুবী)।
এখানে উদ্দাহরন স্বরূপ বলা যায় যে, ম্যাচ লাইটের ভিতর গ্যাস দেখতে পানির ন্যয়। অথচ মানুষ হাতের টিপ দিয়ে যদি আগুন বের করতে পারে, তাহলে মহামহিম মহান আল্লাহ্ তায়ালা সমুদ্রের পানি কেন আগুনে পরিনত করতে পারবেন না।
বর্তমান যুগে পাশ্চাত্যের অনেক বিশেষজ্ঞ মৃত্তিকা খনন করে ভুগর্ভের অপর প্রান্তে যাওয়ার প্রচেষ্টা বছরের পর বছর ধরে অব্যাহত রেখেছে। সর্বাত্মক চেষ্টা করার পর তারা ভূগর্ভের অভ্যন্তরে ছয় মাইল গভীর পর্যন্ত পৌছতে সক্ষম হয়েছে। এরপর শক্ত পাথরের এমন একটা স্তর বাধা হয়ে দাড়িয়েছে- যার কারণে তাদের খনন কার্য এগুতে পারেনি। তারা অন্য জায়গায় খনন আরম্ভ করেছে, কিন্তু এখানেও ছয় মাইলের পর তারা শক্ত পাথরের সম্মুখীন হয়েছে। ছয় মাইলের পর সমগ্র ভূগর্ভের উপর এমন একটি কঠিন শীলার আবরণ রয়েছে, যাতে কোন মেশিন কাজ করতে সক্ষম নয়। বলাবাহুল্য, পৃথিবীর ব্যাস হাজার হাজার মাইল, তার মধ্যে এই বৈজ্ঞানিক উন্নতির যুগে বিজ্ঞান মাত্র ছয় মাইল পর্যন্ত আবিস্কার করতে সক্ষম হয়েছে। 
এরপর প্রস্তরাবরণের অস্তিত্ব স্বীকার করে প্রচেস্টা ত্যাগ করতে হয়েছে। এ থেকেও এ বিষয়ের সমর্থন পাওয়া যায় যে, সমগ্র ভূগর্ভকে কোন প্রস্তরাবরণ দ্বারা ঢেকে রাখা হয়েছে। তাই বলা যায়, জাহান্নাম এই প্রস্তরাবরনের নীচে অবস্থিত, তবে তা মোটেই অসম্ভব বলে বিবেচিত হবে না। মহান আল্লাহ্ তায়ালা আমাদের এই জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি দান করুন। আমিন ছুম্মা আমিন।
(সূত্র ঃ তাফসীরে মাআরেফুল কুরআন: পৃষ্টা নং- ১৩০৫)
লেখক ঃ মুফাসিরে কুরআন ও প্রভাষক। ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, মাতৃভাষা ডিগ্রি কলেজ, শরণখোলা, বাগেরহাট।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ

শরীয়ত ও প্রচলিত সামাজিক কুসংস্কার

শরীয়ত ও প্রচলিত সামাজিক কুসংস্কার

১৭ জানুয়ারী, ২০২০ ০০:৩০


আল-কুরআনে মৌমাছি ও মধু বিজ্ঞান 

আল-কুরআনে মৌমাছি ও মধু বিজ্ঞান 

২০ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:৩৯



ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম  ৯ ডিসেম্বর

ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম  ৯ ডিসেম্বর

২৮ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:১৫



বিশ্ব ইজতেমার তারিখ ঘোষণা

বিশ্ব ইজতেমার তারিখ ঘোষণা

২৯ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:২৮





ব্রেকিং নিউজ



৫১ বোতল ফেন্সিডিলসহ  একজন গ্রেফতার

৫১ বোতল ফেন্সিডিলসহ  একজন গ্রেফতার

২১ জানুয়ারী, ২০২০ ০০:৫২







খসড়া তালিকায় ভোটার  ১০ কোটি ৯৬ লাখ

খসড়া তালিকায় ভোটার  ১০ কোটি ৯৬ লাখ

২১ জানুয়ারী, ২০২০ ০০:৪০