খুলনা | বুধবার | ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২০ | ১৩ ফাল্গুন ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

দেশে বিদেশে সম্মাননা পেলেও নিজ জেলায় অবহেলিত

সোনার ছেলে রোমান সানার চোখ এবার অলিম্পিকে

আব্দুল্লাহ এম রুবেল | প্রকাশিত ০২ জানুয়ারী, ২০২০ ০০:৪৫:০০

সর্বশেষ সাউথ এশিয়ান গেমসে সর্বোচ্চ ১৯টি স্বর্ণ জয়ের রেকর্ড গড়েছে বাংলাদেশ। যে রেকর্ডে শুধুমাত্র আরচারি থেকেই এসেছে ১০টি স্বর্ণ। ইভেন্টের সবগুলোতেই স্বর্ণ আসে লাল সবুজদের। আর আরচারিতে স্বর্ণ জয়ের এ রেকর্ডের নায়ক রোমান সানা। খুলনার নোনা মাটি কয়রার ছেলে রোমান সানার লক্ষ্যটা এবার আরও বড়। দেশের প্রথম ক্রীড়াবিদ হিসেবে অলিম্পিকে সরাসরি খেলার সুযোগ পেয়েছেন রোমান সানা। সেখানেই দেশের পতাকা আরও উজ্জল করাই এখন তার লক্ষ্য। জুলাইয়ে টোকিও অলিম্পিকের অবশ্য আরও ৬টি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট খেলার সুযোগ আছে রোমান সানাদের সামনে। সেখান থেকেই নিজেকে আরও প্রস্তুত করে নিতে চান তিনি। বর্তমানে ছুটিতে খুলনায় আছেন এই আরচার। খুলনায় নিজ বাসায় গতকাল সময়ের খবরের সাথে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি। দেশের ক্রীড়াঙ্গনের এখন অন্যতম বড় তারকা এই রোমান সানা। এসএ গেমসে আগেই সরাসরি অলিম্পিকে অংশ নেয়ার সুযোগ হয় তার। সুযোগ হয় বিশ্ব আরচারিতে অংশ গ্রহণেরও। এরপর থেকেই দেশে বিদেশে বিভিন্ন জায়গায় সংবর্ধনায় সম্মানিত হয়েছেন তিনি। এক সপ্তাহের বেশী সময় খুলনায় অবস্থান করলেও খুলনা জেলা ক্রীড়া সংস্থা বা কোন ক্রীড়া সংগঠন বা প্রশাসনের কোন অবস্থান থেকে কোন সংবর্ধনা, সম্মাননা পাননি। খোঁজও নেননি নেননি কেউ। এসব নিয়ে আক্ষেপ আছে তার। নিজ শহরের সম্মাননা পেলে ভালো লাগতো বলে জানান তিনি। 
যদিও রোমান সানার শুরুটা হয়েছিলো খুলনা জেলা ক্রীড়া সংস্থার মাধ্যমেই। নবম শ্রেণীতে পড়া অবস্থায় খুলনায় একটি আরচারি প্রশিক্ষণের মাধ্যমেই তার পথচলা শুরু হয়। বিকেএসপিতে প্রশিক্ষণ নিয়ে ভালো অবস্থানে চলে আসেন তিনি। এরপর সে সময়ে তাদের আরচারির কোচ সাজ্জাদ হোসেনের কাছেই প্রাথমিক প্রশিক্ষণ হয় তার। সেখানে ভালো করার পর ইয়ুথ আরচারি একটি প্রশিক্ষণ ক্যাম্প হয়। সেখানেও ভালো করেন রোমান। এরপর তীর ধনুক হাতে জাতীয় দলে খেলছেন ২০১১ সাল থেকে। ২০১১ সালে আমি প্রথম আন্তর্জাতিক পদক পাই ইয়ুথ ইন্টারন্যাশনার আরচারি থেকে। তখন থেকেই আরচারি আমার রক্তে মিশে আছে। সেখান থেকেই পরিশ্রম করেই এ পর্যায়ে আসতে পেরেছেন বলে জানান তিনি। বলেন, পরিশ্রমের কোন বিকল্প নেই নেই। দীর্ঘদিন ধরে পরিশ্রম করেই এ সফলতা পেয়েছি আমি। 
এক বছর আগেও রোমান সানা বড় তারকা ছিলেন না। এখন তাকে সবাই চেনে। যদিও তারকাখ্যাতি গায়ে মাখেননি তিনি। ভালো লাগে সবার সাথে মিশতে। একা একা চলা ফেরা করেন এখনও। বলেন, আমি এখনও বাইরে একাই চলাফেরা করতে পছন্দ করি। যখন বাইরে বের হয়, অনেকেই কিছু সময় আমার দিকে তাকিয়ে থাকে। আমার ধারণা প্রথমে হয়তো ভাবে ইনিই কি রোমান সানা। এভাবে বাইরে চলাফেরা করবেন। পরে অনেকে আমাকে এসে জিজ্ঞেস করে আপনি কি রোমান সানা? আমি বলি হ্যাঁ। আমার সাথে ছবি তোলে। আমি বিষয়টি উপভোগ করি। আমি তাদেরকে সব সময় বলি, আমার জন্য দোয়া করবেন, আমি যেন দেশের হয়ে আরও বড় সম্মান বয়ে আনতে পারি। 
বিশ্ব ক্রীড়ার সব থেকে বড় আসর অলিম্পিক। অলিম্পিকে প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে সরাসরি খেলার সুযোগ পেয়েছেন রোমান সানা। রোমান সানার চোখ এখন সেই আসরেই। সরাসরি পদকের উল্লেখ না করলেও ভালো করার প্রত্যাশা ছিলো তার চোখে মুখে। অলিম্পিকে নিজের লক্ষ্য নিয়ে বলেন, আমার লক্ষ্য থাকবে আমার সেরা পারফরমেন্স ওখানে করা। অলিম্পিক হচ্ছে বিশ্বের সব থেকে বড় ক্রীড়া আসর, সেখান থেকে পদক পাওয়াটা  অবশ্যই দুঃসাধ্য বিষয়। তবে আমার স্বপ্ন আমি আমার দেশকে একটা পদক উপহার দিবো। সেটা হোক আমার হাত ধরে বা আমার টিমমেট কারও হাত ধরে। তো আমার সেই স্বপ্নটাকে আমি আঁকরে ধরে আছি, যেন এই স্বপ্নটাকে আমি বাস্তবায়ন করতে পারি। এ লক্ষে আমি আগের থেকে অনেক বেশী পরিশ্রম করছি। কারণ সেই জায়গাটায় যেতে গেলে নিজেকে আগে সেভাবে প্রস্তুত করতে হবে। অলিম্পিকের আগে আমার অন্তত ৬টি আন্তর্জাতিক ইভেন্ট আছে। এটা আমার জন্য বড় একটা সুযোগ। আশা করি এসব টুর্নামেন্ট খেলে নিজেকে আরও প্রস্তুত করতে পারবো। আরেকটি সুযোগ যদি হয়, অর্থাৎ আমরা যদি টিম হিসেবে কোয়ালিফাই করতে পারি। আমারা যদি সেরা পারফর্ম করি, আর আল্লাহ পাক যদি সহায় হন, তাহলে আমরা পদক পেতেই পারি। 
আরচারিতে ভবিষ্যৎ নিয়েও আশাবাদি রোমান সানা। আরচারির ভবিষ্যত নিয়ে রোমান বলেন, আমরা যখন আরচারি খেলা শুরু করি, তখন আরচার ছিলো হাতে গোন কয়েকজন আর এখন আরচার দুইশতাধিক। তবে এই ইভেন্টের আরও ভালো করার জন্য স্পন্সরদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। বলেন ক্রিকেটের একটি ম্যাচ দেখতে গেলেও দেখা যায় কত কত স্পন্সর। অথচ এসব ইভেন্ট দেশের পতাকা অনেক উপরে তুললেও সেভাবে স্পন্সর পাওয়া যাচ্ছে না। যদি স্পন্সর পাওয়া যেতো, যদি আরচাররা অর্থনৈতিকভাবে আরেকটু স্বাবলম্বী হতে পারেন, তবে এই ইভেন্ট নিঃসন্দেহে লাল সবুজের পতাকা আরও উপরে নিতে পারবে। 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ

বড় জয়ে স্বস্তি টাইগার শিবিরে

বড় জয়ে স্বস্তি টাইগার শিবিরে

২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২০ ০০:১৮

পাকিস্তান সফরে  যাচ্ছেন মুশফিক!

পাকিস্তান সফরে  যাচ্ছেন মুশফিক!

২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২০ ০০:১৭


বিসিএলে হ্যাটট্রিক শিরোপা সাউথ জোনের

বিসিএলে হ্যাটট্রিক শিরোপা সাউথ জোনের

২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২০ ০০:০০








লড়াই করেও পারলো না বাংলাদেশের মেয়েরা

লড়াই করেও পারলো না বাংলাদেশের মেয়েরা

২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২০ ০১:০২


ব্রেকিং নিউজ