খুলনা | শনিবার | ১৮ জানুয়ারী ২০২০ | ৫ মাঘ ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

জান্নাত ও জাহান্নামের অবস্থানঃ প্রাসঙ্গিক কিছু কথা

মুহাম্মদ মাহফুজুর রহমান আশরাফী | প্রকাশিত ২৭ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:৫৭:০০

‘জান্নাত’ শব্দটি আরবী শব্দ, জানাহ্ শব্দ থেকে উৎপত্তি, যার অর্থ- বাগান, উদ্যান, সুখময় স্থান। যে বাগান বৃক্ষ, লতা দ্বারা আচ্ছাদিত, ফারসী ভাষায় যাকে বলে বেহেশ্ত। আর পরিভাষায় পার্থিব ক্ষনস্থায়ী জীবনের অবসানের পর মু’মিনের অনন্ত সুখময় চিরস্থায়ী জীবনের জন্য আল্লাহ রাব্বুল আলামীন যে সুসজ্জিত আবাস প্রস্তুত করে রেখেছেন, তাকে জান্নাত বা বেহেশ্ত বলে।
জান্নাত সম্পর্কে মহান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে বলেন, “তোমরা তোমাদের প্রভু পরওয়ারদিগারের ক্ষমা লাভের প্রতি দ্রুত ধাবিত হও এবং সে জান্নাতের প্রতি যার আয়তন আসমান সমূহ ও পৃথিবীর সমান (আল-ইমরান- আয়াত নং- ১৩৩)”। জান্নাতীরা যা চাইবে মহান আল্লাহ তায়ালা তাদেরকে তাই প্রদান করবেন। পবিত্র কুরআনে উল্লেখ আছে। “জান্নাতে তোমাদের জন্য তোমাদের মন যা চাবে তাই দেয়া হবে। এবং তোমরা সেখানে যা চাবে তাই পাবে (হামীম সিজদা- আয়াত নং- ৩১)”।
নবী করিম (সঃ) বলেন, “আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন বলেছেন, আমি আমার নেককার বান্দাদের জন্য জান্নাতে এমন সব নেয়ামত তৈরী করে রেখেছি যা কোন চোখ দেখেনি, কোন কান শুনেনি এবং কোন অন্তঃকরণ তা সম্পর্কে কোন ধারণা রাখেনা (বুখারী ও মুসলিম)”।
যারা জান্নাতে প্রবেশ করার সৌভাগ্য অর্জন করবে, তাঁদের অন্তরে কোন দুঃখ থাকবে না, ক্রোধ থাকবে না, তাঁরা পান করবে সুস্বাদু শরাব ও দুধ, যা প্রবাহিত হবে জান্নাতের তলদেশ “সালসাবীল” নামক ঝনা থেকে, বেহেশ্তে থাকবে সৎ চরিত্রা সুন্দরী রমনীগণ, যা “হুর” হিসাবে পরিচিত হবে। তাঁদের চেহারা চতুর্দশীর চাঁদের মতো। হাতে থাকবে স্বণের চিরুনী। এরা আসমান থেকে একবার উকি মারলে জগতের মানুষ দিশে হারা হয়ে যেত। জান্নাতীদের পেটের খাবার হজম হবে ঢেকুরের মাধ্যমে যার কারণে পায়খানা, প্রচ্ছাবের প্রয়োজন হবে না। মুখের থুতু থেকে সুঘ্রাণ নির্গত হবে।
দুঃখ জনক হলেও সত্য হলো, মুসলমান হয়েও কিছু লোক এই জান্নাত থেকে বতারিত হবে। যার কারণ হিসেবে হাদিসে উল্লেখ আছে। যারা হারাম খাদ্য ভক্ষণকারী, আত্মীয় সম্পর্ক ছিন্নকারী, প্রতিবেশীকে কষ্ট দানকারী, পিতা-মাতার অবাধ্য সন্তান, চোগলখোর, অহংকারী, জিনাকারী, ওয়ারিশদের ক্ষতিকারী। এই সমস্ত লোক জান্নাতে যাবে না। 
উল্লেখ থাকে যে, কাফির-বেদীন চিরস্থায়ী জাহান্নামী। কিন্তু মুসলমান এই গুনাহের কারণে জাহান্নামের শাস্তি ভোগ করার পর তারা আবার জান্নাতে যাবে।
জান্নাত ও জাহান্নামের উদ্দাহরণ একই টাকার এপিঠ ওপিঠ। মহান আল্লাহ তায়ালার পবিত্র বর্ণনারীতি এই যে, ভয়ের পরে আশার সার আবার আশার পরে ভীতি প্রদর্শন। যাতে নৈরায্য কিংবা উদাসীনতা কোনোটাই অতি প্রশ্রয় না পায়। 
নিম্নে জাহান্নামের পরিচয় তুলে ধরা হল ঃ
জাহান্নাম শব্দটি আরবী। যার শাব্দিক অর্থ শাস্তির স্থান। আরবীতে জাহান্নামকে “নার” বলে। যার অর্থ আগুন। ফারসী ভাষায় যাকে বলে দোযক। জাহান্নামের পরিচয় হলো শেষ বিচারের দিন যারা অপরাধী বলে সাব্যস্ত হবে। তাদেরকে শাস্তি দেয়ার জন্য যে স্থান নির্দিষ্ট করে রেখেছেন তাকেই জাহান্নাম বলে। জাহান্নাম সম্পর্কে আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন পবিত্র কুরআনে উল্লেখ করেন। “আর যারা কুফরী করে তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের আগুন। তাদের মৃত্যুর আদেশ ও দেয়া হবে না যে, তারা মরে যাবে এবং তাদের জন্য জাহান্নামের শাস্তি ও লাঘব করা হবে না। আমি প্রত্যেক অকৃতজ্ঞকে এভাবেই শাস্তি দিয়ে থাকি (ফাতির ঃ আয়াত নং- ৩৬)”।
জাহান্নামাীদের ফুটান্ত পানি ও পুঁজ খেতে দেয়া হবে। তখন দোযখীদের নাড়ি ভূড়ি সমূহ খন্ড বিখন্ড করে দিবে। এবং জাক্কুম বৃক্ষ খেতে দেয়া হবে। পবিত্র কুরআনে উল্লেখ আছে “নিশ্চয়ই উক্ত জাক্কুম এমন একটি বক্ষ যার উৎপত্তি দোজখের তল দেশে আর তার উপরিভাগ ঠিক যেন সর্পের ফনা (সূরা আছ্ ছফফাত ঃ আয়াত ঃ ৬৪-৬৫)”। জাহান্নামীদের চর্ম সমূহ খসে পড়লে সেখানে নতুন চর্ম তৈরী করে দেয়া হবে। (বাকি অংশ পরবর্তী দিনে) 
লেখক ঃ মুফাসিরে কুরআন ও প্রভাষক। ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, মাতৃভাষা ডিগ্রি কলেজ, শরণখোলা, বাগেরহাট।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ

শরীয়ত ও প্রচলিত সামাজিক কুসংস্কার

শরীয়ত ও প্রচলিত সামাজিক কুসংস্কার

১৭ জানুয়ারী, ২০২০ ০০:৩০


আল-কুরআনে মৌমাছি ও মধু বিজ্ঞান 

আল-কুরআনে মৌমাছি ও মধু বিজ্ঞান 

২০ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:৩৯



ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম  ৯ ডিসেম্বর

ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম  ৯ ডিসেম্বর

২৮ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:১৫



বিশ্ব ইজতেমার তারিখ ঘোষণা

বিশ্ব ইজতেমার তারিখ ঘোষণা

২৯ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:২৮





ব্রেকিং নিউজ